ধামইরহাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মচারীরা যুগের পর যুগ একই কর্মস্থলে

ধামইরহাট (নওগাঁ) প্রতিনিধিঃ ধামইরহাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মচারীদের বিরুদ্ধে দেড় যুগ ধরে বিনা বরাদ্দে ভাড়া ছাড়াই সরকারী বাসা ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে এবং সরকারী বিধি লংঘন করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অনেক কর্মচারীরা যুগের অধিক, কেউ দুই যুগ আবার তিন যুগ ধরেও একই কর্মস্থলে চাকুরী করছেন। ফলে দিন দিন বেড়ে চলেছে স্বজনপ্রীতি, অনিয়ম আর র্দুনীতি, একই স্থানে চাকুরী করার সুযোগে সিন্ডিকেট তৈরী করে হাসপাতালের অনিয়মগুলো কে নিয়মে পরিণত করেছে কর্মচারীরা। জানা গেছে, হাসপাতালের উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার (স্যাকমো) লাইলী বেগম প্রায় তিন যুগ ধরে ধামইরহাটে অবাধে চাকুরী করছেন, অপরদিকে ওই হাসপাতালের নার্স বিলকিস বানু ২৯ বছর, স্বাস্থ্য সহকারী শাহাদৎ হোসেন ৩২ বছর, হাসপাতালের প্রধান সহকারী আনোয়ার হোসেন প্রায় ১৩ বছর ধরে একই কর্মস্থলে ধামইরহাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চাকুরী করছেন। আর একই কর্মস্থরলে যুগের পর যুগ চাকুরী করার কারণে নানান রকমের র্দূনীতি ও অপরাধের সাথে জড়িয়ে পড়েছে স্বাস্থ্য কর্মচারীরা। রোগী সহ রোগীর আত্মীয় স্বজনের সাথে দুর‌্যবহার তাদের এখন নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব অনিয়মের প্রতিবাদ করায় সম্প্রতি ধামইরহাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তিন যুগ ধরে চাকুরীরত উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার (স্যাকমো) লাইলী বেগম হাসপাতালের অভ্যন্তরে সাংবাদিকের উপরও হামলা করার মত দুঃসাহস পেয়েছে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সুএে জানা গেছে, এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এমএলএসএস রিয়াজ উদ্দিন ১৯৯৪ সালে চাকুরীতে যোগদানের পর থেকে প্রায় ১৯ বছর যাবৎ বরাদ্দ ছাড়াই সরকারী বাসায় বসবাস করছে। এতে সরকারের রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে প্রায় সাড়ে ৭ লক্ষাধিক টাকা। এছাড়াও ল্যাবরেটরী সহকারী সফুরা বেগম ৫ বছর, ইপিআই টেকনিশিয়ান সাইদুর রহমান ২ বছর যাবৎ, মেডিক্যাল টেকনোলজিষ্ট তরিকুল ইসলাম ২ বছর যাবৎ, কম্পাউন্ডার আনন্দ কুমার ১ বছর যাবৎ, অফিস সহকারী ইসমত আরা ২ বছর যাবৎ বিনা ভাড়ায় সরকারী বাসায় বসবাস করছেন। এ সকল কর্মচারীদের নামে বাসা বরাদ্দ না থাকায় অবৈধ হিটার জ্বালিয়ে তারা প্রতিদিনের রান্নার কাজ করেন। আর এই বিপুল পরিমান বৈদুতিক বিল সরকারী ভাবেই বহন করা হয়ে থাকে। এতে সরকাররে প্রতি বছর দুই লক্ষাধিক টাকা অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল খেসারত যায়। যা দেখার কেউ নেই। এ ছাড়াও বিনা বরাদ্দ ও অবৈধ ভাবে হাসপাতালের কোয়াটারে থাকা প্রধান সহকারী আনোয়ার হোসেন সরকারী কাজে কর্মচারীদের নিকট থেকে ঘুষ নেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। কর্মচারীদের ইনক্রিমেন্ট, শ্রান্তি বিনোদন ও ভ্রমন ভাতা সহ বিভিন্ন কাজে উৎকোচ না দিলে হয়রানী করে দিনের পর দিন বিভিন্ন অযুহাতে কাজ ফেলে রাখে বলে জানা গেছে। প্রধান সহকারী অনোয়ার হোসেন চাকুরীর প্রভাবে হাসপাতাল চত্তরে গরু ছাগল পালন করে একটি গো খামারে পরিণত করেছেন। রিয়াজ উদ্দিনসহ হাসপাতালের কর্মচারীরা সরকারী গাছ কেটে কাঠ ও খড়ি নিজেদের কাজে ব্যবহার করে। বর্তমান উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডাঃ গঙ্গাঁ গোবিন্দ পাল নিজেই নিয়মিত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে না থাকার কারনে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মচারীদের অনিয়মগুলোই যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে। এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডাঃ গঙ্গাঁ গোবিন্দ পালের সাথে কথা বলা হলে তিনি জানান, সরকারী কোয়াটারে আগে যারা যে ভাবে বসবাস করছিলেন, এখনও তারা সেভাবেই বসবাস করছেন। সেটা সরকারী নিয়মনীতির মধ্যে পড়ছে কিনা জানতে চাইলে বিষযটি তিনি এড়িয়ে যান। একই উপজেলায় যুগের পর যুগ ধরে চাকুরীর বিষয়ে কথা বলা হলে নওগাঁর সিভিল সার্জন ডাঃ একেএম মোজাহার হোসেন জানান, সরকারী চাকুরীর বিধিমালা অমান্য করে বরাদ্দ ব্যতিত সরকারী বাসভবন কেউ ব্যবহার করলে তার বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আর যুগের পর যুগ ধরে যারা একই কর্মস্থলে চাকুরী করছে তাদের বিষয় খতিয়ে দেখা হবে। অনিয়ম আর দূর্নীতিবাজ কোন কর্মচারীকে কোন প্রকার ছাড় দেয়া হবে না। তিনি অবিলম্বে তদন্ত কমিটি গঠন করে বিষয়গুলো তদন্ত করে দেখবেন বলেও জানান।