শাজাহানপুরে কলেজ অধ্যক্ষকে হুমকি ৫ লক্ষ টাকা চাঁদা না দিলে খুন করে লাশ গুম,থানায় অভিযোগ

সজিবুল আলম সজিব শাজাহানপুর(বগুড়া)প্রতিনিধি:বগুড়ার শাজাহানপুরের গোহাইল ইসলামিয়া স্কুল এ্যান্ড কলেজের গভনিং বডির সভাপতি হতে না পেরে কলেজ অধ্যক্ষের কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছে উপজেলা যুবলীগের প্রভাবশালী এক নেতা। চাঁদা না দিলে খুন করে লাশ গুম করে ফেলার হুমকিও দিয়েছেন ওই যুবলীগ নেতা। এ ঘটনায় মঙ্গলবার সকালে শাজাহানপুর থানায় এজাহার দায়ের করেছে প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ।
জানা গেছে, গোহাইল ইসলামিয়া স্কুল এ্যান্ড কলেজের গভনিং বডির এড্হক কমিটির সভাপতি হতে চেয়েছিলেন উপজেলা যুবলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি আলী ইমাম ইনোকী। কিন্তু কলেজ অধ্যক্ষ মোতাহার হোসেন গত ২ সেপ্টেম্বর যুবলীগ নেতা আলী ইমাম ইনোকীর নাম বাদ দিয়ে সভাপতি পদে তিন জনের নাম রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে প্রস্তাবনা পাঠায়। প্রস্তাবনায় ১ নম্বরে রাখা হয়েছে, গোহাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিএনপি থেকে আওয়ামীলীগে যোগদানকারি আলী আতোয়ার তালুকদার ফজু, ২ নম্বরে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সহ-সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক ও ৩ নম্বরে আতাউর রহমান নামের এক ব্যক্তিকে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে যুবলীগ নেতা আলী ইমাম ইনোকী ও তার সহযোগীরা কলেজ অধ্যক্ষকে বিভিন্ন সময়ে মোবাইল ফোনে পাঁচ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে । চাঁদা না দিলে হত্যাসহ বিভিন্ন ধরনের হুমকি দামকি দিতে থাকে। এর ধারাবাহিকতায় গত ১৪ সেপ্টেম্বর সোমবার সকাল সাড়ে ৯ টার সময় যুবলীগ নেতা তার দল-বল নিয়ে অধ্যক্ষের কৈগাড়ী বাসাতে গিয়ে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে পুনরায় পাঁচ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে। বাসার আসবারপত্র তছনছ করে। চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে কলেজ অধ্যক্ষকে তারা অপহরণ করে নিয়ে যাওয়ার জন্য ধস্তাধস্তি শুরু করে। তখন কলেজ অধ্যক্ষ ও তার স্ত্রী’র চিৎকারে আশে পাশের লোকজন এগিয়ে এলে তারা অপহরণ করে নিয়ে যেতে ব্যর্থ হয়। যুবলীগ নেতা ও তার সহযোগীরা যাবার সময় কলেজ অধ্যক্ষকে বলে যায়, যে কোন ভাবে তারা পাঁচ লক্ষ টাকা আদায় করবে। আদায়ে ব্যর্থ হলে তারা প্রয়োজনে খুন করে লাশ গুম করে ফেলবে।
অপরদিকে এজাহারের প্রধান অভিযুক্ত উপজেলা যুবলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি আলী ইমাম ইনোকী বলেন, তিনি এড্হক কমিটির সভাপতি প্রার্থী ছিলেন। তার নাম প্রস্তাবনায় পাঠানোর জন্য অধ্যক্ষ মোতাহার হোসেনকে তার দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দরা মোবাইল ফোনে তদবির করেছিলেন। অধ্যক্ষ রাজিও হয়েছিল তার নাম প্রস্তাবনায় রাখার জন্য। কিন্তু গত ২ সেপ্টেম্বর অধ্যক্ষ তার নাম বাদ দিয়ে আওয়ামীলীগে অনুপ্রবেশকারী ৫ম ও ৮ম শ্রেণী পাশের তিন জনের নামের প্রস্তাবনা গোপনে বোর্ডে পাঠায়। বিষয়টি জানতে পেরে অধ্যক্ষের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করি। কিন্তু তিনি ফোন রিসিফ করেননি। তাই বাধ্য হয়ে গত সোমবার বাসায় যাই। বাসার বাহিরে গেটে অধ্যক্ষের সাথে আমার শান্তিপূর্ণ কথা হয়। আমার নাম কেন বাদ পড়লো জানতে চাই? আর কি কারণে গোপনে কমিটি বোর্ডে পাঠানো হল সেটার ব্যাখা চাই? কিন্তু অধ্যক্ষ কোন সুদৃত্তর দিতে পারেনি। তিনি আরো বলেন, আগামী দিনে আমি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রার্থী। আমাকে রাজনৈতিক ভাবে হেয় করার জন্য আওয়ামীলীগে অনুপ্রবেশকারীদের সাথে লিয়াঁজো করে অধ্যক্ষ আমার নামে অপপ্রচার ও সাজানো অভিযোগ দায়ের করেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে থানার অফিসার ইনচার্জ(সার্বিক) আজিম উদ্দিন এজাহার দায়েরের সতত্যা নিশ্চিত করে বলেন, তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে ।