সিরাজগঞ্জে এডিপি’র ১০ কোটি টাকা খরচে নানা ফন্দি-ফিকির

সংবাদ দাতা, সলঙ্গা, সিরাজগঞ্জ : গ্রামীণ অবকাঠামো কাাঁচা-পাকা রাস্তাঘাট সংস্কার ও হাট-বাজার উন্নয়নে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে সিরাজগঞ্জের ৯ উপজেলায় এডিপি’র ১০ কোটি টাকার বরাদ্দ খরচে চলছে নানা ফন্দি-ফিকির। উপজেলা পরিষদের মাধ্যমে বিশেষ অনগ্রসর ও সাধারণ প্রকল্পের বিপরীতে এ অর্থ চলতি ৩০ জুনের মধ্যে খরচ করতে না পারলে ফেরত যাবে এমন আশঙ্কায় প্রতি উপজেলাতেই গোপন রিকুয়েস্ট ফর কোটেশন (আরএফকিউ) টেন্ডারের হিরিক পড়েছে। একই সঙ্গে ৩০ শতাংশ অর্থের মধ্যে দলীয় লোকজন ও ইউপি চেয়ারম্যান-মেম্বারদের সন্তুষ্ট রাখতে এক থেকে দু লক্ষ টাকার পিআইসি প্রকল্পের টেন্ডারও কৌশলে করা হচ্ছে। সরকারি বরাদ্দ হালালে তড়িঘড়ি করায় ভুয়া প্রকল্পসহ যেসব আগেই বাস্তবায়িত হয়েছে সেগুলোও অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সুযোগ থাকছে।
এদিকে জেলার ৯ উপজেলার জন্য গত ১৮ জুন মন্ত্রণালয় থেকে এডিপি’র থেকে পোনে ৬ কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ আসে। দেশের অন্যান্য জেলাতেও এ ধরনের থোক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বরাদ্দ দেরিতে পেলেও ২০ জুনের মধ্যে খরচ করে প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে। মাত্র ১১/১২ দিনের মধ্যে প্রকল্প গ্রহণ ও ব্যয় নিয়ে বিপাকে কমিটির লোকজন।
জানা গেছে সদর, কাজিপুর, তাড়াশ, রায়গঞ্জ, উল্লাপাড়া, শাহজাদপুর, বেলকুচি, চৌহালী ও কামারখন্দ উপজেলায় মন্ত্রণালয় থেকে এডিপি’র ৬০ থেকে ৮০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বরাদ্দ আগেই দেওয়া হয়। এ অর্থ যথাযথ ভাবে খরচ করতে না করতেই বছরের শেষ মুহূর্তে সব উপজেলায় আরো প্রায় পোনে ৬ কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ আসে। প্রকল্প তৈরি, অনুমোদন, বিজ্ঞপ্তি, টেন্ডারকরণ অনুমোদন ও কার্যাদেশ প্রদানে কমপক্ষে ৩ সপ্তাহ ব্যয় হলে বরাদ্দ ফেরত যাবে বা জবাবদিহিতা করতে হবে, এমন আশঙ্কায় তড়িঘড়ি গোপন আরএফকিউ কোটেশন টেন্ডার করা হয়। তাড়াশে ৩ দফায় ১ কোটি ৯ লক্ষ ৬৪ হাজার টাকা বরাদ্দ হয়। গোপন রিকুয়েস্ট কোটেশনের মাধ্যমে ৪০ লক্ষ টাকার ৪টি প্রকল্প পছন্দের লোকজনকে দেওয়ায় অন্যান্য ঠিকাদারদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। অন্যদিকে আরএফকিউ কোটেশন টেন্ডারের স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
উল্লাপাড়ায় ১ কোটি ৩৪ লক্ষ টাকা বরাদ্দের মধ্যে ৩৪ লক্ষ টাকায় ৪টি আরএফকিউ কোটেশন করে বাকি টাকায় ৫৫টি পিআইসি টেন্ডার করা হয়েছে। অধিকাংশ প্রকল্প শুরুই হয়নি। সদর, রায়গঞ্জ, বেলকুচি, কামারখন্দ, শাহজাদপুর, চৌহালী ও কাজিপুরেও একই অবস্থা। সব উপজেলাতেই বিধিসম্মতভাবে আরএফকিউ কোটেশন করা হয়নি। এমনকি অধিকাংশ পিআইসি প্রকল্প মাত্র শুরু হলেও কাগজে-কলমে চলতি জুনের মধ্যে সম্পন্ন দেখানো হচ্ছে।
উল্লাপাড়া উপজেলা প্রকৌশলী আশরাফ আলী বলেন- জুনের মধ্যে প্রকল্পের বরাদ্দ ব্যয় করতে না পারলে এক ধরনের জবাবদিহিতা আছে। সেজন্য বিশেষ জরুরি প্রয়োজনে রিকুয়েস্ট কোটেশন বা আরএফকিউ টেন্ডার করা হয়। এ ধরনের টেন্ডারের বিধান রয়েছে। বন্যা, খরা, অনাবৃষ্টি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও নদীভাঙ্গনসহ জরুরি অবস্থায় টেন্ডার করলে কালক্ষেপণ বা জনগোষ্ঠির আরো অসুবিধা হতে পারে, তখন সরাসরি প্রকিউরমেন্ট’র অংশ হিসেবে আরএফকিউ কোটেশন করা যেতে পারে। তবে, সাধারণ ক্ষেত্রে এ ধরনের টেন্ডার করলে স্বচ্ছতার প্রশ্ন উঠে।
তাড়াশ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবদুল হক বলেন,জুন মাসের মধ্যে এডিপি’র অর্থ খরচ করতে না পারলে টাকাটা ফেরত দিতে হবে। তাই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ১০ লক্ষ টাকা করে ৪টি আরএফকিউ কোটেশন এবং বাকি অর্থে পিআইসি টেন্ডার করেছি। কিছু টাকা ফেরতও দেওয়া হচ্ছে। জুন মাসের মধ্যে হয়তো দু একটি প্রকল্প শেষ হবে না।
এদিকে অন্যান্য উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, নির্বাহী কর্মকর্তা এবং উপজেলা প্রকৌশলীরাও ঠিক একই ধরনের মন্তব্য করেন।