রাজারহাটে ২০হাজার পানিবন্দী মানুষ চরম দূর্ভোগে

সাইফুর রহমান শামীম কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি : হু হু করে বাড়ছে পানি,বাড়ছে জন দূর্ভোগ। ১৫দিনের ভারী বর্ষন ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তা ও ধরলা নদীতে পানি বৃদ্ধির কারনে কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ,ঘড়িয়ালডাঁঙ্গা,নাজিমখাঁন ও ছিনাই ইউনিয়নের নদী পার্শ্ববর্তী গ্রাম সহ বিভিন্ন স্থানে প্রায় ২০হাজার মানুষ পানি বন্দী হয়ে পরেছে।
জানা যায়,তীব্র গতিতে তিস্তা ও ধরলা নদীতে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে প্রতি মহুর্তে পানি বাড়ছে। তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধির কারনে রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের বিদ্যানন্দ,চরবিদ্যানন্দ,গাবুরহেলান,তৈয়বখাঁ,রামহরি,চতুরা ,রতি মৌজা ,ঘড়িয়ালডাঁঙ্গা ইউনিয়নের চরখিতাবখাঁ,সরিষাবাড়ি,বুড়িরহাট,গতিয়াশাম মৌজা,নাজিমখাঁন ইউনিয়নের সোমনারায়ন ও হাসারপাড় মৌজা এবং ধরলা নদীর পানি বৃদ্ধির কারনে ছিনাই ইউনিয়নের জয়কুমোর,কালুয়ারচর,কিং ছিনাই মৌজার হাজার হাজার একর ফসলী জমি পানির নীচে ডুবে গেছে। এসব গ্রামের অধিকাংশ বাড়িঘর বন্যার পানিতে ডুবে যাওয়ায় প্রায় ২০হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে মানবেতর দিনাতিপাত করছেন। বিভিন্ন স্থানে ভেসে গেছে তিন শতাধিক পুকুর ও বিলের মাছ। এসব এলাকার রোপা-আমনের বীজ তলা গুলোর অধিকাংশই নষ্ট হয়ে গেছে। গবাদি পশু নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন পানিবন্দি মানুষজন। গ্রামগঞ্জের অধিকাংশ কাঁচা রাস্তা গুলো পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পরেছে। এছাড়া বন্যা কবলিত এলাকায় শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। লোকজন আশ্রয়ন কেন্দ্র,উচু জায়গা ও রাস্তায় আশ্রয় নিচ্ছেন।
সরেজমিনে তিস্তা নদীর পানির নিচে ডুবে যাওয়া চরখতিবখাঁ গ্রামের রুহুল আমিন (৬০) সিরাজুল ইসলাম (৫৫) ও আমিনুর ইসলাম (৪২) জানান, “৫দিন ধরে পানিবন্দি থাকায় কাজ-কর্ম বন্ধ, টাকা হাতে না থাকায় হাটবাজারও করতে পাই না,ঠিকমত খাইতে পারিনা”। একই গ্রামের মহাম্মদ আলী (৭২) জানান,”চৌকি ধরনার তীরত বান্ধিয়া ছাওয়া গুলাক নিয়ে কষ্টে আছং বাবা”।
চরবিদ্যানন্দ ইউনিয়নের মজিবর রহমান (৪৮) জানান,“ হ্যামার বাড়ি নদী ভাংছে,বাড়ি সরেয়া মাইনষের জমিত ঘর তুললং”। চরবিদ্যানন্দ গ্রামের মনসুর আলী (৫৫) জানান,এই চরেই ৮০০ পরিবার পানির নীচত আছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আবু-বক্কর জানান,চরাঞ্চলগুলোতে শুকনো জায়গা না থাকায় গবাদি পশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন বন্যা কবলিত মানুষজন।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সাজিবুল করিম জানান,৪টি ইউনিয়নের পানিবন্দি ও বন্যার্ত মানুষদের জন্য ইতোমধ্যে আমরা ১৮ মেঃটন চাউল, ৯০হাজার টাকা এবং শিশু খাদ্যের জন্য নগদ ৫০হাজার টাকা বরাদ্দ পেয়েছি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাঃ যোবায়ের হোসেন জানান,পর্যাপ্ত ত্রাণ সামগ্রী রয়েছে তা দ্রুত বিতরন করা হবে। এছাড়া প্রয়োজন হলে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক আরো ত্রাণ সামগ্রীর ব্যবস্থা করবেন বলে জানিয়েছেন।
সোমবার দুপুরে কুড়িগ্রাম পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আরিফুল ইসলাম জানান, ধরলার পানি বিপদসীমার ৭৪সেন্টিমিটার উপরে এবং তিস্তার নদীর পানি বিপদ সীমার ১৯সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি কমে গেলে ভাঙ্গন প্রতিরোধে বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা সহ জরুরী ব্যবস্থা গ্রহনের কথা বলেন তিনি।