শাজাহানপুরে সেই যুবলীগ নেতার বহিস্কার ও শাস্তি দাবি করেছে সংগঠনের নেতাকর্মীরা

সজিবুল আলম সজিব শাজাহানপুর(বগুড়া)প্রতিনিধি:বগুড়ার শাজাহানপুরের গোহাইল ইসলামিয়া স্কুল এ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষকে শারীরিক ভাবে লাস্থিত, চাঁদা দাবি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া সেই যুবলীগ নেতার বিতর্কিত কর্মকান্ডের তদন্তপূর্বক বহিস্কার ও শাস্তি দাবি করেছে নিজ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তারা এ দাবি জানায় ।
উপজেলা যুবলীগের পদধারী বেশ কয়েক নেতা জানান, আলী ইমাম ইনোকীর নামে বিতর্কিত কর্মকান্ডের অভিযোগ আজ নতুন নয়। আওয়ামীলীগ সরকার ২০০৮ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই তার নামে বিভিন্ন অভিযোগ লেগেই আছে। তাঁর কর্মকান্ডে উপজেলা যুবলীগ বিব্রত। বিভিন্ন অভিযোগের কারণে ইতিপূর্বে তাকে বহিস্কারও করেছিল জেলা যুবলীগ। তবুও তিনি বির্তকিত কর্মকান্ড থেকে সরে আসেনি। তাঁর কারণে যুবলীগের সুনাম নষ্ট হচ্ছে। এসব কারণে সংগঠনের নেতাকর্মীরা তাঁর ওপর মনোক্ষুণ্ন।
যুবলীগ নেতা আলী ইমাম ইনোকী ও তার সাঙ্গ-পাঙ্গ কর্তৃক কলেজ অধ্যক্ষের বাসায় গিয়ে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় গত মঙ্গলবার অন-লাইন নিউজ পোর্টালে সংবাদ প্রকাশ হলে আবারো সমালোচনায় আসেন তিনি। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি দলীয় নেতাকর্মীরাও তাকে এ ঘটনার জন্য ধিক্কার জানিয়ে তদন্তপূর্বক বহিস্কার ও শাস্তির দাবি জানায়। জাতীয় পত্রিকার প্রকাশিত সংবাদের কাটিং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের আইডিতে পোস্ট করে উপজেলা যুবলীগের সাবেক সদস্য মনিরুল ইসলাম মনির লেখেন, শাজাহানপুর উপজেলা যুবলীগে কোন চাঁদাবাজির স্থান নেই। ঘটনা সত্য হলে বহিস্কারের জোর দাবি করছি। অন-লাইন নিউজ পোর্টালের ফলোআপ প্রকাশিত সংবাদের লিংক শেয়ার করে লেখেন, হাইব্রিড, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, ভূমিদস্যু মুক্ত শাজাহানপুর উপজেলা যুবলীগ চাই। উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুজ্জামান লিটন নিজের আইডি থেকে প্রকাশিত সংবাদটি শেয়ার করেছেন। উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম-সম্পাদক বাদশা আলমগীর সংবাদ পোস্ট করে কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মাইনুল হোসেন খান নিখিলের উদ্বৃতি দিয়ে লিখেছেন, যুবলীগে সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজের কোন স্থান নেই। উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সহ-সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিকের পোস্টে সবচেয়ে সমালোচনার ঝড় উঠে। পোস্টকৃত সংবাদের কমেন্ট বক্সে যুবলীগ নেতা আসাদুজ্জামান লিটন লেখেন, শাজাহানপুর যুবলীগ একটি স্বচ্ছ সংগঠন, এখানে কোনো সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ, টাউট, বাটপারের স্থান নেই। জেলা শ্রমিকলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক দিলীপ কুমার রায় লেখেন, বর্তমান সময়ে শেখ হাসিনার সরকার কাউকে কোন অন্যায়, অনিয়ম করার সুযোগ দিবে না। আশাকরি ঘটনার সঠিক নিখুঁত, নির্ভুল তদন্তের মাধ্যমে প্রমাণিত হলে তিনি এতটুকু ছাড় পাবেন না। আমরা বেশি খুশি হবো তিনি জড়িত না থাকলে, কষ্ট পাবো জড়িত থাকলে। মাঝিড়া ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আল আমিন লিখেছেন, আরাম। আশেকপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি করিম কবির লেখেন, শাজাহানপুর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বলিষ্ঠ নেতৃত্বে এই সব চাঁদাবাজ সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করবেন বলে আশা করি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত উপজেলা যুবলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি আলী ইমাম ইনোকী বলেন, গতবার অত্র প্রতিষ্ঠানের গভণিং বডির কমিটি গঠন নিয়ে আওয়ামীলীগে অনুপ্রবেশকারী আলী আতোয়ার তালুকদার ফজু ও আমার বিরোধ সৃষ্টি হয়। সে সময় স্থানীয় ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ আমার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। কলেজে শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক কমিটির তদন্ত চলাকালে আজকে যে সব নেতা আমার বহিস্কার দাবি করেছে তারা নব্য আ’লীগ নেতা ফজুর পক্ষ হয়ে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতিকে পিটিয়েছিল।এর প্রতিবাদ করার কারণে তারা আমার ওপর ক্ষুদ্ধ। তাছাড়া আমি আগামী দিনে উপজেলা যুবলীগের সভাপতি প্রার্থী। এ কারণে তারা অযৌক্তিক দাবি তুলেছে। এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ভিপি এম সুলতান আহম্মেদ জানান, বাংলাদেশে চাঁদাবাজি করার মত কোন পরিস্থিতি নেই। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ সুন্দর সুষ্ঠ রাখার দায়িত্ব অধ্যক্ষের। পরিবেশ ঘোলা হওয়ার জন্য অধ্যক্ষ নিজেই দায়ী।

সর্বশেষ সংবাদ