অর্থমন্ত্রীর সমালোচনায় জাতীয় পর্টির মহাসচিব

নিজস্ব সংবাদদাতা ঃ জাতীয় সংসদে বাজেট আলোচনা চলছে অথচ সেখানে বাজেট প্রণয়নে সংশ্লিষ্ট অর্থমন্ত্রী, অর্থপ্রতিমন্ত্রী, এনবিআর চেয়ারম্যান কারও উপস্থিতি না থাকায় তাদের ব্যাপক সমালোচনা করলেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব জিয়াউদ্দীন আহমেদ বাবলু। তিনি বলেন, যাদের উদ্দেশে বলছি তারাই নেই। তা হলে আমরা কি শুধু সংসদে বক্তৃতার জন্যই বলছি?গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় জাতীয় পার্টির মহাসচিব এ কথা বলেন। বাজেট নিয়ে সমালোচনা করে বাবলু বলেন, ‘অর্থমন্ত্রীর বাজেট ঘাটতি পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ২০০৯-১০ এ ৩ দশমিক ৫ শতাংশ, ২০১০-১১ তে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ, ২০১১-১২ সালে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ, ২০১২-১৩ সালে ৩ দশমিক ৯ এবং ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ছিল ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। এরই ধারাবাহিকতায় আগামি অর্থবছরের বাজেটে ঘাটতি ধরা হয়েছে জিডিপির ৫ শতাংশ; যা টাকার অঙ্কে ৮৬ হাজার কোটি টাকার বেশি। বাজেট ঘাটতি যদি বাড়তেই থাকে তা হলে দেশ কি সামনের দিকে যাচ্ছে, দেশ কি শক্তিশালী হচ্ছে? বরং এত বড় ঘাটতি বাজেট নিয়ে বাজেট বাস্তবায়নেই শঙ্কা তৈরি হয়েছে।সুশাসনের কারণেই আজ মানি মার্কেটে বিশৃঙ্খল অবস্থা বিরাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সোনালী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক থেকে যে ১০ হাজার কোটি টাকা লুটপাট করা হলো এগুলো কাদের টাকা? যাঁরা লুটপাট করে গেল তাদের ধরারই কোনো উদ্যোগ নেই। এগুলো তো সরকারের টাকা না, এগুলো জনগণের টাকা। আর এর দায়ভার জনগণ নেবে না, এটা সরকারকেই নিতে হবে।’ তবে এসব বিষয় নিয়ে বাজেটে কোনো বক্তৃতা নেই বলে জানান তিনি।
এই যে লোকগুলো টাকা লুট করে নিয়ে যাচ্ছে, তাদের লুটের টাকার জন্য ব্যাংকগুলোকে নিয়মিতভাবে ভর্তুকি দিয়ে যাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী। এর সমালোচনা করে তিনি বলেন, এর দায়িত্ব কে দিয়েছে? ট্যাক্সের টাকা দিয়ে লুটের টাকার রিপ্লেসের অনুমতি কে দিয়েছে?
সুইস ব্যাংকে নিয়মিত বাংলাদেশিদের টাকা জমার পরিমাণ বাড়ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘২০১২ সালের ২ হাজার কোটি, ১৩ সালের ৩ হাজার ১৫০ কোটি থেকে বেড়ে ২০১৪ সালে ব্যাংকটিতে টাকা জমেছে ৪ হাজার ২৮৩ কোটি ডলার। আগের বছরের চেয়ে যা কি না ৩৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এরা কারা? আমরা তাদের নাম জানতে চাই।’ এই টাকা দেশে ফেরত আনারও দাবি জানান তিনি। পুঁজিবাজার নিয়ে তিনি বলেন, ‘২০১০-১১ সালে সূচক ছিল ৮ হাজার ৫শ পয়েন্টে যা বর্তমানে রয়েছে ৪ হাজার ৪শ পয়েন্টে। ওই সময় লেনদেন ছিল ২ হাজার ৫শ কোটি টাকা, যা কি না এখন এসে ঠেকেছে ৩৭২ কোটি টাকায়। অর্থাৎ সবচেয়ে দুর্বলতম অবস্থায় রয়েছে এ পুঁজিবাজার। এখান থেকে যাঁরা টাকা হারিয়েছে, যাঁরা আতœহত্যা করেছে, যাঁরা রাস্তায় বসে গেছে তাদের জন্য বাজেটে কিছু বলা হয়নি। যাঁরা এখান থেকে টাকা লুট করেছে, এমনকি তদন্তে তাদের নামও এসেছে; তাদের শাস্তির কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।’ সে কারণেই পুঁজিবাজারে দেশি-বিদেশি কোনো ইনভেস্টমেন্ট নেই বলে জানান তিনি।
তাই আপনি যতোই পলিসি রিফর্ম করেন, যদি সুশাসন না থাকে তবে আপনি কোনোভবেই মার্কেটের অবস্থা ভালো করতে পারবেন না’ অর্থমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীকে বলেন বাবলু। এরপরও অর্থমন্ত্রী কীভাবে ৭ শতাংশ গ্রোথের স্বপ্ন অর্থমন্ত্রী দেখেন তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। সেই সঙ্গে শিক্ষাখাতের বরাদ্দ আরো না বাড়ালে ডিজিটাল বাংলাদেশে বিনির্মাণের স্বপ্ন পিছিয়ে পড়বে বলে জানান এ সংসদ সদস্য।
সবশেষে ঢাকা শহরের যানজটের সমালোচনা করে বাবলু বলেন, ‘ঢাকায় যদি দুই মাইল আসতে ২ ঘণ্টা সময় লাগে তা হলে ২০২১ সালের মধ্যম আয়ের দেশের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে আমাদের কতোসময় লাগবে?