ছিটমহল বিনিময়: জমি নিয়েই সমস্যা জটিল আকারে

জিটিবি নিউজ ডেস্কঃ ছিটমহল বিনিময় চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর ভূমির মালিকানা নির্ধারণকেই বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে স্থানীয় প্রশাসন। এ নিয়ে গলদঘর্ম হতে পারেন তারা। দিনদিন সমস্যাটি জটিল আকার ধারণ করছে।
গত ৬৮ বছরে কখনো সাদা কাগজে, কখনো স্ট্যাম্পে জমির কেনাবেচা করেছেন ছিটমহলের মানুষ। কারো জমির রেজিস্ট্রি হয়েছে ভারতের ভূমি অফিসে। আগামী ৩১ জুলাই থেকে ভারতীয় ছিটমহলগুলো বাংলাদেশের অংশ হয়ে যাবে। সব রকম নাগরিক সুবিধা বঞ্ছিত মানুষেরা ফিরে পাবেন তাদের অধিকার।
ছিটমহল রয়েছে এমন চার জেলা পঞ্চগড়, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট ও নীলফামারী ঘুরে দেখা গেছে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই একই জমি কয়েকজনের কাছে বিক্রি করেছেন জমির মালিক। যেহেতু সাদা কাগজে লিখে হস্তান্তরিত হয়েছে, সে কারণে চারজনই জমির বৈধ মালিক বলে নিজেদের দাবি করতে পারেন। আবার অনেকের অভিযোগ, ছিটমহলগুলোতে যাঁরা চেয়ারম্যান ছিলেন তারা অনেক জমির জাল দলিল তৈরি করে টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। কোথাও আবার বাংলাদেশ থেকে অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তি গিয়ে জবরদখল করেছেন ছিটের জমি।লালমনিরহাটের বাঁশকাটা ছিটের বাসিন্দা বলরাম সেন অভিযোগ করেন, পার্শ্ববর্তী গ্রামের কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি ছিটের অনেক সম্পত্তি জোর করে ভোগদখল করছেন। একই অভিযোগ রামাই সেনের।
স্থানীয় অধিকাংশ মানুষেরই অভিযোগ, ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটির লালমনিরহাট ইউনিট শাখার সভাপতি শাহ আবদুল হামিদ আফতাবী জালিয়াতি করে ছিটের জমি দখল করেছেন। এ ব্যাপারে আবদুল হামিদ আফতাবী বলেন, ‘অভিযোগ থাকতেই পারে।’ তবে অভিযোগগুলো প্রমাণের চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন তিনি অভিযোগকারীদের প্রতি।ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটির কয়েকজন সদস্য নাম প্রকাশ না করে বলছেন, ‘কমিটির অনেক প্রভাবশালী নেতাই জমি দখল করেছেন এবং এখনো তারা দখলের চেষ্টা করে যাচ্ছেন। প্রতিদিন তারা আরো সক্রিয় হয়ে উঠছেন।আর এই পরিস্থিতিতে ২২ জুন থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত জমি বেচাকেনা বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন বলেন, ‘যেহেতু এখানে জমির কোনো রেজিস্ট্রেশন হয়নি, তাই এখানে অনেক সমস্যা তৈরি হয়েছে। ছিটমহলে বৈঠক করে আমাদের মনে হয়েছে ভূমি সমস্যার সমাধান করা কঠিন হবে।’ যেদিন থেকে ছিটমহল বিনিময় কার্যকর হবে তার পরদিন থেকে সার্ভে টিম কাজ করবে বলে জানান তিনি।
জটিল এই সমস্যার সমাধানে নিজের পরিকল্পনার কথা বলেন জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, ‘প্রতিটি উপজেলায় আমরা একটি কমিটি করতে পারি এসি ল্যান্ডকে প্রধান করে বা ইউএনওকে আহ্বায়ক করে। সেখানে সার্ভে টিমের একজন, স্থানীয় চেয়ারম্যান এবং তহসিলদার থাকতে পারেন। কমিটি এসব সমস্যা সমাধানে কাজ করবে।
তবে কেউ এই কমিটির সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হলে তিনি আপিল করার সুযোগ পাবেন। সরকারের সিদ্ধান্তের সঙ্গে সমন্বয় করেই এসব ক্ষেত্রে চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে জানান তিনি। যেসব মানুষ ভারতে চলে যেতে চাইবেন তাদের জমির কি হবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘২২ জুন থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত জমির কেনাবেচা বন্ধ থাকবে। তবে যাঁরা ভারতে চলে যেতে চান তারা পরেও জমি বিক্রি করতে পারবেন। কেউ ভারতে যাওয়ার সময় পর্যন্ত জমি বিক্রি করতে না পারলে তিনি জেলা প্রশাসকদের কাছে জমির কাগজ রেখে যাবেন। জেলা প্রশাসকরা পরবর্তীতে তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবেন।

সর্বশেষ সংবাদ