৫ বছর বয়সেই পরিচয় পত্র, চালু হচ্ছে ঈদের পর

মহামারী করোনার ছোবলে বিপর্যস্ত দেশের অর্থনীতি ও ব্যবসা-বাণিজ্য। তবে যেসব দেশ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিতে (আইসিটি) এগিয়ে তারা করোনাকালে বাড়তি সুফল পাচ্ছে। দ্রুত ডিজিটাল প্রযুক্তির প্রসারে এগিয়ে থাকা দেশের তালিকায় উঠে এসেছে বাংলাদেশের নাম। সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ কর্মসূচির আওতায় গত ১১ বছরে গড়ে ওঠা তথ্য-প্রযুক্তি অবকাঠামোই এ কঠিন পরিস্থিতি সামাল দিতে কাজে লাগছে বলে মনে করছেন তথ্য-প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা। এবার তারই ধারাবাহিকতায় দেশের তিন কোটির বেশি শিক্ষার্থীর জন্য ইউনিক আইডি (একক পরিচয়) দেওয়ার কাজ শুরু করবে সরকার।

করোনাকালীন ছুটি শেষ হওয়ার পর এ কার্যক্রম শুরু হবে। পাঁচ বছর বয়সী প্রাক-প্রাথমিকের শিক্ষার্থী থেকে ১৭ বছর বয়স পর্যন্ত দ্বাদশ শ্রেণির সব ছাত্র-ছাত্রী পাবে এই ইউনিক আইডি। ১৮ বছর বয়সে ইউনিক ১০ ডিজিটের আইডির নম্বরেই পাবে শিক্ষার্থীরা পাবে জাতীয় পরিচয়পত্র। শিক্ষার্থীদের এই ইউনিক আইডি দেওয়া শুরু হবে মুজিববর্ষেই।

জানা যায়, ২০১০ সালে একটি সমন্বিত ও কার্যকর ‘সিভিল রেজিস্ট্রেশন অ্যান্ড ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকস’ (সিআরভিএস) ব্যবস্থা গড়ে তুলতে নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রত্যেক নাগরিককে ইউনিক আইডি দেওয়ার নির্দেশনার আট বছর পর গত বছর শিক্ষার্থীদের টার্গেট করে ইউনিক আইডি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এই আইডিতে বিদ্যমান জাতীয় পরিচয়পত্রের চেয়ে বেশি তথ্য থাকবে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ‘প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জন্য প্রোফাইল প্রণয়ন’ এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইস) -এর ‘এস্টাবলিশমেন্ট অব ইন্টিগ্রেটেড এডুকেশনাল ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ (আইইআইএমএস) শীর্ষক দুটি প্রকল্পের মাধ্যমে এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন জেনারেলের কার্যালয় ও নির্বাচন কমিশনের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনিআইডি) অনুবিভাগসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সরকারি দপ্তরের সহায়তায় এই কার্যক্রম চলছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. ফসিউল্লাহ্ বলেন, ‘ছুটির পর পুরো কাজ শুরু হবে। মুজিবর্ষেই শিক্ষার্থীদের হাতে ইউনিক আইডি দিতে পারবো। আগামী জুন মাসের মধ্যে আইডি দেওয়ার কাজ শেষ করতে পারবো।‘

ব্যানবেইস-এর ‘এস্টাবলিশমেন্ট অব ইন্টিগ্রেটেড এডুকেশনাল ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক শামসুল আলম বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের আইডি দেওয়ার জন্য আমরা প্রস্তুত আছি। কিন্তু করোনার কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় কাজ করতে পারছি না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিলে আইডির কার্যক্রম শুরু করবো।’

এদিকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চলমান ছুটি ৩১ আগস্ট ২০২০ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। এই সময়ে দেশের সব রকমের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে।

মঙ্গলবার শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

 

সর্বশেষ সংবাদ