তিন বিচারপতিকে মানসিক অসুস্থ বললেন ডা. জাফরুল্লাহ

আদালত অবমাননার দায়ে তাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর দেওয়া দন্ডাদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন বলে দাবি করেছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। ট্রাইব্যুনালের করা পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা তিনি পরিশোধ করবেন না বলেও জানিয়েছেন তিনি।
ব্রিটিশ নাগরিক ও সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যানকে ট্রাইব্যুনালের জরিমানার রায়ের বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে বিবৃতি দেওয়ায় গতকাল বুধবার ডা. জাফরুল্লাহকে এক ঘণ্টার কারাদ- ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করেন ট্রাইব্যুনাল।
এক ঘণ্টা ট্রাইব্যুনালের আসামির কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে থেকে দন্ড ভোগ করতে রায়ে বলা হয় ডা. জাফরুল্লাহকে। জরিমানার টাকা ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার বরাবর আগামি সাতদিনের মধ্যে ডা. জাফরুল্লাহকে পরিশোধ করতে রায়ে বলা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে একমাসের কারাদন্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে তাকে।
বেলা এগারটা ২৪ মিনিটে এ রায় দেন চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল। সে হিসেবে দুপুর বারোটা ২৪ মিনিট পর্যন্ত আসামির কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে থেকে দন্ড ভোগ করার কথা ছিল ডা. জাফরউল্লাহর। কিন্তু তিনি কাঠগড়ায় উঠতে অস্বীকৃতি জানিয়ে দীর্ঘ এক ঘণ্টা ২৫ মিনিট ধরে এজলাসে বাকবিতন্ডা, ট্রাইব্যুনাল ও বিচারপতিদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। এমনকি বিচারপতিদের তিনি বলেন, আপনারা ক্ষমতার অপব্যবহার করে এ আদেশ দিয়েছেন।
অবশেষে অনেকের অনুরোধ ও জোরাজুরিতে দুপুর বারোটা ৪৯ মিনিট থেকে একটা ৪৯ মিনিট পর্যন্ত কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে দন্ড ভোগ করেন জাফরুল্লাহ।

ট্রাইব্যুনাল থেকে বের হয়েই ডা. জাফরুল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন, তিনি জরিমানার টাকা পরিশোধ করবেন না। ট্রাইব্যুনালের এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন বলে দাবি করেন তিনি।
তবে ট্রাইব্যুনালের এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাওয়ার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।
ডা. জাফরুল্লাহ বলেন,আদালত অবমাননার রায়টা তিনজন বিচারকের মানসিক অসুস্থতার প্রমাণ। এখানে বিচারপতিরা সমালোচনা সহ্য করতে পারেন না। যেখানে তারা সমালোচনা সহ্য করতে পারেন না, সেখানে ন্যায়বিচার হয় না।