বরিশালে শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম

বরিশাল সংবাদ দাতা, : শূণ্যপদে শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগে প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির কতিপয় সদস্যর উপঢৌকন গ্রহণকরা প্রার্থীরা পরীক্ষায় প্রথম না হওয়ায় অনুষ্ঠিত নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করার চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। এনিয়ে এলাকায় কয়েকদফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঘটনাটি জেলার আগৈলঝাড়া উপজেলার রাজিহার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের।
রবিবার সকালে সরজমিনে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ওই বিদ্যালয়ের শূণ্যপদে শরীর চর্চা, কম্পিউটার শিক্ষক ও চতুর্থ শ্রেনির কর্মচারী নিয়োগের জন্য অতিসম্প্রতি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। সে অনুযায়ী একাধিক প্রার্থী বিভিন্নপদে আবেদন করেন। গত ৫ জুন নগরীর জিলা স্কুলে কম্পিউটার শিক্ষক ও চতুর্থ শ্রেণি কর্মচারী পদে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলেও শরীর চর্চা শিক্ষক পদে কোনো প্রার্থী অংশগ্রহণ করেননি। শরীর চর্চা পদের প্রার্থী নৃপেন মধু অভিযোগ করে বলেন, স্কুলের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয়ার পূর্বেই প্রধানশিক্ষক উজ্জ্বল কুমার ম-ল বিজ্ঞপ্তির খরচের জন্য তার কাছ থেকে বিকাশের মাধ্যমে ২ হাজার ৫৫০ টাকা গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে প্রধানশিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির অভিভাবক সদস্য মাসুম হাওলাদার তার কাছে চাকুরীর জন্য ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। তাদের দাবিকৃত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে নিষেধ করেন প্রধানশিক্ষক। ফলে তিনি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেননি। অপর একটি সূত্রে জানা গেছে, প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের পছন্দের লোকেরা অন্য দুটি পদে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে প্রথম না হওয়ায় অজ্ঞাত কারণে ওইদুটি পরীক্ষাও স্থগিত করা হয়। এদিকে চতুর্থ শ্রেণি পদের প্রথম হওয়া সোবহান হাওলাদার স্কুলে গিয়ে প্রধানশিক্ষকের কাছে পরীক্ষার ফলাফল জানতে চাইলে তিনি ফলাফল বলতে তালবাহানা করে ম্যানেজিং কমিটির জরুরি সভায় পরবর্তী সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে তালবাহানা শুরু করেন। সে অনুযায়ী ২৬ জুন সভা আহবানের নির্ধারিত দিনেও অনিবার্য কারণ দেখিয়ে কৌশলে ওইসভা স্থগিত করা হয়। এ ঘটনায় স্থানীয় অভিভাবকেরা ক্ষিপ্ত হয়ে প্রধানশিক্ষকসহ বর্তমান ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের অপসারনের দাবি করেন।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত প্রধানশিক্ষক উজ্জ্বল কুমার ম-ল সাংবাদিকদের কাছে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের জন্য শরীর চর্চা শিক্ষক পদের প্রার্থীর কাছ থেকে টাকা নেয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, ওইপদে সচরাচর প্রার্থী পাওয়া যায়না। তাই তার কাছ থেকে টাকা নিয়ে আটকাতে চেয়েছিলাম। প্রার্থীর কাছ থেকে টাকা গ্রহণের ব্যাপারে তিনি বলেন, ম্যানেজিং কমিটির সদস্য মাসুম হাওলাদার টাকা নিয়েছেন। অন্যান্য অভিযোগের ব্যাপারে তিনি ভুল স্বীকার করলেও কোনো সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি।