সোনাতলায় বিলে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে ৩ ব্যক্তি গ্রেফতার

সোনাতলা (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ সোনাতলার মধুপুর ইউনিয়নের শালিখা মৌজার টিংটিং বিলের মালিকানাধীন জলায় জমির মালিকগণকে মাছ ধরতে বাঁধা দেয়ায় বিুব্ধ হয়ে উঠেছে শালিখা এলাকাবাসী। বাঁধা প্রদানকারী মাছ চাষী ছাকোয়াত হোসেন মোল্লার দায়ের করা মামলায় গ্রেফতারকৃত ৩ ব্যক্তির মুক্তির দাবিতে ও স্বাধীন ভাবে নিজ জায়গায় মাছ চাষ করার দাবিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে বিােভ প্রদর্শন করেছে বিুব্ধ এলাকাবাসী।
সরেজমিনে গিয়ে প্রত্যদর্শী সূত্রে জানা যায়, শালিখা মৌজায় টিংটিং বিলে মালিকানাধীন জলায় দীর্ঘদিন ধরে মাছ চাষ করে আসছে শালিখা গ্রামের জনগণ। গত ২০ জুন প্রকৃত জমির মালিক শালিখা এলাকাবাসী সম্মিলিতভাবে ওই বিলে মৎস্য পোনা অবমুক্ত করে। কিন্তু এলাকার পার্শ্ববর্তী গারামারা গ্রামের মাছ চাষী ছাকোয়াত হোসেন মোল্লা অযাচিত ভাবে বিলে মাছের পোনা ছাড়তে ও চাষাবাদ করতে বাঁধা দেয়। উপরন্তু সে শালিখা গ্রামের ১৮ জন ব্যক্তির নামে মামলা দায়ের করে। সে মামলার প্রেেিত বৃহস্পতিবার ভোরে শালিখা গ্রামের নীরিহ ৩ মাছ চাষীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এ ব্যাপারে শালিখা গ্রামের ছামছুল আলম, মামুনুর রশিদ, রেজাউল প্রধান, ফেরদৌস জানান, যুগ যুগ ধরে বংশ পরম্পরায় নিজ জায়গায় তারা মাছ চাষ করে আসছে। তারা জানান, বিলের ৭৫ পরিবারের মালিকানাধীন প্রায় আড়াইশ বিঘা জমির মধ্যে মাত্র ৪পরিবারের কাছ থেকে ৫বিঘা জমির বছর ভিত্তিক লিজ নিয়ে মাছ ছাড়ে ছাকোয়াত। হঠাৎ করে এ বছর ছাকোয়াত মোল্লা তার এখতিয়ার বহির্ভূত বিলের বাকী অংশের মাছ চাষে বাঁধা দেয় ও মাছ চাষী গ্রামবাসীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। তারা এ মিথ্যা মামলার ও গ্রেফতারের প্রতিবাদ জানান এবং প্রকৃত দোষী অবৈধভাবে মাছ চাষকারী ছাকোয়াত হোসেন মোল্লার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। এ ব্যাপারে অভিযুক্ত ছাকোয়াত হোসেন মোল্লার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, জমির প্রকৃত মালিকদের সঙ্গে মৌখিক ভাবে কথা বলে আমিও ওই বিলে মাছ ছেড়েছি। বিলের জমির প্রত্যেক মালিককে যথা সময়ে টাকা প্রদান করা হবে। এ ব্যাপারে সোনাতলা থানার এসআই শহিদ জানান, গারামারা গ্রামের মাছ চাষী ছাকোয়াত মোল্লার দায়ের করা মামলায় শালিখা গ্রামের ৩জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মধুপুর ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম বাদল জানান, ছাকোয়াত হোসেন মোল্লা একজন মিথ্যাবাদী ও মামলাবাজ। সে নানা ভাবে এলাকায় অশান্তির সৃষ্টি করছে। কোন তদন্ত ছাড়াই ৩জনকে গ্রেফতার করা সঠিক হয়নি।