প্রভাবশালীদের হত্যা ও ধর্ষণের হুমকিতে আতঙ্কিত মহিলার প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন

সিলেট প্রতিনিধি: সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার এক প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণের হুমকি ও তার পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে একটি প্রভাবশালী মহল। সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেলে এমন অভিযোগ করেছেন কানাইঘাটের সোনাপুর গ্রামের মাসুক আহমদের স্ত্রী ফাতেহা বেগম।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী মহিলা জানান যে, স্বামী ও দুই দেবর প্রবাসে থাকার সুযোগ কাজে লাগিয়ে তার স্বামীর সম্পত্তি দখলের জন্য দাপট দেখাচ্ছে প্রতিপক্ষ প্রতিবেশি (পাশের ঘরের) তাহির আলীর পুত্র সাহাব উদ্দিন (৪৫) ও ফয়ছল আহমদ (২৮), গোলাম রাব্বানী এবং গোসাইনপুর গ্রামের সেলিম আহমদ গং।
লিখিত বক্তব্যে ভুক্তভোগী মহিলা অভিযোগ করেন, তিনি কানাইঘাট উপজেলার সোনাপুর গ্রামের মাসুক আহমদের স্ত্রী। তার স্বামী ও দুই দেবর জীবিকার সন্ধানে দীর্ঘদিন থেকে প্রবাসে রয়েছেন। বর্তমানে বাড়িতে তিনি, তার অবুঝ দুই সন্তান ও জা শারমিন বেগম, শ্বাশুড়ি হানিফা বেগমকে নিয়ে বসবাস করছেন। পরিবারের পুরুষ সদস্যরা প্রবাসে থাকায় তারা প্রভাবশালীদের কাছে পুরোপুরি অসহায়। সে সুবাদে পাশের ঘরের তাহির আলীর পুত্র সাহাব উদ্দিন (৪৫) ও ফয়ছল আহমদ (২৮), গোলাম রাব্বানী এবং গোসাইনপুর গ্রামের সেলিম আহমদ তার স্বামীর সহায়সম্পত্তি দখল করতে নানাভাবে হুমকি দিচ্ছেন।
ফাতেহা বেগম বলেন, ইতোমধ্যে শাহাব উদ্দিন ও ফয়সল বাহিনী ক্ষমতার অপব্যবহার করে তার স্বামীর স্বত্ব দখলীয় সীমানায় পাকাঘর তৈরি করেছেন। বাড়ির সীমানায় থাকা একটি নারিকেল গাছ কেটে ফেলার চেষ্টাও করেন। এসব ঘটনায় তিনি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের কাছে বিচারপ্রার্থী হন। কিন্তু বিবাদিরা প্রভাবশালী হওয়ায় তারা শালিসি ব্যক্তিদের অবজ্ঞা করে শালিসে সাড়া দেয়নি। মুরুব্বিদের কাছে শালিস প্রার্থী হওয়ায় উল্টো তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ফাতেহার পরিবারকে বিভিন্নভাবে হুমকিধমকি দিচ্ছেন।
এছাড়া, চলতি বছরের গত ৬ আগস্ট সকাল ৮ টায় সাহাব উদ্দিন ও ফয়সল তাদের বাহিনী নিয়ে জোরপূর্বক ফাতেহার স্বামীর স্বত্ত দখলীয় সীমানায় থাকা একটি নারিকেল গাছ কেটে ফেলেন। সাহাব উদ্দিন ও ফয়ছল বাহিনীকে বাধা দিলে তাদের লোকজন লাঠি দিয়ে ফাতেহাকে প্রহার করে এতে তিনি গুরুতর আহত হন। ফাতেহার চিৎকারে তার শ্বাশুড়ি হানিফা বেগম, ভাতিজা আব্দুর রহমান, জা রুশনা বেগম এগিয়ে আসেন। এসময় সাহাব উদ্দিন ও ফয়সলরা ফাতেহাকে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দেন। বিষয়টি ফাতেহা প্রবাসে থাকা স্বামী ও দুই দেবরকে অবগত করলে তারা স্থানীয় মুরুব্বিদের কাছে বিচারপ্রার্থী হওয়ার জন্য বলেন। স্থানীয় বিচারে সাহাব উদ্দিন ও ফয়সলরা সাড়া না দিলে গত ০৯ আগস্ট কানাইঘাট মডেল থানায় ফাতেহা এটি সাধারণ ডায়েরি (৪২৫) করেন। এরপর জীবন বাঁচাতে গত ২৫ আগস্ট কানাইঘাট সিআর আদালত ১৫৩/২০২০ মামলা দায়ের করেন।
ফাতেহা আরো বলেন, থানায় সাধারণ ডায়েরি ও আদালতে মামলা দায়েরের পর সাহাব উদ্দিন ও ফয়ছল বাহিনী তাদের উপর আরো ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। ফয়সল গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাত ৩টায় ফাতেহার ঘরে এসে লোহার রড দিয়ে দরজা ভাঙার চেষ্টা করে এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। এসময় তিনি ও আর জা রুশনা বেগম ভয়ে ঘুম থেকে উঠে ফয়ছল এবং তার সঙ্গে থাকা ৪-৫ জনকে জানলার ফাঁক দিয়ে দেখতে পেয়ে  আত্মরক্ষায় চিৎকার করলে পাশের ঘর থেকে ভাজিতা আব্দুর রহমান এগিয়ে আসেন। এসময় আব্দুর রহমানকে দেখে ফয়ছল তার বাহিনী নিয়ে পালিয়ে যান। ওইদিন ভোর ৬টার দিকে তিনি চাচাতো ভাসুর তাজউদ্দিনের নিকট রাতের ঘটনার জন্য বিচারপ্রার্থী হন। এসময় ফয়সল ঘটনাস্থল ফাতেহার নিজ বাড়িতে এসে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন এবং মামলা না তুললে প্রাণে মেরে ফেলার পাশাপাশি ধর্ষণের হুমকি দেন। একই সময়ে ফয়সল মামলার স্বাক্ষীদের হত্যার উদ্দ্যেশে হামলা করলে মুরুব্বি তাজউদ্দিন আসামিদের বাধা প্রদান করেন। তাতেও ক্ষান্ত হয়নি তারা। একপর্যায়ে ফাতেহাকে হত্যার উদ্যোশে তারা ইট দিয়ে হামলা করলে তা ফাতেহার উপর না পরলেও ইটের আঘাতে মারাত্মকভাবে আহত হন ভাতিজা আব্দুর রহমান।
ফাতেহা বলেন, দুঃখজনক হলেও সত্য এসময় আমার চাচাতো ভাসুর তাজউদ্দিনের সামনে তারা আমাকে টানা হেচড়া করে শ্লীলতাহানী করে। রাগে ক্ষোভে এবং দুঃখে আমি আত্মহত্যার চেষ্টা করি। কিন্তু আমার দুই অবুঝ সন্তানের মুখের দিকে থাকিয়ে নিজেকে সামলাতে হয়। তিনি এমন পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে সিলেটের প্রশাসন ও সরকারের উপরমহলের দৃষ্টি আকর্ষন করেছেন।