‘আমি যুগে যুগে আসি, আসিয়াছি পুনঃ মহাবিপ্লব হেতু এই স্রষ্টার শনি মহাকাল ধূমকেতু!’

পরীক্ষামুলক প্রচারঃ অগ্রণী বাঙালি কবি, বিংশ শতাব্দীর অন্যতম জনপ্রিয় বাঙালি কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, সংগীতস্রষ্টা, দার্শনিক, যিনি বাংলা কাব্যে অগ্রগামী ভূমিকার সঙ্গে প্রগতিশীল প্রণোদনার জন্য সর্বাধিক পরিচিত। তিনি বাংলা ভাষার অন্যতম সাহিত্যিক, দেশপ্রেমী এবং বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম।

ভালোবাসা, মুক্তি, বিদ্রোহ, লড়াই, বৈষম্য, নিপীড়ন মানবজীবনের সব প্রতিপাদ্যই উঠে এসেছে নজরুলের রচনায়।

বলা যায়, বাঙালির মুক্তি আর স্বাধিকারের স্বপ্নদ্রষ্টা ছিলেন তিনি। বাঙালির ইতিহাসে সাংস্কৃতিক ঐক্যের ভিত রচনাকারী কবি, জাতীয় কবি কাজী নজরুলের ১১৬তম জন্মবার্ষিকী আজ। ১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দের ২৪মে (১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ই জ্যৈষ্ঠ) ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন কাজী নজরুল ইসলাম।

পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশ – দুই বাংলাতেই তাঁর কবিতা ও গান সমানভাবে সমাদৃত। তাঁর কবিতায় বিদ্রোহী দৃষ্টিভঙ্গির কারণে তাঁকে বিদ্রোহী কবি নামে আখ্যায়িত করা হয়েছে। তাঁর কবিতার মূল বিষয়বস্তু ছিল মানুষের ওপর মানুষের অত্যাচার এবং সামাজিক অনাচার ও শোষণের বিরুদ্ধে সোচ্চার প্রতিবাদ। বিংশ শতাব্দীর বাংলা মননে কাজী নজরুল ইসলামের মর্যাদা ও গুরুত্ব অপরিসীম। একাধারে কবি, সাহিত্যিক, সংগীতজ্ঞ, সাংবাদিক, সম্পাদক, রাজনীতিবিদ এবং সৈনিক হিসেবে অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে নজরুল সর্বদাই ছিলেন সোচ্চার। তাঁর কবিতা ও গানে এই মনোভাবই প্রতিফলিত হয়েছে। অগ্নিবীণা হাতে তাঁর প্রবেশ, ধূমকেতুর মতো তাঁর প্রকাশ। যেমন লেখাতে বিদ্রোহী, তেমনই জীবনে চলার পথে, কাজেই তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’। তাঁর জন্ম ও মৃত্যু বার্ষিকী বিশেষ মর্যাদার সঙ্গে উভয় বাংলাতে প্রতি বছর উদযাপিত হয়ে থাকে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নজরুল গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক সৌমিত্র শেখর বলেন, ‘তিনি ঐ সময়ের সময়টিকে, ঐ সময়ের উত্তালটিকে সমকালকে ধারণ করেছিলেন তার কবিতায়। যে কারণে অনেকেই মনে করলেন যেহেতু এটি রবীন্দ্রনাথের প্রভাবের বাহিরে অতএব এটি ঠিক কবিতা হয়ে উঠছে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘একদিন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নজরুলের উদ্দেশ্যে বললেন, যারা বলছে নজরুলের লেখা কোনো লেখা নয় এটি তাদের আবদার বটে। সমকাল যখন এটি চায় তখন কোনো কবির কণ্ঠে বা লেখনীতে সেটি উঠে আসবে এটিই স্বাভাবিক।’

নজরুলের এই কবিতার সূত্র ধরে অধ্যাপক সৌমিত্র শেখর আরো বলেন, ‘এই যে কথা, এই কথার মধ্যেই কিন্তু নজরুলের ওই বক্তব্যটি প্রকাশিত হয় যে, সমকালে কাজী নজরুল ইসলামকে বিভিন্নজন নানাভাবে শুধু আঘাতই করেছেন। যারা তার সমালোচনা করেছেন এই সমালোচকদের মনতুষ্টি করে তারা লেখা লেখেননি। এখানেই নজরুল, নজরুল হয়েছেন।