গেদু চাচা খ্যাত সাংবাদিক মোজাম্মেল হক’র মৃত্যুতে ইউনানী পরিবারের শোক

সিলেট প্রতিনিধি : আশি-নব্বই দশকের ‘গেদু চাচা’ খ্যাত সিনিয়র সাংবাদিক, জাতীয় প্রেসক্লাবের স্থায়ী সদস্য ও ‘আজকের সূর্যোদয়’ পত্রিকার প্রধান সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা খোন্দকার মোজাম্মেল হক আর নেই। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর এএমজেড হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার (২৯ জুন) বিকাল ৪টার দিকে তিনি মারা যান (ইন্নালিল্লাহি…..রাজিউন)।
মুক্তিযোদ্ধা খোন্দকার মোজাম্মেল হক এর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দু:খ প্রকাশ করেছেন সাপ্তাহিক ইউনানী কন্ঠ’র সম্পাদক মন্ডলী ও সাংবাদিকবৃন্দ।
এক শোকবার্তায় ইউনানী কন্ঠ বলেন, খোন্দকার মোজাম্মেল হক-এর অকাল মৃত্যুতে সাংবাদিক সমাজের অপূরণীয় ক্ষতি সাধিত হল। একজন সক্রিয় মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তিনি আমৃত্যু মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষে অগ্রগামী সৈনিক হিসেবে ভূমিকা রেখেছেন। আমরা মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত ও শোকাহত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।
শোক বার্তা ইউনানী কন্ঠ মরহুমের কর্মময় জীবন সম্পর্কে আলোচনা করে বলেন, খোন্দকার মোজাম্মেল হক কয়েক দশক ধরে গেদু চাচা নামে কলাম লিখতেন। আশির দশকে সাপ্তাহিক সুগন্ধা ও পরে নব্বইয়ের দশকে আজকের সূর্যোদয়ের সম্পাদক ছিলেন। ষাটের দশকে বৃহত্তর নোয়াখালী জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তখন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ছাত্রদের নিয়ে গণআন্দোলন গড়ে তোলেন। স্বাধীনতা যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ঢাকাস্থ চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি ছিলেন তিনি।
উল্লেখ্য, খোন্দকার মোজাম্মেল হক শনিবার রাতে শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। এবং সেখানেই শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। এছাড়াও তিনি দীর্ঘদিন ডায়াবেটিসে ভুগছিলেন। মঙ্গলবার সকাল ৯টায় রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাসার কাছে মরহুমের প্রথম নামাজে জানাজা শেষে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে ছাগলনাইয়ায় গ্রামের বাড়িতে। সেখানে বিকাল পাঁচটায় দ্বিতীয় জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।
মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৮ বছর। তিনি স্ত্রী, তিন ছেলে ও দুই মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী, ভক্ত ও সহকর্মী রেখে গেছেন। ১৯৫২ সালের ২৬ নভেম্বর ফেনী জেলার ছাগলনাইয়ায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি।

সর্বশেষ সংবাদ