বগুড়া নন্দীগ্রামে জ্বীনের বাদশার বেপরোয়া তদ্বির বাণিজ্য

নন্দীগ্রাম (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ বগুড়ার নন্দীগ্রামে জ্বীনের বাদশার বেপরোয়া তদ্বির বাণিজ্য চলছে। যা দেখার কেউ নেই? এমন প্রশ্ন অনেকের। সেই জ্বীনের বাদশা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে দীর্ঘদিন যাবৎ বেপরোয়াভাবে বাণিজ্য করছে। এই জ্বীনের বাদশা হচ্ছে, নন্দীগ্রাম উপজেলার ৫নং ভাটগ্রাম ইউনিয়নের চাকলমা গ্রামের হঠাৎপাড়ার ফেরদৌস আলী। তার বয়স প্রায় ৬০ কোটায়। তিনি পবিত্র হজব্রতও পালন করেছে। সে কারণে তাকে মানুষ অনেকটা বিশ্বাসও করে। সে জ্বীন হাজির করে গণনার মাধ্যমে তদ্বির-চিকিৎসা দেয়ার নাম করে গ্রামগঞ্জের নিরীহ মানুষদের নিকট থেকে হাজার হাজার টাকা প্রতিদিন হাতিয়ে নিচ্ছে। তার দ্বারা প্রতিকার পেয়েছে এমন কোন নজির নেই। তারপরেও মানুষ তাকে বিশ্বাস করে টাকা দিয়ে প্রতারণার শিকার হয়েই আসছে। তার স্ত্রী ওই কর্মে সর্বক্ষণিক সহযোগিতা করে থাকে। সূত্রে জানা গেছে, মন্ত্র-তন্ত্র পাঠ করে তিনি নাকি জ্বীন হাজির করে তদ্বির-চিকিৎসা করে। সেখানে যাদের সন্তান হয়না তাদের সন্তান ধারণের তদ্বির করা হয়। যাদের বিয়ে হয়না তাদের দ্রুত বিয়ে হবার নিশ্চয়তা দিয়ে তদ্বির করে। এমনকি স্বামী-স্ত্রী সংসারে অশান্তি লাগলে তাও নিশ্চতা দিয়ে তদ্বির নিয়ে শান্তি স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে মোটাংকের টাকা হাতিয়ে নেয়। এছাড়াও নানা ধরণের বিষয়ে জ্বীনের বাদশা ফেরদৌস আলী তদ্বির করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নিরীহ মানুষদের নিকট থেকে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। স্থানীয় একাধিক লোকজনের সাথে কথা বললে তারা বলেছে, ফেরদৌস আলী অনেকদিন ধরেই এই কারবার চালিয়ে আসছে। বিভিন্ন এলাকার লোকজন তদ্বিরের জন্য ফেরদৌস আলীর কাছে আসতে দেখি। সে চাকলমা গ্রামের কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ম্যানেজ করেই এই কারবার চালিয়ে আসছে। পল্লব কুমার নামক এক যুবক জানিয়েছে, জ্বীনের বাদশা ফেরদৌস আলী বিয়ের তদ্বির করার জন্য ৩ হাজার টাকা নিয়ে প্রতারণা করেছে। সে আরো জানায়, বিয়ের তদ্বিরের নিশ্বয়তা দিয়েই নগদ টাকা হাতিয়ে নেয়। প্রতি শুক্রবার সকাল ৬ টা হতে সকাল ১০ টা পর্যন্ত তার বাড়িতে তদ্বিরের জন্য মানুষের ভীড় জমে যায়। একদিনই তিনি ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নেয় বলে গুঞ্জণ রয়েছে। এমন জ্বীনের বাদশার খপ্পরে নন্দীগ্রাম উপজেলার ও বিভিন্ন এলাকার হাজার হাজার নিরীহ মানুষ প্রতিনিয়ত প্রতারিত হচ্ছে। ওই ফেরদৌস আলীর সাথে কথা বললে সে বলে আমি জ্বীনের বাদশা না। টুকটাক কবিরাজি করে থাকি। তাই মানুষ আমার কাছে আসে। এই বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের খতিয়ে দেখা দরকার। নইলে তার খপ্পরে পড়ে আরো অনেক মানুষ প্রতারিত হতেই থাকবে।