বগুড়া প্রেসক্লাবে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন

প্রেস রিলিজ: বগুড়া প্রেসক্লাবের প্রিয় সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা প্রথমে আমার সালাম ও শুভেচ্ছা নিবেন। আমি মো: আজমল হোসেন পিতা মো: আকবর আলী, গ্রাম: নুরইল পূর্বপাড়া, থানা ও জেলা: বগুড়া অদ্য বগুড়া প্রেসক্লাবে উপস্থিত হইয়া এই মর্মে সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলিতেছি যে, আমি একজন প্রবাসী বাঙালী। দীর্ঘদিন বিদেশ থেকে বহু কষ্টে টাকা পয়সা উপার্জন করে এনে ৫ শতক জমি কিনে ভোগদখল শুরু করেছি। উক্ত আবাদী জমি লইয়া আমার এলাকার অত্যন্ত নিকৃষ্ট, অসৎ, একাধিক স্বামী পরিত্যাক্তা নারী, এলাকার বিশিষ্ট দাঁদন ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত ছালমা বেগম গত ১৪ সেপ্টেম¦র বগুড়া প্রেসক্লাবে এসে আমাকে জড়িয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে যেসব বক্তব্য পেশ করেছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট, ভুয়া, যোগসাজসী ও ভিত্তিহীন। আমি উক্ত সংবাদ সম্মেলনের তীব্র প্রতিবাদ করছি এবং উক্ত সংবাদ সম্মেলনের তীব্র নিন্দা প্রকাশ করছি।

প্রিয় সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা
উক্ত ছালমা বেগম তার প্রাক্তন প্রবাসী স্বামী জনৈক আনছার আলী পিতা: শরিফ উদ্দীন প্রাং, সাং চালিতাবাড়ী, থানা ও জেলা বগুড়ার নিকট থেকে তার প্রবাসজীবনের সমস্ত ধন সম্পদ লুটে নিয়ে বর্তমানে বগুড়া শহরের হাকিরমোড় এলাকার দুলু মন্ডলের ছেলে চিহ্নিত অস্ত্র ব্যবসায়ী, একাধিক মামলার পলাতক আসামী মুরাদ হোসেনকে বিবাহ করিয়া এলাকায় দাপটের সাথে মাদকদ্রব্য বিক্রিসহ বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ কর্মকান্ডের সাথে জড়িয়ে পড়েছে। এই ছালমার বিরুদ্ধে কারও কথা বলার সাহস নেই। তার অন্যায় কর্মকান্ডের কেউ বিরোধিতা করলে তাকে বিভিন্ন মামলা মোকদ্দমা দিয়ে ও পুলিশ দিয়ে হয়রানির ভয় দেখায় সে আগে দুইটি মামলা করেছে এবং গতকালও একটি মামলা করেছে আমার বিরুদ্ধে। এজন্য তার অন্যায় কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে কেহ কথা বলতে সাহস পায়না। যার প্রমাণ আপনারা গত ১৪ সেপ্টেম্বর তার মুখেই শুনেছেন।

