ভারতে মাদ্রাসা ছাত্রদের ‘স্কুলছুট’ ঘোষণায় ক্ষোভের সৃষ্টি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভারতের মহারাষ্ট্রে মাদরাসা ছাত্রদের ‘স্কুলছুট’ ঘোষণা করায় তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে সংখ্যালঘু মুসলিমদের মধ্যে। রাজনীতিক মহলেও এ নিয়ে প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। মহারাষ্ট্রের বিজেপি পরিচালিত সরকার এক সিদ্ধান্তে জানিয়েছে, মাদ্রাসায় অঙ্ক, ইংরেজি, বিজ্ঞান পড়ানো হয় না এবং সেখানে সব ধর্মের ছাত্ররা ভর্তি হতে পারে না, তাই তাকে স্কুল হিসেবে গণ্য করা যায় না।
রাজ্যের সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী একনাথ খাদসে বলেছেন, মাদ্রাসায় ধর্ম বিষয়ে শিা দেওয়া হয়ে থাকে এজন্য অন্যান্য বিষয় পড়ানোর জন্য বলা হয়েছে। অন্যথায় মাদ্রাসাকে প্রথাগত শিাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে গণ্য করা হবে না। খাদসে জানান, তার মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য জানিয়ে সংখ্যালঘু দফতরের প্রিন্সিপ্যাল সেক্রেটারি জয়শ্রী মুখার্জি স্কুল শিা ও ক্রীড়া দফতরের প্রিন্সিপ্যাল সেক্রেটারি নন্দ কুমারকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।তিনি বলেন, ‘রাজ্যে ১৮৯০টি মাদরাসা আছে। এর মধ্যে ৫৫০টি মাদরাসা ইংরেজি, অঙ্ক ও বিজ্ঞানের মতো প্রথাগত বিষয়গুলো শিা দিতে রাজি হয়েছে। ছাত্ররা যাতে প্রথাগত শিা পায় সেজন্য আর্থিক সহায়তা করতেও আমরা প্রস্তুত রয়েছি।’
সংখ্যালঘু বিষয়কমন্ত্রী একনাথ খাদসে এ ভাবে মন্তব্য করলেও বিষয়টি মোটেও ভালো চোখে দেখছে না সংখ্যালঘু মুসলিম সংগঠন। অল ইন্ডিয়া মজলিশ-ই ইত্তেহাদুল মুসলেমিন প্রেসিডেন্ট আসাদউদ্দিন ওয়াইসি এ নিয়ে পাল্টা প্রশ্ন তুলে বলেছেন, বেদিক শিা নেয়া ছাত্রদেরও কি স্কুল শিার বাইরে রয়েছে বলে মনে করা হবে? তিনি বলেন, অনেক মাদরাসা রয়েছে যেখানে অঙ্ক, ইংরেজি, বিজ্ঞান ইত্যাদি পড়ানো হয়। মাদরাসা থেকে শিা নেয়া ছাত্ররা অনেক েেত্র এগিয়ে গেছে এমনকি সিভিল সার্ভিস পরীাতেও তারা সফল হয়।
জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ-এর সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মাহমুদ মাদানি বলেছেন, এ সিদ্ধান্ত কখনো গ্রহণযোগ্য নয়। কংগ্রেস মুখপাত্র সঞ্জয় নিরুপম সরকারি সিদ্ধান্তকে ‘অসাংবিধানিক’ আখ্যা দিয়ে বলেছেন, কোনো শিশুকে ধর্মের নিরিখে গণ্য করা ঠিক নয়। এটা স্কুল ছাত্রেদের বাছতে গিয়ে বিভাজন নীতি। এর বিরুদ্ধে মহারাষ্ট্র বিধানসভায় তার দল সরব হবে বলেও জানিয়েছেন সঞ্জয় নিরুপম। সব মিলিয়ে মাদরাসা শিা নিয়ে রাজ্যের বিজেপি সরকারের পদপে প্রসঙ্গে ধর্মীয় ও রাজনীতিক মহলে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।