জেলা প্রশাসক হতে চায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত হত-দরিদ্র মেধাবী ছাত্রী সাগিরা

কালাই(জয়পুরহাট)প্রতিনিধি:জয়পুরহাটের কালই মহিলা কলেজের মানবিক বিভাগ থেকে এ বছর এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে জিপিএ-৫ পেয়েছে মেধাবী ছাত্রী সাগিরা । এর আগে কালাই মহিলা দাখিল মাদ্রাসা থেকে জেডিসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সে টেলেন্টপুলে বৃত্তি লাভ করে এবং দাখিল পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়। কালাই সদরের উপজেলা পাড়া মহল্লার দরিদ্র পিতা- সুজাউল ইসলাম এবং মাতা- রেহেনা বেগমের ৩ ছেলে-মেয়ের মধ্যে সাগিরা দ্বিতীয়। সাগিরা বড় ভাই বগুড়ার সৈয়দ আহাম্মেদ কলেজে হিসাব বিজ্ঞানে অনার্সে দ্বিতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত আর ছোট বোন কালাই মহিলা দাখিল মাদ্রাসার ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী। সাগিরার পিতা সুজাউল ইসলাম কালাই কৃষিব্যাংক এলাকায় একটি তুলার দোকানে স্বল্প বেতনে কর্মচারীর কাজ করেন আর মা রেহেনা বেগমে একজন গৃহিণী। কর্মচারীরর কাজ করে সামান্য রোজগারে সুজাউল ইসলাম কোন রকমে টেনে-হিঁচড়ে সংসার চালান। স্বল্প সেই আয়ে স্ত্রী আর ৩ সন্তানদের মুখে কোন রকমে দুবেলা দুমুঠো খাবার তুলে দিতে হিমশিম খেতে হয় সুজাউল ইসলামকে। পিতার অসহায়ত্বের কথা অজানা নয় সাগিরার। তাই নিজের পড়ার খচর যোগার করতে তিনি (সাগিরা) পড়ালেখার পাশাপাশি মহল্লার ছোট ছোট ছেলে-মেয়েদের প্রাইভেট পড়াতেন। প্রায়ভেট পড়ানোর টাকার কিছু অংশ দিয়ে নিজের জামা-কাপড়সহ ব্যাক্তিগত খরচ চালাতেন। অবশিষ্ট টাকা সংসার চালানোর জন্য তুলে দিতেন দরিদ্র পিতার হাতে। এতোদিন এভাবেই চলে এসেছে। সাগিরা ইচ্ছে, উচ্চ শিক্ষা শেষে প্রশাসন ক্যাডারে ‘বিসিএস’ পরীক্ষায় দিয়ে উত্তীর্ণ হওয়াসহ ভবিষ্যতে একজন ইউএনও তথা সফল জেলা প্রশাসক হওয়া। কিন্তু পড়ালেখার খরচের কথা ভেবে হতাশাও প্রকাশ করেছেন তিনি। কারণ তার দরিদ্র পিতা সুজাউল ইসলামের পক্ষে সে ব্যয়ভার বহন করা সম্ভব নয়। এ অবস্থায় সাগিরার পিতা সুজাউল ইসলাম মেয়ের জেলা প্রশাসক হওয়ার ইচ্ছে পুরনে লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়ার জন্য দেশের হৃদয়বান ব্যাক্তি এবং সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সার্বিক সহায়তা ও পৃষ্টপোষকতা কামনা করেছেন।