পেঁয়াজের বাজার অস্থির,কেজিতে বেড়েছে ১০-১৫ টাকা

পেঁয়াজের বাজার আবার অস্থির হতে শুরু করেছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে সব ধরনের পেঁয়াজ কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ক্রেতারা বলছেন, পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলেও বাজার কারসাজি করছেন বিক্রেতারা। কৃষি বিশেষজ্ঞরা, পেঁয়াজের অযৌক্তিক দামবৃদ্ধি ঠেকাতে এখনই বাজার তদারকির তাগিদ দিয়েছেন। কৃষিমন্ত্রী বলছেন, পেঁয়াজের বাজার থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে, দু’একদিনের মধ্যে সার্বিক পরিস্থিতির একটা তুলনামূলক চিত্র পাওয়া যাবে।

দেশে পেঁয়াজের উৎপাদন ও চাহিদা কতো সেটা নিয়ে একেক প্রতিষ্ঠানের ভিন্ন ভিন্ন তথ্য রয়েছে। কৃষি বিভাগ বলছে, চলতি বছর উৎপাদন হয়েছে প্রায় ২৪ লাখ মেট্রিক টন। এরমধ্যে সংরক্ষণ দুর্বলতায় পচে যায় ৩০ শতাংশ যা প্রায় সাড়ে সাত লাখ মেট্রিক টন । বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ইতোমধ্যে ভারত থেকে ৮ লাখ মেট্রিক টনের বেশি পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। এসব পরিসংখ্যান বলছে দেশে পেঁয়াজের কোনও ঘাটতি নেই। কিন্তু তারপরও এক সপ্তাহের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত।

গত বছর অক্টোবরের ভারত পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দিলে এর ঝাঁজ ঠেকে প্রায় তিনশো টাকায়। এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে এখনই শক্ত পদক্ষেপ নেয়ার তাগিদ দেন এ বিশ্লেষক।

কৃষিখাতের বিশেষজ্ঞ নজরুল ইসলাম বলেন, পেঁয়াজ পর্যাপ্ত আমদানি করা আছে। বাজারে মজুদও রয়েছে। তারপর একটি চক্র দাম বৃদ্ধি করে নৈরাজ্য সৃষ্টি করছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, অবৈধ মজুত বা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির মাধ্যমে পেঁয়াজের মূল্য বাড়ানোর চেষ্টা করা হলে সরকার কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেবে।

কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আমরা বলছি ইমপোর্ট বাড়ানোর জন্য। আমরা ওয়াচ করছি, আমাদের কৃষি মার্কেটং ডিপার্টমেন্ট তারাও বাজারে খোঁজখবর নিচ্ছে। আরো একদিন দুদিন পরে একজ্যাক্ট তথ্যগুলো আমি জানাবো। কেমন উৎপাদন এবং কতটা ইমপোর্ট হয়েছে পরিসংখ্যানগুলো নিয়ে তুলনামূলক একটা বিচার করবো। এবার এত বৃষ্টি, ময়েশ্চার, নষ্টও হয়েছে অনেক। সামারে উঁচু জমিতে পেঁয়াজ করা যাবে সেই ভ্যারাইটি আমরা পেয়েছি। এটা আমরা ডেসিমিনেট করার চেষ্টা করছি।

এ অবস্থায় পেঁয়াজের বাজারে অস্থিরতা কমাতে টিসিবি আগামী ১৩ তারিখ থেকে খোলাবাজারে পেঁয়াজ বিক্রি শুরু করবে বলে জানিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ।