মান্দায় খাস জমি জবর দখল করে ব্যক্তিগত চেম্বার তৈরির চেষ্ঠা ভন্ডুল

মান্দা (নওগাঁ) প্রতিনিধি : নওগাঁর মান্দায় ডাক্তার অনিক কুমার মহুরী কর্তৃক প্রসাদপুর হাসপাতাল মোড়ের সরকারী খাস জমি জবর দখল করে ব্যক্তিগত চেম্বার তৈরির চেষ্ঠা ভন্ডুল করে দিল এসিল্যান্ড । ঘটনার দিন সকাল ৭টার দিকে সেখানে মিস্ত্রি দিয়ে একটি ইটের ঘর তৈরি করা হচ্ছিল। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে প্রসাদপুর হাসপাতাল মোড়ে এ ঘটনাটি ঘটে।
অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে জানা যায়,উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেক্সের এম.বি.বিএস ডাক্তার ও প্রসাদপুর গ্রামের অনিল চন্দ্র মহুরীর ছেলে ডা. অনিক কুমার মহুরী ডানো (৩০) সম্পতি এই স্বাস্থ্য কমপেক্সে যোগদান করেন। এরপর তার প্রতিবেশী ডিপোমা ডেন্টাল সহকারী নয়ন কুমার সুমনের বাসার দণি পার্শ্বের বাসার খাস খতিয়ানভূক্ত হাল দাগ নং ৫৮৫ এর মোট ২ শতক জমি জবর দখল করে ব্যক্তিগত চেম্বার তৈরির চেষ্ঠা করেন। এই ঘটনায় অভিযোগ পেয়ে সহকারী কমিশনা (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সাদেকুর রহমান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে চেম্বার তৈরির চেষ্ঠা করলে তা ভন্ডুল করে দেন। সেখানে প্রসাদপুর হাসপাতাল মোড়ের সরকারী খাস জমি জবর দখল করে ব্যক্তিগত চেম্বার তৈরির জন্য ৩০বর্গফুট বাই ১৫ বর্গফুট মাপের একটি ইটের ঘর তৈরি জন্য হেড মিন্ত্রি আশরাফুল ইসলাম সহ দুই জন শ্রমিককে (যোগাড়ী) অবস্থান করতে দেখা যায়। বর্তমানে তারা সেখানে জটলা পাঁকাচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এমনকি জোরপূর্বক সেখানে ঘর তৈরির জন্য সব কিছু ম্যানেজ করে প্রচেষ্ঠা করে যাচ্ছে। সেখানে ইট,বালি,লোহার রডসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণে ব্যবহৃত উপকরণ দেখতে পাওয়া যায়। ডা. ডানোর পিতা অনিল চন্দ্র মহুরী দীর্ঘ দুই বছর থেকে সেখানে বাঁশের চাঁটাই এর বেড়া দিয়ে ঘর তৈরি করে রেখেছে। বর্তমানে সেখানে বাঁশের চাঁটাই এর বেড়া বহাল রয়েছে। এ ব্যাপারে কেউ মুখ খুললে বা কোথাও অভিযোগ করলে তাদের নানা রকম ভয়ভীতিসহ হুমকি দেয়া হয়েছে। ফলে কেউ ভয়ে মুখ পর্যন্ত খুলছেন না। বর্তমানে ওই পরিবারটি আতঙ্কের মধ্যে বসবাস করছে। ওই পরিবারকে রাখা হয়েছে নজর বন্দি। বিষয়টি চাপাঁ দিতে চেষ্ঠা করা হলেও তা ফাঁস হয়ে পড়ে। এই ঘটনায় এলাকার লোকজনের মধ্যে চাঁপা ােভ ও হতাশা বিরাজ করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকেই জানান, ডাক্তার হয়ে ভূমি দস্যুর মতো আচরণ করা তার উচিত হয়নি। তার মতো সম্মানিত লোক যদি খাস জমি জবর দখল করে তাহলে ডাক্তার হয়ে সে জনগণের কি সুচিকিৎসা করবেন। এ ব্যাপারে ডাক্তার অনিক কুমার মহুরী ডানোর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকদের জানান,আমার পিতা ২০০৪ সালে ঐ জমি পত্তন নিয়েছে। তাদের কাগজপত্র রয়েছে। তবে তিনি কোন কাগজ দেখাতে পারেননি।
উলেখ্য,উক্ত ডা. অনিক কুমার মহুরী ডানোর মামাতো ভাই অভিজিৎ রায় পিনাকি নন্দীগ্রাম উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা । এ সংবাদ কেউ লিখলে উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি মোলা মো: এমদাদুল হকের নাম করে ভয়ভীতি দেখানো হয়।
সহকারী কমিশনা (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সাদেকুর রহমান জানান, অভিযোগ পেয়ে তিনি সেখানে গিয়ে কাজ বন্ধ করে দেন।