অসম পদ বন্টন: সেশনজটে অতিষ্ঠ বেরোবি শিক্ষার্থী

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে একাডেমিক পদসমূহের মধ্যে কোন জ্যৈষ্ঠতা না মেনে দায়িত্ব দেওয়া ও একই ব্যক্তি একাধিক পদস্থ হওয়াসহ বেশ কিছু কারণে শিক্ষকদের মধ্যে নীরব কোন্দল চলছে। এদিকে এই কোন্দলেই শিক্ষার্থীদের ক্লাস-পরীক্ষায় প্রভাব ফেলছে। ফলে আরো সেশনজটের মুখোমুখি হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। এর প্রভাব ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের জন্য আরো ভয়াবহ হতে পারে বলে জ্যৈষ্ঠ শিক্ষকরা মনে করছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬ টি অনুষদের মধ্যে ৪ টির ডিন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিজেই। আবার ২১ টি বিভাগের মধ্যে ৬ টি বিভাগের বিভাগীয় প্রধানও উপাচার্য। আর এসব বিভাগের বিভাগীয় প্রতিনিধি হিসাবে যাদেরকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করেছেন সবে মাত্র। অথচ জ্যৈষ্ঠ শিক্ষকদের এসব দায়িত্ব থেকে দূরে রাখা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সহযোগী অধ্যাপক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, আমার বিভাগে জ্যৈষ্ঠ শিক্ষক আছে অথচ সবে মাত্র যোগদান করেছে এমন একজনকে বিভাগের বিভাগীয় প্রধানের প্রতিনিধি বানিয়েছেন উপাচার্য।

তিনি আরো বলেন, আমাদের বিভাগের বিভাগীয় প্রধান উপাচার্য নিজেই। অথচ সহযোগী ও সহকারী অধ্যাপকও আছে এই বিভাগে। তিনি একাই সব দায়িত্ব কুক্ষিগত করতে চান।

ঐসব বিভাগে কর্মরত কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীও শিক্ষকদের মধ্যে অন্ত:কোন্দলের কথাটি স্বীকার করে বলেন, এই অবস্থার প্রভাব পরছে শিক্ষার্থীদের ওপর। এই অন্ত:কোন্দলেই নিয়মিত হচ্ছে না এসব বিভাগের ক্লাস-পরীক্ষা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩য় ব্যাচের বিজ্ঞান অনুষদের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, আমাদের বিভাগের বিভাগীয় প্রধান উপাচার্য নিজেই। কিন্তু তিনি আমাদের সেশনজট নিরসনের কোন চিন্তাই করছে না।

তারা আরো জানান, বিভাগীয় প্রধানের প্রতিনিধির দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে একজন নবাগত শিক্ষককে। ফলে জ্যৈষ্ঠ শিক্ষকরা ও তাদের মধ্যে অন্ত:কোন্দল চলছে। যার কারণে আমরা ক্লাস-পরীক্ষা নিয়মিত চালিয়ে যেতে পারছি না। একটা সেমিস্টার শেষ করতে এবারও প্রায় একটি বছর চলে যাচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে এই অসম পদ বন্টনের ফলে সৃষ্ট এসব পরিস্থিতি সম্পর্কে উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম নূর-উন-নবী’র সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

শিক্ষার্থীদের কোন কোন্দলে নয় শিক্ষকদের বিভিন্ন  সময়ে বিভিন্ন দাবি নিয়ে আন্দোলনের ফলে দীর্ঘ সেশনজটে পরেছে শিক্ষার্থীরা। আর এসব আন্দোলন শেষে যখন সেশনজট নিরসন হবে বলে আশা করছিল শিক্ষার্থীরা তখনই এ অসম পদ বন্টনে তা আশায় গুড়ে বালি বলে মনে করছেন শিক্ষার্থীরা।

জানা যায় , ইলেকট্রনিকস টেলিকমুনিকেশন এ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ দেড় বছর, কম্পিউটার সায়েন্স এ্যানড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ দেড় বছর , বাংলা, গণিত, রসায়ন, পদার্থ, রাষ্ট্র বিজ্ঞান, লোকপ্রশাসন, ইংরেজিসহ বেশ কিছু বিভাগের শিক্ষার্থীরা এক বছরের বেশি সেশনজটে ভুগছেন। তবে বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের বিভাগগুলোতে তেমন কোন সেশনজট নাই।

উপাচার্য এই সেশনজট নিরসনের কথা একাধিকবার বললেও তার কোন কার্যকরী পদক্ষেপ দৃষ্টি গোচর হচ্ছে না বলেও অনেকে অভিযোগ করছেন।

দ্রুত চলমান এসব সমস্যা নিরসন করে সেশনজট দুর করা ও শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে উপাচার্যকে অনুরোধ করেছেন  বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।