আত্রাইয়ে বিল মাগুরার সুপরিকল্পনা গ্রহন প্রয়োজন

রুহুল আমিন,আত্রাই(নওগাঁ)সংবাদদাতা: নওগাঁর আত্রাই উপজেলার বৃহত্তর একটি বিল যার নাম বিল মাগুরা। আত্রাই উপজেলা ও পার্শ্ববর্তী নাটোর জেলার নলডাঙ্গার থানার কয়েক হাজার হাজার কৃষক এ মাঠে ফসল উৎপাদন করে থাকে। অপরিকল্পিত ভাবে এ বিলের চারদিকে বাঁধ নির্মাণ ও পানি নিস্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় হাজার হাজার একর জমিতে মাত্র একটি ফসল উৎপাদন হয়ে থাকে।
অভিযোগ করে অনেকেই বলেন বিল মাগুরা দেখার লোকজন নাই। মরা গাংনি এবং পোড়াখালি এই দুইটা দাঁড়া খননের অভাবে পানি সংরক্ষন থাকে না। বিল মাগুরা খনন, মরা গাংনি এবং পোড়াখালি দাঁড়া সম্প্রসারন করলে কৃষকরা দুইটা ফসল উৎপাদন করতে পারবে। আর মৎসজীবীরা মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করতে পারবে।উপজেলা খোদ্দবোলিয়া গ্রামের কৃষক লুৎফর রহমান, হাফিজুর রহমান, সিদ্দিকুর রহমান জানান, পরিকল্পনা না থাকায় বিল মাগুরার জমিতে মাত্র একটি ফসল উৎপাদিত হচ্ছে। দুইটি ফসল ফলানো সম্ভব হলে কৃষকের উন্নয়ন এবং দেশের উন্নয়ন হবে।
বিপ্রবোয়ালিয়া গ্রামের কৃষক রেজাউল করিম টিপু, আব্দুল হাকিম, ওহিদুর জানান, সঠিক পরিকল্পনা গ্রহন করলে এ বিলে দুইটি করে ফসল ফলানো সম্ভব। এছাড়া বিল মাগুরাতে ধান ও মাছ চাষ করা যেতে পারে। এতে যে বাড়তি আয় হবে সরকার রাজস্ব পাবে।শিকারপুর গ্রামের কৃষক হেলাল, বৈঠাখালী গ্রামের আশরাফুল চঞ্চলসহ অনেকেই জানান, বিল মাগুরা ভরাট হয়ে যাওয়ায় অল্প পানিতে ডুবে যায়। যার জন্য একটি ফসল উৎপাদন হয়ে থাকে। বিল খনন করা হলে এর গভীরতা বাড়বে। এছাড়া এই বিলে কয়েকশ মৎসজীবী মাছ শিকার করে থাকে। বিল শুকিয়ে গেলে তারা কৃষিকাজ সহ অন্যান্য পেশার কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকে।আত্রাই উপজেলার পাঁচুপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান এমাদুদল হক পিন্টু জানান, বিল মাগুরা থেকে ৩টি পানির অংশ একটি মরা গাংনি, পোড়াখালি দাঁড়া এবং দুবাই দাঁড়া আছে। গত অর্থ বছরের মৎস অফিস থেকে তিন ভাগের এক ভাগ অংশ খনন করা হয়। বিল খনন করার সময় অবশিষ্ট যে মাটি ছিল তা দূরে না ফেলায় মাটিগুলো সেখানেই রেখে দেয়। মাটি পাড়ের দুইপাশে রাখার ফলে পুনরায় সেই মাটিতে তা ভরাট হয়ে যায়। বিলটা এমনি ভরাট হয়ে গেছে।তিনি আরও জানান, বিল মাগুরা খনন, মরা গাংনি এবং পোড়াখালি দাঁড়া সম্প্রসারন করলে কৃষকরা ফসল উৎপাদন এবং মৎসজীবীরা মাছ শিকার করতে পারবে। কৃষকরা বছরের দুইটা ফসল ফলাতে পারবে। বিলে পানি থাকে না, ফলে মাছ থাকে না। এছাড়া বিল মাগুরা পুনরায় খনন করা হলে কৃষকের উন্নয়ন হবে এবং প্রাকৃতিক যে মাছগুলো আছে তা বিলে সংরক্ষিত থাকবে বলে জানান তিনি।আত্রাই উপজেলা মৎস কর্মকর্তা আল-মিনান নুর জানান, বিল মাগুরার জলার পরিমান দুই’শ থেকে আড়াই’শ হেক্টর ২০১২-১৩ইং অর্থ বছরের এ বিল খনন কাজ করা হয়েছিল আবার আগামীতে বিল খননের জন্য প্রকল্প প্রদান করা হয়েছে।এ বিল থেকে কৃষকরা পানি ব্যবহার করে কৃষি আবাদ করে থাকে এবং জলাশয় থেকে এ এলাকার প্রায় ৩ হাজার মৎস্যজীবিরা মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকে।তিনি আরো জানান, সমন্বীত উদ্যোগ গ্রহণ করলে এ বিল থেকে মাছও ধান চাষ করা সম্ভব যদি এনজিও পার্টনার মাধ্যমে সঠিক এ উদ্যোগ গ্রহণ করলে এ বিল থেকে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা অর্জন করা সম্ভব।
আত্রাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ড. মো: আব্দুল আজিজ জানান, প্রায় দুই থেকে আড়াইশ কৃষক সেখানে ফসল উৎপাদন করে থাকে। পানি নিস্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় দুই ফসল ফলানো সম্ভব না। এছাড়া কিছু নিচু জায়গায় পানি থাকায় মৎসজীবীরা মাছ শিকার করে থাকেন।