সেতাবগঞ্জ চিনিকলে ২৮ কোটি টাকার চিনি অবিক্রিত॥ ২মাস যাবত বেতন পাচ্ছে না শ্রমিক-কর্মচারীরা

দিনাজপুর প্রতিনিধি ঃ সেতাবগঞ্জ চিনিকলে গত দুই মাস ধরে শ্রমিক কর্মচারীদের বকেয়া বেতন বন্ধ ও সামনে ঈদকে সামনে রেখে বেতন পাওয়ার অনিশ্চয়তায় পরিবার পরিজন নিয়ে তারা চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন। এদিকে চিনিকলের গোডাউনে বিগত ৪টি মাড়াই মৌসুমে ৭ হাজার ৬শত ২৬ মেঃটন চিনি অবিক্রিত রয়েছে। যার বাজার মূল্য ২৮ কোটি ২১ লাখ ৬৯ হাজার ৪শত টাকার চিনি বিক্রি না হওয়ায় কর্তৃপ বেতন ভাতা পরিশোধ করতে পারছেনা। শ্রমিকরা জানায়, ফেব্রুয়ারী মাস থেকে মিলের শ্রমিক কর্মচারীরা বেতন ভাতার টাকার বিপরীতে ১০% কমিশন দিয়ে চিনি উত্তোলন করে বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে বেতন ভাতা উত্তোলন করলেও বাজারে দেশীয় চিনির কদর ও দাম না থাকায় এই সুযোগ টুকুও হাত ছাড়া হতে চলেছে। সেচিকের শ্রমিক ইউনিয়েনর সাধারন সম্পাদক হাবিবুর রহমান দুলাল জানান, চিনিকলের গত মে-জুন ও বর্তমান জুলাই মাসের শ্রমিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বকেয়া বেতন দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। সামনে ঈদ উপলে শ্রমিক কর্মচারীদের বেতনের পাশাপাশি ঈদ বোনাস দিতে না পারলে মিলটিতে চরম শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দিতে পারে। মিলের ব্যবস্থাপক (অর্থ) মোঃ নজরুল ইসলাম জানান, প্রতিমাসে মিলটিতে শ্রমিক কর্মচারী কর্মকর্তা ও ফার্মের লেবারদের আনুমানিক এক কোটি দশ লাখ টাকা বেতন ভাতা প্রদান করা হয়ে থাকে। এই টাকা চিনি ও মোলাসেস বিক্রি করেই পরিশোধ করার নিয়ম থাকলেও সময়মত চিনি বিক্রি না হওয়ার কারনে বেতন ভাতা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না।
তবে মিল কর্তৃপ ঈদের আগেই শ্রমিক কর্মচারীদের বেতন ভাতা পরিশোধ করার আপ্রান চেষ্ঠা চালাবেন বলে জানান।সেচিকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ শহিদ উলাহ্ জানান, সেতাবগঞ্জ চিনিকলের গোডাউনে গত ২০১১-২০১২ মৌসুমের ২৫১১.৮৫ মেঃটন, ২০১২-২০১৩ মৌসুমের ২৯৪৪.৯৫ মেঃটন, ২০১৩-২০১৪ মৌসুমের ৬২.২০ মেঃটন ও ২০১৪-২০১৫ মৌসুমের ২১০৭৩২০ মেঃটন সর্বমোট ৭ হাজার ৬শত ২৬ মেঃটন চিনি মজুদ রয়েছে। যার বর্তমান বাজার মূল্য ২৮ কোটি ২১ লাখ ৬৯ হাজার ৪শত টাকা প্রায়।
চিনি বিক্রি না হওয়ার কারন সম্পর্কে তিনি জানান, বাজারে সাদা চিনি ৪০ থেকে ৪২ টাকা বিক্রি হচ্ছে। অপরদিকে দেশীয় চিনি লালচে হওয়ায় বাজারে এর চাহিদা কম তবে ইতিমধ্যে দেশীয় কিছু চিনি রিফাইন করে প্যাকেট জাতের মাধ্যমে বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে। তারপরও বিপুল সংখ্যক চিনি অবিক্রিত থাকায় মিলটি চরম দেনার মধ্যে পড়েছে।