রৌমারীতে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি,ঘর বাড়িতে উঠছে পানি

সাইফুর রহমান শামীম কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের ব্রহ্মপুত্র পুর্বপাড়ের উপজেলা রৌমারীতে ভারীবর্ষন ও উজান থেকে নেমে আসা ভারতীয় পাহাড়ী ঢলের পানি বেড়ে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। বানভাসী মানুষের দুর্ভোগ ক্রমে বাড়ছে।
উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের প্রায় ৫০টি গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে এবং পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে ৫শ’ হেক্টর জমির ফসল। এতে উপজেলায় প্রায় ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি। করোনাভাইরাস সংক্রমণ কারণে বন্ধ থাকা বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শ্রেণি কক্ষে বন্যার পানি উঠেছে। এতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আসবাবপত্র ও নতুন এবং পরাতন ভবনগুলো ক্ষতির মুখে রয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, গত বছরের ভয়াবহ বন্যায় উপজেলার বেঁরীবাধ ও সংযোগকারী রাস্তাগুলি লন্ডভন্ড হয়েছিল। এক বছর অতিবাহিত হলেও বাঁধসহ সংযোগকারী রাস্তাগুলো মেরামত করা হয়নি।
গত শুক্রবার সকাল থেকে রবিবার (২৮ জুন) বিকাল পযর্ন্ত বেঁরীবাঁধের ভাঙ্গা দিয়ে বিভিন্ন এলাকায় পানি প্রবেশ করছে। হঠাৎ করে অস্বাভাবিক ভাবে পানি বৃদ্ধি পেয়ে তলিয়ে গেছে বন্দবেড় ইউনিয়নের বাঘমারা, কুটিরচর, কান্দাপাড়া, টাঙ্গারীপাড়া, বাইশপাড়া, পুরারচর, যাদুরচর ইউনিয়নের চাক্তাবাড়ি, দিগলেপাড়া, নতুনগ্রাম, ধনারচর, ধনারচর নতুন গ্রাম, আকন্দপাড়া, চরেরগ্রাম, হাট মোল্লাপাড়া, ব্যাপারীপাড়া, পাখিউড়া, রৌমারী সদর ইউনিয়নের ঠনঠনিপাড়া, কাঠালবাড়ী, চরশৌলমারী ইউনিয়নের ঘুঘুমারী, খেদাইমারী, পাখিউড়া, চরখেদাইমারী, মিয়ারচর, ফুলকারচর, কাজাইকাটা ও দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের ডিগ্রিরচর ইটালুকান্দা, চরইটালুকান্দা, গাছবাড়ী, কাউনিয়ারচর, আমবাড়ী, চরগয়টাপাড়া, খেতারচর, টাপুরচর, চরধনতোলা, ছোট ধনতোলা, বড় ধনতোলা, ছাটকড়াইবাড়ী, হরিণধরা, ধর্মপুর, গুটলিগ্রাম, কাউয়ারচরসহ উপজেলার প্রায় ৫০টি গ্রাম।
বিশেষ করে দাঁতভাঙ্গা ও চরশৌলমারী ও বন্দবেড় ইউনিয়নে বানবাসী মানুষদের ঘরে খাবার না থাকায় বিপদে পড়েছে শ্রমজীবি ও নিম্ন আয়ের মানুষজন।
পাশাপাশি দেখা দিয়েছে খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট। প্রত্যন্ত অঞ্চল ও ডুবে যাওয়া চর এলাকা থেকে ঘরবাড়ি ছেড়ে ইতোমধ্যেই বানবাসী বিপদগ্রস্থ মানুষ তুলনামূলক উঁচু জায়গার সন্ধান করছেন।
এদিকে গো খাদ্যের সংকট নিয়ে বিপাকে পড়েছে মানুষজন। গরুসহ গৃহপালিত পশুপাখি নিয়ে নিদারুন কষ্টে রয়েছে বানবাসি মানুষ। বন্যার তীব্রতায় সাধারণ মানুষের মাঝে আতংক দেখা দিয়েছে। ভেসে গেছে অনেক পুকুরের মাছ।
প্রায় তিন ধরে পানিবন্দি রয়েছে এসব চরাঞ্চলের বানবাসি মানুষজন। এদিকে রান্না করার চুলাও বন্যার পানিতে ডুবে গেছে। এতে না খেয়ে দুর্ভোগ চরমে উঠেছে মানুষজনের। এখন পর্যন্ত বানভাসী মানুষের মাঝে একমুঠো ত্রানের চাল বা শুকনো খাবার জোটেনি।
দাঁতভাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান মো. ছামছুল হক বলেন, চরাঞ্চলের বসবাসরত মানুষের বাড়ি ঘরে উঠেছে বন্যার পানি। এখন পর্যন্ত ত্রাণ বা শুকোন খাবার পাওয়া যায়নি। ত্রাণ বরাদ্দ হলে দ্রুত বানবাসি মানুষের মাঝে দেওয়া হবে।
রৌমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহরিয়ার হোসেন বলেন, ‘এ পর্যন্ত তলিয়ে গেছে প্রায় ২শ হেক্টর জমির নানা ফসলী আবাদ। তিনি আরো বলেন, ফসলী জমি ঘন্টায় ঘন্টায় বন্যার পানিতে ডুবে যাচ্ছে। এতে ডুবে যাওয়া ফসলী জমির সংখ্যা আরো বাড়বে।’
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আজিজুর রহমান বলেন, পানি বৃদ্ধির অবস্থান পরিদর্শন করে উদ্ধোর্তন কর্তৃপক্ষ বরাবর প্রতিবেদন দাখিল করেছি।
রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল ইমরান জানান, ‘ইতোমধ্যে বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছি। আগামীকাল সোমবার বন্যা পরিস্থিতির লক্ষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির বৈঠক ডেকেছি।