আবারও শিরোনামে পুলিশ

পুলিশ, বিশেষত এর গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) যা করে চলেছে, তাতে শেষ পর্যন্ত এই বাহিনীর ভাবমূর্তি বলে কিছু থাকবে বলে মনে হয় না। পুলিশের মহাপরিদর্শক মহোদয়কে বলতে ইচ্ছে করে, আমাদের কতকাল আর তার বাহিনীর সদস্যদের কুকীর্তি দেখে যেতে হবে? সম্প্রতি ঘটে যাওয়া রাজশাহীর কুকীর্তিটির কথাই ধরা যাক। জনৈক মিলন হাজিরা দিতে এসেছিলেন আদালতে। ডিবি পুলিশ তার কাছে দুই লাখ টাকা দাবি করে জানায়, টাকা না দিলে তাকে আদালত থেকেই উঠিয়ে নেয়া হবে। মিলন কৌশলে সেখান থেকে পালাতে সম হলেও পালাতে পারেনি তার ছেলে অপু। ১৩ বছর বয়সী অপুকে রাস্তা থেকে অপহরণ করে নিয়ে যায় ডিবি পুলিশের কয়েক সদস্য। তারপর মুক্তিপণের দুই লাখ টাকা না দিলে তাকে ছাড়া হবে না বলে জানিয়ে দেওয়া হয়। অতঃপর শুরু হয় অপুর ওপর নির্যাতন। ইলেকট্রিক শকসহ নানা ধরনের নির্যাতনের শিকার অপুর আর্তচিৎকার মোবাইলে শোনানো হয় তার বাবাকে। শেষ পর্যন্ত বাবা আর কী করেন, দেড় লাখ টাকা দিয়ে ছাড়িয়ে আনেন তার মুমূর্ষু সন্তানকে।
ডিবি ও পুলিশের অন্যান্য শাখার সদস্যদের অপকর্ম, বিশেষত অর্থলোভে সাধারণ মানুষকে হয়রানি ও নির্যাতনের ঘটনাগুলোর তালিকা এত দীর্ঘ যে, সামান্য পরিসরে তার ভগ্নাংশও তুলে আনা সম্ভব নয়। মিডিয়ায় তাদের অপকর্মগুলো ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হলেও তারা মোটেও বিচলিত হচ্ছে না। এর দুরকম কারণ থাকতে পারে। এক. মিডিয়ায় তাদের অপরাধ প্রকাশিত হলেও অভিযুক্তরা প্রাপ্য শাস্তি পাচ্ছে না বলে তারা অপকর্ম করতে নিরুৎসাহিত হচ্ছে না। দুই. অর্থলোভ তাদের এতটাই বেপরোয়া করে তুলেছে যে, তারা হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হয়ে পড়েছে। দ্বিতীয় প্রবণতাটি বাড়তে থাকলে একসময় দেখা যাবে, পুরো পুলিশ বাহিনী ক্রিমিনালাইজড হয়ে পড়েছে। তখন হয়তো শত চেষ্টায়ও এ বাহিনীকে সুপথে আনা সম্ভব হবে না। আমাদের সন্দেহ জাগে, পুলিশের প্রশিণে গণমুখী মানস তৈরির েেত্র তাদের কি আদৌ কোনো শিা দেওয়া হয়? নাকি ধরেই নেয়া হয়েছে, বাংলাদেশের পুলিশ যখন, তখন কিছু-না-কিছু স্খলন তো হবেই?
এ পরিস্থিতি বেশিদিন চলতে দেওয়া যায় না। প্রশ্ন, কে বা কারা বদলাবে পুলিশের চরিত্র? পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপ? তারাই বা কতটা সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন? অভিযোগ রয়েছে, মাঠ পর্যায়ে পুলিশ অবৈধ উপায়ে যে অর্থ সাধারণ মানুষের কাছ থেকে আদায় করে, তার একটি ভাগ চলে যায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপরে কাছে। এ েেত্র আমাদের বক্তব্য, পুলিশ প্রশাসনে সৎ ও গণমুখী কর্মকর্তার সংখ্যাও নেহায়েত কম নয়। তাদেরই নড়েচড়ে উঠতে হবে। একই সঙ্গে তৎপর হতে হবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কেও। সবচেয়ে জরুরি খোদ প্রধানমন্ত্রীর সদিচ্ছা। তার হস্তপে ছাড়া এই জটিল রোগের চিকিৎসা সম্ভব নয় বলেই প্রতীয়মান হয়। রাজশাহীর ঘটনায় শুধু বিভাগীয় শাস্তিই যথেষ্ট নয়, সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের বিচার করতে হবে দেশের প্রচলিত আইনে।