মহেশখালীর বিস্তির্ণ এলাকা পানির নিচে, ত্রাণের দাবী

সংবাদ দাতা, কক্সবাজার : কক্সবাজারের মহেশখালী দ্বীপের বিস্তির্ণ এলাকা দেড় থেকে দুই ফুট পানির নিচে তলীয়ে গেছে। গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণ ও স্লুইচ গেইট দিয়ে যথাযত ভাবে বৃষ্টির পানি সমুদ্রে নেমে যেতে না পারায় এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এমন পটভূমিতে গতকাল বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা ঘুরে দুর্গতদের মাঝে জরুরি শুকনো খাবর বিতরণ করছেন এলাকা এমপি আশেক উল্লাহ রফিক। ক্ষতি বিবেচনায় এলাকায় জরুরি ত্রাণের দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্থরা। বর্ষণে সৃষ্ট প্লাবনের কারণে এলাকার সামগ্রীক ভাবে স্থল যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।
ক্ষতিগ্রস্থ বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে স্থানীয় একাধিক লোকের সাথে কথা বলে জানাগেছে, গত ৬ দিনের টানা বৃষ্টিপাতে মহেশখালীর সামগ্রীক গ্রামীণ অবকাঠামো ভেঙে পড়েছে। অব্যহত এই বৃষ্টিপাতে পাহাড়ি এলাকায় ব্যাপক ভাঙ্গনের সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে পাহাড়ি পানের বরজ, বাগান ও মৌসুমি ক্ষেত। অপরদিকে ভারি এই বর্ষণের কারণে উপকূলীয় বির্স্তিণ ঘের এলাকা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। অনেক ঘেরের বাঁধ ভেঙে গিয়ে র্সবশান্ত হয়ে পড়ে ঘের মালিক ও মাছ চাষীরা। স্থানীয় আইল্যার ঘোনা, চরচিরা, ফারিকুল, গোয়াবইন্ন্যা, ওমর বাপের ঘোনা, দৈলাকাটা ঘোনা, ঘটিভাঙ্গার ঘোনা, জব্বরবাপের কূম ঘোনা, লম্বাখান ঘোনা, নোয়াঘোনা, পাটাঘোনা, বারের ঘোনা । এলাকার ক্ষতিগ্রস্থ ঘের মালিক সিরাজ মিয়া বাঁশি জানান, আষাঢ়ে আকস্মিক বৃষ্টির কারণে অনেক ঘেরের বাঁধ ভেঙে একাকার হয়ে গেছে। ঘের ভেঙে গিয়ে আমি নিজেরই কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। অপরদিকে বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ি ধস অব্যহত রয়েছে। শাপলাপুরের ইউপি চেয়াম্যান নুরুল হক জানান, বৃষ্টির কারণে পাহাড় ধ্বসের ঘটনা ঘটেছে। তার এলাকায় পাহাড় ধ্বসে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে এবং আহত ১ জনের অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানান।
এদিকে বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট মহেশখালীর নিন্মাঞ্চল প্লাবিত হয়ে অসংখ্য পরিবার ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এখনো অনেক বাড়ি পানির নিচে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে কাঁচা বাড়িঘর। উপজেলার কুতুবজোম, মহেশখালী পৌর এলাকা, ছোট মহেশখালী, শাপলাপুর ও মাতারবাড়িতে এনিয়ে র্সবাধিক ক্ষতি হয়েছে বলে সূত্রে প্রকাশ। অপরদিকে পাহাড়ি ঢলের করণে উপজেলার হোয়ানক, শাপলাপুর ও কালামার ছড়ায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানরা জানিয়েছেন। ঢলের ফলে মহেশখালীর প্রধান দু’টি সড়ক ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। একই ভাবে মহেশখালীতে প্রবেশ করা বিদ্যুতের মূল লাইন ও মহেশখালী অংশে বিদ্যুতের বিভিন্ন টাওয়ার ও খুঁটি ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে মহেশখালীতে বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। গত ৫ দিন মহেশখালী বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে আছে। দ্বীপে এবার অন্তত: পাঁচ হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বলে সূত্রে প্রকাশ।
এদিকে বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট বন্যায় সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে কুতুবজোম ইউনিয়ন। এখানে অনেক বাড়ি ধ্বংস হয়েগেছে। বহু বড়িতে পানি ঢুকে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। গতকাল এসব দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করেছেন এলাকার সংসদের নেতৃত্বে প্রশাসনের একটি দল। এসব এলাকার ৩ শতাধিক পরিবারের মাঝে গতকাল সাংসদের পক্ষ থেকে জরুরি শুকনো খাবর বিতরণ করা হয়। এ সময় কক্সবাজার-২ মহেশখালী-কুতুবদিয়ার এমপি আলহাজ আশেক উল্লাহ রফিকসহ মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আনোয়ারুল নাসের ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. শফিউল আলম সাকিব, ধলঘাটার চেয়ারম্যান আহছান উল্লাহ বাচ্চু, কুতুবজোম আওয়ামী লীগের সা. সম্পাদক মো. রবিউল আলম রবি, নজরুল মেম্বার, মেম্বার নুরুল কবির , ওয়াহিদুল আলম, উপজেলা ছাত্রলীগ আহ্বায়ক ওয়াজেদ আলী মুরাদ, যুগ্ম-আহ্বায়ক পরোয়ার মোস্তাফা হাবিব বকুল, হালিমুর রশিদ, মোবারেক হোসেন বারেক, ছাত্রনেতা আবদুল হাকিম, জাহেদ, নজরুল, ফয়সাল, আলাউদ্দিনসহ ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ এই রিলিফ ওয়ার্কে অংশগ্রহণ করেন।
এদিকে ক্ষতির বিবেচনায় দ্রুত আরো ত্রাণের দাবি জানিয়েছে এলাকার ক্ষতিগ্রস্থ লোকজন। এদিকে পরে সরকারি খালের উপর জনৈক বাদশা মেম্বার কর্তৃক নিমার্ণ করা অবৈধ বাঁধ কেটে দেয় প্রশাসন। এই বাঁধের কারণে অনেক এলাকা প্লাবিত হয় বলে সূত্রে প্রকশ। এইভাবে স্লুইচগেইট গুলো বিভিন্ন জন দখলে নিয়ে মাছ ধরার অযুহাতে পানি নিষ্কাশনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয় হয়ে বানের সৃষ্টি হচ্ছে বলে সূত্রের অভিযোগ।