সম্বলহীন ফুলবাড়ীর হামিদা বেগম পাননি সরকারি ঘর ও সহায়তা

সাইফুর রহমান শামীম কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি : কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে দীর্ঘ দিন যাবত মানবেতর জীবন যাপন করছেন হামিদা বেগম (৫০) নামের এক বিধবা নারী । তিনি উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের নওদাবস গ্রামের মৃত খয়রেজ্জামাল মিয়ার স্ত্রী।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জরাজীর্ণ একটি ছোট্ট ঘরে হামিদা বেগমে বসবাস। ঘরটি দেখে বিশ্বাস হয়না এমন ঘরেও কেউ বাস করতে পারে। সেখানেই দেখা মিললো সহায় সম্বলহীন বৃদ্ধপ্রায় হামিদার। ভাঙ্গাচোরা ছোট্ট ঘরের এক কোণে রান্নার চুলা, হাড়ি পাতিল ও শোবার জন্য একটি চৌকি পাতানো।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে হামিদা বলেন, বাবা মোর কিছুই নাই। ১৩ বছর আগে মোর স্বামী মরি গেইছে। স্বামী মরার পরে বাপের বাড়ীত আসিয়া বাপের রাখি যাওয়া এই জাগা কোনাত ঘর তুলিয়া আছোং। মানুষের বাড়িত কামাই করিয়া কোন মতে খায়য়া না-খায়য়া দিন যায় মোর। ঘরটা দিন দিন ভাংগি যাইতেছে। কেমন করি যে থাকিম। ঝরি (বৃষ্টি) বাতাস হইলে মোর ঘর ওশসানি পানিতে ভিজি যায়। বিছনাত শুতপার পাংনা বাহে। ঝরি আইসলে বিছনাপাটি গোটেয়া ঘরের এক কোনাত বসি থাকং। মোর কষ্ট কাইয়ো দেখে না বাহে। তিনি আরো বলেন, এতদিন মোর শরীল ভাল আছলো মানুষের বাড়িত কাজ করিছোং। অ্যালা তো মোর শরীলে চলে না। বাঁচার তাগিদে এল্যা মুই মানুষের বাড়ীতে বাড়ীতে ভিক্ষা করোং। কেমন করি ঘরটা ঠিক করিম বাবা। মাইনসে বোলে বিদুয়া (বিধবা) ভাতা, মাতা (ভিজিডি) কার্ড, স্লিপ আর সরকারি ঘর পায়। মোর ভাগ্যে কি কিছুই নাই? মেম্বারক অনেকদিন থাকি কং কিছুই তো মোর ব্যবস্থা নেয় না।
এলাকাবাসী আবুল কাশেম, মজিবর রহমান, ফজলে উদ্দিন, মানিক মিয়া, আলেয়া বেগম ও মমিনা বেগম জানান, অনেক দিন থেকে এই মহিলা খুব কষ্টে দিন পার করলেও অদৃশ্য কারনেই তিনি ভাতা ও সরকারি ঘর পাচ্ছেন না। তার চেয়ে হতদরিদ্র এ এলাকায় আর কেউ নাই। চেয়ারম্যান মেম্বাররা যদি এখানে আসতো তাহলে তার এমন পরিস্থিতি দেখলে কোন না কোন ব্যবস্থা এতোদিনে হতো। আসলে কেউতো খোঁজ নিতে আসে না। হামিদা বেগমের মতো মানুষ যদি ভাতা ও সরকারি ঘর না পায় তাহলে এগুলো পাচ্ছে কারা।
বড়ভিটা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান খয়বর আলী মিয়ার সাথে এ প্রতিবেদক যোগাযোগ করলে তিনি হামিদা বেগমের এমন মানবেতর জীবন যাপনের ঘটনা শুনে দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন এতদিন তার বিষয়ে আমি কিছুই জানতাম না। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব হামিদা বেগমের দুর্দশা দুর করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবেন বলে জানান তিনি।