ঘরে বসে ভোট দেওয়ার প্রযুক্তি উদ্ভাবনের তাগিদ আইনমন্ত্রীর

ভোটাররা যাতে ঘরে বসে ভোট দিতে পারেন, এমন প্রযুক্তি উদ্ভাবনের তাগিদ দিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। তিনি নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) মতো আধুনিক প্রযুক্তি নিয়ে আরও গবেষণা করার পরামর্শ দিয়েছেন। আনিসুল হক বলেছেন, এমন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করতে হবে, যাতে মানুষ ঘরে বসে অনলাইনে ভোট দিতে পারেন এবং কোথায় তাঁর ভোট পড়েছে, তা নিশ্চিত হতে পারেন।

আজ সোমবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় ভোটার দিবসের আলোচনায় আইনমন্ত্রী এ কথা বলেন। ‘ভোটার হয়ে ভোট দেব, দেশ গড়ায় অংশ নেব’ এই প্রতিপাদ্য নিয়ে এবারের জাতীয় ভোটার দিবস (২ মার্চ) পালন করা হচ্ছে। এ উপলক্ষে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ওই আলোচনা সভার আয়োজন করে।

আনিসুল হক বলেন, ‘কোন কেন্দ্রে কত ভোট পড়েছে, কারা ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছে, তাদের ছবি, আইডি নম্বরসহ অনলাইনে প্রকাশ করা যায় কি না, সে ব্যাপারে চিন্তাভাবনা করতে হবে। এতে ভোটারের সংখ্যা ও উপস্থিতি নিয়ে কারও মনে কোনো সংশয় থাকবে না। যিনি ভোট দেবেন, তাঁকে একটি কনফারমেশন স্লিপ দেওয়া যায় কি না, সেই বিষয়েও চিন্তাভাবনা করা যেতে পারে।’

আইনমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনব্যবস্থায় আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ব্রাজিল, ফ্রান্স, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন দেশে ইভিএমে ভোট হচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশে কেউ কেউ না জেনে ইভিএম নিয়ে নেতিবাচক কথা বলেন। নতুন প্রযুক্তির কোনো বিকল্প নেই। তবে তিনি ইভিএম নিয়ে আরও গবেষণা করার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, ইভিএম পদ্ধতিতে আরও আধুনিক ও স্বচ্ছ করার জন্য ধারাবাহিক গবেষণা করতে হবে। এই পদ্ধতিতে আরও আধুনিক ও সার্বিক ত্রুটিমুক্ত করতে হবে।

অনুষ্ঠানে সিইসি কে এম নূরুল হুদা ভোটার তালিকার হালনাগাদ তথ্য উপস্থাপন করেন। তিনি জানান, এখন দেশে মোট ভোটার ১০ কোটি ৯৮ লাখ ১৯ হাজার ১১২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৫ কোটি ৫৪ লাখ ৮২ হাজার ৫৩০ জন, নারী ভোটার ৫ কোটি ৪৩ লাখ ৩৬ হাজার ২২২ জন আর হিজড়া ভোটার ৩৬০ জন।

আলোচনা সভায় নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার বলেন, ভোটাররা অবারিতভাবে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ইচ্ছা অনুযায়ী ভোট দিতে পারলেই কেবল জাতীয় ভোটার দিবস পালনের উদ্দেশ্য সফল হবে। তিনি আরও বলেন, ভোট জনগণের পবিত্র আমানত। এই আমানত যাতে লুণ্ঠিত না হয়, সে জন্য নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য হওয়া প্রয়োজন। এ জন্য নির্বাচনপ্রক্রিয়া সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে। ভোট দুই অক্ষরের ছোট শব্দ হলেও এর ব্যাপ্তি অত্যন্ত বিস্তৃত, বিশাল ও ব্যাপক। মাহবুব তালুকদার বলেন, ভোট জনগণের সার্বভৌমত্বের প্রতীক ও জনগণের রক্ষাকবচ। সম্প্রতি ভোটারদের ভোটবিমুখতা লক্ষ করা যাচ্ছে। এটি গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত। এর কারণগুলো বিশ্লেষণ করে তা প্রতিকারের প্রচেষ্টা চালানো প্রয়োজন। যেকোনো মূল্যে আইনানুগভাবে ভোটের প্রতি ভোটারদের আস্থার সংকট মোচন করতে হবে।

অন্যদের মধ্যে নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম, কবিতা খানম, শাহাদাত হোসেন চৌধুরী বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইসি সচিব মো. আলমগীর।

এর আগে সকালে মানিক মিয়া এভিনিউ থেকে শোভাযাত্রা বের করে নির্বাচন কমিশন। শোভাযাত্রা শেষে নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম বলেন, ‘নিজের অধিকারকে নিজেকেই প্রতিষ্ঠিত করতে হয়। অন্য কেউ এসে আপনার অধিকারটা প্রতিষ্ঠিত করে দেবে না। শুধু এটুকু বললেই হবে না যে, আমি ভোট দিতে গিয়েছি, ভোট দিতে পারি নাই, এটা আপনার ব্যর্থতা। আপনি ভোট কেন্দ্রে যাবেন, নিজের অধিকারটা স্বাধীনভাবে প্রতিষ্ঠিত করার সর্বাত্মক চেষ্টা করবেন।’