রংপুরে আটকে আছে করোনার সাড়ে ৯ হাজার নমুনা

করোনা শনাক্তে রংপুর মেডিকেল কলেজে স্থাপিত পিসিআর ল্যাবে সংগৃহীত সাড়ে ৯ হাজার জনের নমুনা আটকে আছে। একটি মাত্র ল্যাবে প্রতিদিন দুই শিফটে ১শ’ ৮৪টির বেশি নমুনা পরীক্ষা করা সম্ভব না হওয়ায়, প্রতিদিন বাড়ছে নমুনার জট। জমা পড়া নমুনা ঢাকায় নিয়ে পরীক্ষার অনুরোধ জানিয়ে আইইডিসিআরকে চিঠি দেয়া হলেও কোনো সাড়া মেলেনি।

করোনা পরীক্ষা করতে যাওয়া প্রায় প্রত্যেকেই অভিযোগ করছেন চরম ভোগান্তির। অনেক ভোগান্তির পর নমুনা দিতে পারলেও ফল পেতে পড়তে হচ্ছে আরেক বিড়ম্বনায়। ন্যূনতম ৭ দিন থেকে ১৩দিনও অপেক্ষা করতে হচ্ছে। আবার নমুনা দেয়ার পর সন্দেহভাজনের কোয়ারেন্টাইন বাধ্যতামূলক হলেও তা নিশ্চিত করার কোন প্রচেষ্টা নেই। ফলে নমুনা জমা দেয়া ব্যক্তিদের স্বাভাবিক চলাফেরার মাধ্যমে সংক্রমণের ঝুঁকি কেবল বাড়ছে।

ভুক্তভোগী কয়েকজন বলেন, টেস্ট করতে সময় লাগছে। এরপর করোনা পজিটিভ না নেগেটিভ সেটা বুঝতেও সময় লাগছে।

গত ৪ এপ্রিল থেকে এ পর্যন্ত মোট সাড়ে ১২ হাজার নমুনা পরীক্ষা করে ১ হাজার ২৪ জনের দেহে করোনার সংক্রমণ ধরা পড়ে। সাড়ে ৯ হাজার নমুনা এখনও জমা পড়ে আছে ল্যাবরেটরিতে। এসব নমুনা ঢাকায় নিয়ে পরীক্ষার আবেদন করে এখনও সুরাহা হয়নি বলে জানান কলেজের অধ্যক্ষ।

রংপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ নূরন্নবী লাইজু বলেন, ১ কোটি মানুষের মাঝে শুধু ১৮৮টি পরীক্ষা খুবই অপ্রতুল। প্রতিদিন প্রায় ৩০০ করে আসে, অতিরিক্তগুলো আমাদের কাছে আছে।

সিভিল সার্জন জানান, জেলায় করোনায় ১৩ জন মারা গেছেন। এর মধ্যে ৯ জনের করোনা নিশ্চিত হয়েছেন মৃত্যুর পর সংগৃহীত নমুনা থেকে।

রংপুরের সিভিল সার্জন হিরম্ব কুমার রায় বলেন, রংপুরে আরও একটি পিসিআর ল্যাব স্থাপন করা হলে আমরা এই সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসতে পারব।

করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে মোট ৮১০ জন চিকিৎসার সুযোগ পেয়েছেন। যাদের ৪শ ৪০ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।