ফুলবাড়ীতে এক হিন্দু মহিলাকে মধ্যযুগীয় কায়দায় লাঠিপেঠা

পরীক্ষামুলক প্রচারঃ কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে কাশিপুর ইউনিয়নের ধর্মপুরে মধ্যযুগীয় কায়দায় এক হিন্দু নারীকে পিঠিয়েছে মানুষ রুপী এক নরপিচাশ। ঘটনাটি ঘটে উপজেলার কাশিপুরের ধর্মপুর গ্রামে ১৩ মে বুধবার। লোকলজ্জায় ওই হিন্দু নারীর পরিবার বাইরে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

গত ২০ মে বুধবার সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, ধর্মপুরের ওই গ্রামে ৩৩ টি হিন্দু পরিবার পৈত্রিক সুত্রে বসবাস করে আসছেন। কিন্তু ওই গ্রামে প্রায় ৪৫ বছর পূর্বে টাঙ্গাইল জেলা থেকে ছেড়ে আসা আকবর আলীর ছেলে মো. লাল চাদঁ ও আব্দুল মান্নান (চাঁদমিয়া) নামের এক ভাটিয়া পরিবার হিন্দুদের জমি ক্রয় করে বসতবাড়ী তৈরী করার পর থেকে নানান ভাবে হয়রানি করতে থাকে। এমনকি তাদের অত্যাচারে কেউ মুখ খুলতেও সাহস পারছেন না।

সংখ্যালঘু পরিবার হওয়ায় ওই এলাকার হিন্দুরা ভয়েভীত হয়ে কেউয়ে মুখ খুলতে সাহস পায় না। তাদের এই অন্যায় অত্যাচার এমনি এক পর্যায়ে দাড়িয়েছে ওই এলাকার রনজিৎ চন্দ্র সেনের স্ত্রী শ্রীমতি বিরতি রানী ও তার ৭ বছরের ছেলে সজলকে মান্নানের পাটক্ষেতের পাট গরুর বাছুর দিয়ে খাওয়াকে কেন্দ্র করে প্রকাশ্য দিবালোকে লাঠিদিয়ে মান্নান, লালচাঁদ ও লাল চাঁেদর ছেলে হাফিজুল হক বেধরক মারপিঠ করে। এ পারপিঠের ঘটনাটি ছোট্ট একটি ছেলে তার নিজস্ব মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারন করে বাইরে প্রচার করলে এ প্রতিনিধিসহ অনেকেই বিষয়টি জানতে পারেন। মা ও ছেলেকে মুমুর্ষ অবস্থায় এলাকার লোকজন উদ্ধার করে প্রথমে ফুলবাড়ী হাসপাতালে পরে অবস্থার অবনতি হলে রংপুরে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে বিরতি রানী জীবন মৃত্যুর সদ্ধিক্ষনে অবস্থান করছেন রংপুরে।

লালচাঁদ জানান, আমরা ঘটনা ঘটিয়েছি। আইনে যা হবে তাই মেনে নেব। অপর দিকে মান্নান সাংবাদিক দেখে বাড়ী থেকে অন্য স্থানে চলে যান।

রনজিৎ কান্নায় জড়িত কন্ঠে জানান, আমরা হিন্দু হওয়ায় আজকের এ অবস্থা। তিনি আরো জানান, থানায় মামলা করেছি। কিন্তু একদিন পার না হতেই তারা জামিনে এসে আবারো প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে।