দেশে ২৪ ঘন্টায় শনাক্ত ৪০১৪ জন, মৃত্যু আরও ৪৫

মো: ফজলুল হক রোমান: গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৪৫ জনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে মহামারি করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯)। ফলে ভাইরাসটিতে মোট ১৭৮৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে করোনায় আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন ৪ হাজার ১৪ জন। এতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ১ লাখ ৪১ হাজার ৮০১। আজ নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ১৭  হাজার ৮৩৭ টি যা গতদিনে ছিল ১৮ হাজার ৯৯ টি ।

আজ সোমবার ( ২৯ জুন ২০২০) দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এর করোনাভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। কোভিড-১৯ সংক্রান্ত নিয়মিত অনলাইন স্বাস্থ্য বুলেটিনে অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) ডা. নাসিমা সুলতানা এ তথ্য জানিয়েছেন।

ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ২ হাজার ৫৩ জন। এ নিয়ে সুস্থ হয়েছেন মোট ৫৭ হাজার ৭৮০ জন। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৪০ দশমিক ৭৫ শতাংশ।

তিনি জানান, করোনাভাইরাস শনাক্তে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৭ হাজার ৮৩৭টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এ নিয়ে দেশে মোট নমুনা পরীক্ষা করা হলো সাত লাখ ৪৮ হাজার ৩৪টি। নতুন নমুনা পরীক্ষায় আরও চার হাজার ১৪ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। ফলে করোনায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৪১ হাজার ৮০১ জনে।

অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা বলেন, আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন ৪৫ জন। তার মধ্যে ৩৬ জন পুরুষ ও ৯ জন নারী। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় আরো ২ হাজার ৫৩ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। এ নিয়ে মোট ৫৭ হাজার ৭৮০ জন সুস্থ হলেন।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে সবাইকে ঘরে থাকার এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ-নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয় বুলেটিনে।

গতকাল রবিবারের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৪৩ জনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে মহামারি করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯)। ফলে ভাইরাসটিতে মোট ১৭৩৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে করোনায় আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন ৩ হাজার ৮০৯ জন। এতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ১ লাখ ৩৭  হাজার ৭৮৭ । গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ১৭ হাজার ৩৪টি আর পরীক্ষা করা হয়েছে পূর্বের মিলে ১৮ হাজার ৯৯টি। শনাক্তের হার ২১.০৫ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৪০৯ জন এবং এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ৫৫ হাজার ৭২৭ জন। সুস্থতার হার ৪০.৪৪% এবং মৃত্যুর হার ১.২৬ শতাংশ। বয়স বিশ্লেষণে জানা যায়, ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে দুইজন, ৩১-৪০ একজন, ৪১-৫০ সাতজন, ৫১-৬০ ১৩ জন, ৬১-৭০ ১২ জন, ৭১-৮০ সাতজন এবং ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে একজন। এদের মধ্যে সর্বোচ্চ ২১ জন ঢাকা বিভাগের। এরপরই আছে চট্টগ্রাম বিভাগ (১০ জন)।

গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা ভাইরাসের রোগী শনাক্ত হলেও প্রথম মৃত্যুর খবর আসে ১৮ মার্চ। দিনে দিনে করোনা রোগী শনাক্ত ও মৃতের সংখ্যা বেড়েই চলছে। আজ দুপুর পর্যন্ত দেশে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন এক লাখ ৪১ হাজার ৮০১ জন মানুষ। এর আগে গত ডিসেম্বরে চীনের উহানে করোনাভাইরাসের আঘাত আসে।

এরপর এটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। সোমবার (২৯ জুন) সকাল সাড়ে আটটা পর্যন্ত বিশ্বে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ কোটি দুই লাখ ৪৩ হাজার ৮৫৮ জন। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছেন এক লাখ ৬৩ হাজার ৬৩৪ জন। এছাড়া বিশ্বে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মোট মৃত্যু হয়েছে ৫ লাখ ৪ হাজার ৪১০ জনের। গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন ৩১৮৪ জন। এছাড়া করোনা থেকে মোট সুস্থ হয়েছেন ৫৫ লাখ ৫৩ হাজার ৪৯৫ জন।