১০ পৌরসভাকে সিটি কর্পোরেশন করতে ‘ম্যাবে’র প্রস্তাব-বগুড়ার ঘোষনা হতে পারে ঈদের পরে

বগুড়া প্রতিনিধি ঃ বা¯তবতা ও নগরায়নের যুগ চাহিদার আলোকে বগুড়া সহ দেশের আরো ১০ টি প্রথম শ্রেনীর পৌর সভাকে সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত করার প্রক্রিয়া চলছে । স্থানীয় সরকারের নীতিমালার আলোকে আয়তন, জনসংখা ও রাজস্ব আয় সংক্রান্ত তিনটি শর্ত পুরন হলে যে পৌরসভাকে সিটিতে উন্নীত করা যায় তার ৩ টিই বগুড়ার ক্ষেত্রে শতভাগ পুরন হওয়ায় অগ্রাধিকার তালিকায় আছে বগুড়া ।শোনা যাচ্ছে আগামী ঈদের পরেই বগুড়া সফরে আসছেন প্রধাণ মন্ত্রী শেখ হাসিনা । সফর কালে তিনি বগুড়ার চলমান কয়েকটি বড় প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন এবং বগুড়া পৌরসভাকে সিটি কর্পোরেসনে উন্নীত করা বগুড়ায় একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আনুষ্ঠানিক ঘোষনা দেবেণ । সুত্রে জানা যায়,জুন মাসেই বগুড়া সফরের কথা ছিল তবে অনিবার্য কারণে তা’ পিছিয়ে যায় । বগুড়ায় ক্ষমতাসীন দলের বিভিন্ন সুত্র প্রশাসন সুত্র এবং বগুড়া পৌর সবার মেয়র এ্যাড. একেএম মাহবুবুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে বিষয়টি মোটামুটি নিশ্চিত বলে ধালনা পাওয়া গেছে ।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয় সুত্রে পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, বর্তমানে দেশে সিটি কর্পোরেশনের সংখা ১১টি,পৌরসভার সংখা ৩শ’২৪টি এর মধ্যে প্রথম শ্রেনীর পৌর সভার সংখা ৭৪টি । দেশে নাগরিক সুযোগ সুবিধার বৃদ্ধির জন্য বর্ধিত হারে আন্তর্জার্তিক সহায়তা প্রাপ্তির লক্ষ্যে সরকার নীতিগত ভাবে প্রথম শ্রেনীর পৌরসভা গুলোকে বিশেষ নীতিমালার আলোকে সিটি কর্পোরেশনে রপান্তরে আগ্রহী ।আর এক্ষেত্রে ৩টি শর্ত প্রযোজ্য । শর্ত গুলো হচ্ছে আয়তন জনসংখা এবং বার্ষিক রাজস্ব আয়ের পরিমান । এ প্রসঙ্গে বগুড়া পৌর সভার মেয়র এবং মিউনিসিপ্যালিটি’জ এ্রাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ম্যাব ) এর বগুড়া , জয়পুরহাট , পাবনা ও সিরাজগন্জকে নিয়ে গঠিত আঞ্চলিক এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এ্যাড. মাহবুব বলেছেন ‘বগুড়া পৌরসভার আয়তন ৭০ বর্গ কিলোমিটার, জনসংখা ৫ লক্ষ এবং বার্ষিক রাজস্ব আয় ১৪ কোটি টাকা। বগুড়া পৌর মেয়রের মতে উল্লেখিত ৩টি শর্তই যথাযথ ভাবে পুরণ হয়েছে । বয়সের দিক থেকেও এটি প্রাচীনতম প্রতিষ্ঠান গুলোর মধ্যে অন্যতম ।তিনি বলেন, ২৫ কোটি জনসংখ্যা অধ্যুষিত দেশ ইন্দোনেশিয়ায় সিটি কর্পোরেশনের সংখ্যা যেখানে ৯৩ টি , সেখানে বাংলাদেশে ১৬ কোটি জনসংখার বিপরীতে সিটির সংখ্যা মাত্র ১১টি । প্রস্ংগত তিনি জানান, পৌর মেয়রদের সংগঠন ম্যাব’ এর পক্ষ থেকে সরকারকে দ্রুত ১০ প্রথম শ্রেনীর পৌর সভাকে সিটিতে রপান্তরিত করতে সরকারকে অনুরোধ করা হয়েছে ॥ এই ১০ টি পৌর সভা হলো দিনাজপুর,বগুড়া , পাবনা,কুষ্টিয়া, যশোর,ফরিদপুর,নোয়াখালি, ময়মনসিংহ,টাঙ্গাঈল ও পটুয়াখালি । বর্তমানে দেশে যে ১১টি সিটি কর্পোরেশন রয়েছে, সেগুলো হলো ঢাকা (উত্তর), ঢাকা (দক্ষিণ ),নারয়নগন্জ ,গাজীপুর ,খুলনা, বরিশাল,চট্রগ্রাম,সিলেট,কুমিল্লা, রাজশাহী ও রংপুর ।
পর্যায়ক্রমে পৌরসভা সমুহকে সিটিতে রুপান্তরের পক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে, ম্যাব’ এর সুপারিশে বলা হয়েছে , নাগরিকদের সার্বিক জীবন মান উন্নয়নে আন্তর্জার্তিক দাতা সংস্থা গুলো সিটি কর্পোরেশন গুলোকে প্রাধান্য দিয়ে থাকে ।এছাড়াও রাজধানী ঢাকার উপর বর্ধিত জনসংখ্যার চাপ কমাতেও নতুন নতুন সিটি কর্পোরেশন এবং সকল পৌরসভায় রাস্তাঘাট, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা,শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়ন করাও জরুরি হয়ে পড়েছে ।ড. হোসেন জিল্লুর রহমানের বেসরকারি সংস্থার এক সেমিনারে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায় , শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সহ আনুসাঙ্গিক প্রয়োজনে বর্তমানে রাজধানী ঢাকায় বর্তমানে প্রতিদিন ৬ লক্ষ মানুষকে ঢাকায় আসতে ও যেতে হয় । এছাড়া রাজধানী ঢাকার ২টি সিটির যে আয়তন তা ৫০ লাখ মানুষের জন্য যথেষ্ঠ, সেখানে বর্তমানে দেড় কোটি মানুষের বসবাস । সেকারনেই ঢাকা ক্রমশঃ বসবাসের জন্য অনুপোযোগি হয়ে যাচ্ছে ্ । এই বাস্তবতার আলোকে ‘ম্যাবের’ বক্তব্য হল নতুন ১০টি সিটি কর্পোরেশন হলে সেগুলোতে নাগরিকদের শিক্ষা , স্বাস্থ্য ও অন্যান্য ক্ষেত্রে জীবন মান উন্ত হলে রাজধানী ঢাকার উপর মানুষের নির্ভরশীলতা কমে আসবে ।বর্ধিত জন বিষ্ফোরণের হাত থেকে রক্ষা পাবে রাজদানী ঢাকা ।