বগুড়ায় বিদ্যুৎ সংযোগের নামে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ,আওয়ামীলীগ নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ

শেরপুর(বগুড়া)প্রতিনিধি:বগুড়ার শেরপুরের মির্জাপুর ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার নামে প্রায় ৫ শতাধিক পরিবারের কাছ থেকে প্রায় ৪০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে আত্মাসাৎ করে স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা এম এ হান্নান তালুকদার। দীর্ঘ ২/৩ বছরেও বিদ্যুৎ সংযোগ ও টাকা ফেরত না দেয়ায় জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে গত বুধবার লিখিত অভিযোগ দিয়েছে শতাধিক ভুক্তভোগীরা।
জানা যায়, বর্তমান সরকার দেশের প্রতিটি ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী স্থানীয় সংসদ সদস্যের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় শেরপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে আসছে। সেই সুযোগে স্থানীয় মির্জাপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ হান্নান তালুকদার সরকারের উন্নয়ন প্রচেষ্টাকে নস্যাৎ করার অংশ হিসেবে স্থানীয় এমপি’র নাম ভাংগিয়ে উপজেলার মাগুরগাড়ী, সুখানগাড়ী, মাথাইলচাপড়, শিয়ালবর্ষ, ভাদাইশপাড়া, শংকরহাটা, তালতা (ধাপ), রাজবাড়ী বুড়িতলা গ্রামের অবহেলিত ও বিদ্যুৎ সুবিধা বঞ্চিত গ্রামবাসীর ৫ শতাধিক সংযোগ প্রত্যাশী গ্রাহকদের একটি মিটারের জন্য ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা আদায় করে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় এমপি’র আস্থাভাজন প্রভাবশালী ওই আওয়ামীলীগ নেতা এম এ হান্নান তালুকদার ২/৩ বছর পূর্বে ৫ শতাধিক ভুক্তভোগী গ্রাহকদের নিকট থেকে ৩৫ থেকে ৪০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিলেও বিদ্যুৎ সংযোগের ব্যবস্থা ও টাকা ফেরতের কোন ব্যবস্থা করেনি। টাকা ফেরত চাইলেও তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলাসহ নানা ভয়ভীতির হুমকীও দেয় ওই আওয়ামীলীগ নেতা এম এ হান্নান তালুকদার। এরফলে গত ২৬ জুলাই উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যুতের সুবিধা বঞ্চিতদের মধ্যে শতাধিক ব্যক্তি স্বাক্ষরিত বগুড়া জেলা প্রশাসক, দুর্নীতিদমন কমিশনসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
সরেজমিনে গেলে বিদ্যুতের সুবিধা বঞ্চিত ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর মধ্যে ভাদাইপাড়া ও মাথাইলচাপড় গ্রামের মোঃ আছের, মাসুদ রানা, আব্দুস সাত্তার, মোজাফ্ফর হোসেন, মজিবর রহমান, মাকেজ উদ্দিন, ছাইফুল ইসলাম, আরিফুল ইসলামসহ একাধিকরা জানান, স্থানীয় ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ নেতা এম এ হান্নান তালুকদার আমাদের কাছ থেকে স্থানীয় এমপি আলহাজ্ব হাবিবর রহমানের নাম ভাংগিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগের ব্যবস্থার নামে বিদ্যুৎ বিভাগের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রকল্প তৈরী, স্থানীয় এমপি’র ডিও লেটারসহ ইত্যাদি কাজে লাখ লাখ টাকা লাগবে বলে তিনি জানান। আমরা সম্মিলিতভাবে তার কাছে ২/৩ বছর পূর্বে ওই টাকাগুলো দেই। বর্তমানে টাকা ফেরত চাইলে হান্নান আমাদেরকে র‌্যাব,পুলিশ দিয়ে আমাদের আটক করে দিবে মর্মে হুমকীও দিয়ে আসছে।
এ প্রসঙ্গে ওই আওয়ামীলীগ নেতা এম এ হান্নান তালুকদারের মোবাইল ফোনে, বিদ্যুতের সংযোগের নামে কোন টাকা গ্রহন করছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি অস্বীকার করে বলেন এটা আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে একটি কুচক্রী মহলেরা।
এ প্রসঙ্গে বগুড়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি’র শেরপুর এরিয়া’র উপ-মহাব্যবস্থাপক আল আমিন বলেন, সরকারের প্রক্রিয়া অনুযায়ী উপজেলার অবহেলিত গ্রামে বিদ্যুৎ সংযোগের ব্যবস্থা করছে বিদ্যুৎ বিভাগ। তবে সংযোগের নামে কেউ যদি টাকা গ্রহন করে থাকে সেক্ষেত্রে তার নিজ দায়িত্বে করেছে, এখানে বিদ্যুৎ অফিসের কেউ জড়িত নাই বলে তিনি দাবী করেন।
এ প্রসঙ্গে বগুড়া-৫ আসনের স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব হাবিবর রহমান বলেন, আমি এ সবের কিছুই জানিনা। তবে আমার নাম ভেঙ্গে যদি কেউ এমন কাজ করে থাকে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।