জাতীর বিবেক সাংবাদিক বন্ধুগণ প্রকৃত ঘটনা হলো জেলা বগুড়া, সদর উপজেলার জেএল নং ৩৩, নূরইল মৌজার এম.আর.আর ১৪৬, খতিয়ানভুক্ত ৩.৪৪ শতক জমির এক রায়তি স্থিতিবান জোত কলিম উদ্দীন দিং নামে লেখা যাইতো। উক্ত জোতে কলিমমুদ্দিনের ছেলে স্বত্ববান ও দখিলকার থাকাবস্তায় মৃত্যুবরণ করিলে তাহার ত্যাক্ত জোতে একম পুত্র আব্দুল লতিফ দ্বিতীয় পুত্র ঠান্ডা মিয়া ৩য় পুত্র তোফাজ্জল তাহার ফুফু জায়দার কাছে কবলা দলিল হিসাবে বিক্রয় করে দেয় দিং ৩৭০ নং দাগে স্বত্ববান ও দখিলকার থাকাবস্থায় জায়দা খাতুন গত ইং ০৩-০৮-১৯৮৯ তারিখে ১১৯০০ নং কবলা দলিলমূলে উক্ত ১ম পুত্র আব্দুল লতিফ ২য় পুত্র ঠান্ডা মিয়া, ৩য় পুত্র তোফাজ্জল দিং এর নিকট হইতে খরিদ করিয়া লইয়া তাহার নামে ১৫৪ নং আর. এস খতিয়ান ভুক্ত করিয়া লইয়া স্বত্ববান থাকাবস্থায় মৃতবরণ করিলে তাহার ত্যাক্ত জোতে পুত্র আলা উদ্দীন, জালাল, মোসলেম, মাহবুবুর, ও কন্যা জাহানারা, শেফালী কহিনুর, মায়ের ওয়ারিশসূত্রে অংশপ্রাপ্ত হইয়া স্বত্ববান ও দখিলকার থাকাবস্থায় জালাল, মোসলেম ও মাহবুবর তাদের বোন জাহানারা, শেফালী, কহিনুর ও এক ভাই আলাউদ্দীনের নিকট হইতে গত ইং ০৬-০৪-২০১০ তারিখে ৭৩৭ নং দলিলমূলে প্রাপ্ত হইয়া সহকারী ভূমি সদর সাহেবের ইং ০৬-০২-২০২০ তারিখ ৩০৬৫ (ওঢ-ও)১৯-২০ নং খারিজী আদেশ বলে যাহা ১১৬৬ নং হিসাব মূলে ৫ শতক জমিতে স্বত্ববান ও দখিলকার থকাবস্থায় তাহা সবাই আজমলের নিকট কবলা বিক্রয় করিয়া নি:স্বত্ব হয়েছে। যাহার দলিল নং ২০৫১, তারিখ :২৬/০২/২০২০ ইং চৈাহিদ্রি উত্তরে ছালমা দক্ষিণে রাস্তা পূর্বে রিজাউল পশ্চিমে মোজাম্মেল।
উক্ত ছালমা বেগম এলাকাবাসীর বাধার মুখে তাহার ক্রয়কৃত জমির পার্শ্বের রাস্তা দখল করিয়া উক্ত স্থানে একটি ঘর নির্মান করিয়া আমার কবলা ক্রয়কৃত উক্ত সম্পত্তির সামনের অংশ দখল করিয়া রাস্তা বানানোর চেষ্টা করিলে আমরা তাহার এমন অন্যায় কাজে বাধা দিতে আসিলে ছালমা তাহার মাস্তান স্বামীর গুন্ডবাহিনীদের ডাকিয়া আনিয়া বিগত ০৭-০৭-২০২০ ইং তারিখ দুপুরে আমাদের উপর হামলা করে। এঘটনায় আমি বিজ্ঞ আদালতে মামলা দায়ের করেছি। এছাড়াও উক্ত ছালমা বেগমের হাত থেকে বাচার জন্য শতাধিক এলাকাবাসীর গণস্বাক্ষর লইয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, ইউনিয়ন পরিষদসহ বিভিন্ন মহলে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। সেখানেও ছালমার বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিগণ সুপারিশ করেছেন। এছাড়াও এই ছালমা তার দাদন ব্যবসা চালাতে গিয়ে জনৈক মাবিয়া বেগম নামে এক মহিলার নিকট ফাকা চেক লইয়া তার আপস্থাভাজন ব্যক্তি নাজমুল শেখ জনির নামে কৌশলে চেকটি ডিজঅনার করিয়া লইয়া তাকে দিয়া বিজ্ঞ আদালতে মামলা দায়ের করিয়াছে। মামলা নং ১৬১৪সি/১৯ (সদর)। এছাড়াও ছালমার বিরুদ্ধে এলাকায় আরও বহু অভিযোগ রয়েছে। জাতীর বিবেক সাংবাদিক ভাইরা, নুরইল গ্রামে গিয়ে সরেজমিনে তদন্ত করিলে সত্যতা জানিতে পারিবেন। আমি জমি কেনার পর থেকে আমার জমি গ্রাস করিয়া নেবার জন্য ছালমা আমার বিরুদ্ধে তিনটি মামলা দায়ের করেছে। অন্যের জমি দখল সহ নানা অভিযোগে এলাকাবাসী গত ০৮/০৯/২০২০ ইং তারিখে ছালমা বেগম ও তার সন্ত্রাসী স্বামীকে গ্রেফতারের দাবীতে মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করেছে। যা বিভিন্ন পত্রপত্রিকা সহ টিভি চ্যালেনে দেখানো হয়েছে।

প্রিয় কলমযোদ্ধা ভাই ও বোনেরা
ছালমা বেগমের এমন নিকৃষ্ট সমাজ বিরোধী কর্মকান্ডের ব্যাপারে এলাকার ইউপি সদস্য ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা একাধিকবার শালিস বৈঠক করেছে। সেই শালিশে ছালমা বেগম ও তার সাঙ্গপ্গারা কেহই উপস্থিত হয় না। সর্বশেষ এলাকাবাসীর কাছে না পেরে সে গত কয়েকদিন আগে আমার বিরুদ্ধে বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে ১৪৪/১৪৫ ধারায় মামলা দায়ের করেছে। যেখানে বিজ্ঞ আদালত ঘটনাস্থল তদস্ত করে নালিশী জমি কে দখল করেন তাহার প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। আমি আইনের পক্ষের মানুষ। আমি আইনকে শ্রদ্ধা করি। আইনের মাধ্যমে যদি ছালমা আমার জমি পায় তাহলে আমি দিতে বাধ্য থাকিব কিন্তু সন্ত্রাসী কায়দায় জোর জুলুম করে আমার জমি জোরপূর্বক বেদখল করিতে দেবো না। এ জন্য আমি সাংবাদিক ভাই ও বোনদের দারস্থ হয়েছি। সে মামলাও করেছে এবং আমার বিরুদ্ধে এসে সংবাদ সম্মেলন করে আমার চৌদ্দ গুষ্টি উদ্ধার করেছে। আমি বাধ্য হয়ে আজ ছালমা বেগমরে উক্ত সংবাদ সম্মেলনের প্রতিবাদ করিতেই মূলত আজকের সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছি। আমি আপনাদের মাধ্যমে প্রশাসনের সহযোগিতা চাই। কারণ বিদেশে চাকুরি করে দেশে যে টাকা পাঠিয়েছি তার রেমিটেন্স সরকারকে দিতে হয়েছে। আমি আশাবাদি আমি সকলের নিকট ন্যায় বিচার পাবো। আমার বিশ্বাস ছালমা বেগম আমার নিকট থেকে জোর করে আমার জমি দখল করে নিক তা কেহই চান না। তাই আমি আপনাদের কাছে আবারও সহযোগিতা চাই, যাতে প্রতিপক্ষের লোকজন বেআইনী কোন কাজ না করতে পারে এবং আমাদের বড় ধরনের কোন ক্ষতি করিতে না পারে। অবশেষে আপনাদের সকলের সার্বিক সহযোগিতা ও সকলের সুস্থাস্থ কামনা করে আজকের সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য শেষ করছি।