ডিজিটালাইজেশনের ছোয়া নেই বেরোবি’র ওয়েবসাইটে

বেরোবি প্রতিনিধি: তথ্য প্রযুক্তির যুগে মানুষ যখন উন্নতির শীর্ষে আরোহণ করছে, নিমিষেই হাতের নাগালে মানুষের যাচিত সবকিছুই তখনও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে এর ছোঁয়া লাগেনি। যার একটি বড় প্রমাণ-এখনও ব্যাকডেটেড (সেকেলে) রয়ে গেছে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) ওয়েবসাইট (িি.িনৎঁৎ.ধপ.নফ)। বর্তমান সরকারের রূপকল্প ডিজিটাল বাংলাদেশের সময়েও পিছিয়ে রয়েছে এই বিশ্ববিদ্যালয়। ওয়েবসাইটে সমসাময়িক তথ্য থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দিক তুলে না ধরায় ডিজিটাল যুগে অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে এখানকার শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। ওয়েবসাইটের এমন দশায় সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, বিশ্ব পরিমন্ডলে বিশ্ববিদ্যালয়কে তুলে ধরতে ব্যর্থ হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, গত মাসে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটটির ‘অ্যাবাউট আস’ এর ‘ম্যাসেজ ফরম ভিসি’ অপশনে উপাচার্য ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ (বিটিএফও) এর বাণী সংযুক্ত করা হলেও উপাচার্যের ছবির স্থান ফাঁকাই রয়ে গেছে। বিভাগগুলোর সম্পর্কে সবশেষ হালনাগাদ করা হয়েছিলো ২০১৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি। অনেক বিভাগে নতুন মুখ যোগদান করলেও তা হালনাগাদ করা হয়নি। এছাড়াও ব্যাচ সংখ্যা, শিক্ষক সংখ্যাসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগটির বিষয়ে বিস্তারিতভাবে হালনাগাদেরও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি এখনও। এখনও ছবি আপলোডেট রয়েছে পুরনো বিভাগীয় প্রধানদের। চলতি মাসের ২ জুলাই ওয়েবসাইটটির ‘অ্যাডমিনিস্ট্রেশন’ অপশনে দায়সারা হালনাগাদ করা হয়েছে। নেই কারো সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হলেও এর শেষ সংযোজন করা হয়েছিলো ২০১৩ সালের ৬ অক্টোবর। ২০১১ সালের ১৯ মার্চ লাইব্রেরির স্থায়ী অবস্থানের কথা উল্লেখ করলেও বর্তমান সময়ের নেই কোনো সংযোজন। নেই কোনো বিস্তারিত তথ্যও। আর ‘হোমপেজ’ অপশনে শেষ হালনাগাদ ছিলো চলতি বছরের ২৭ এপ্রিল। এরপর কোনো হালনাগাদই করা হয়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে বিশ্ববিদ্যালয়ের দপ্তর, বিভাগ, রিসার্চ ইনস্টিউট, সাইবার সেন্টার, মসজিদ,ক্যাফেটেরিয়া, শিক্ষার্থীদের আবাসিক তিনটি হল, বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নসহ সংশ্লিষ্ট বিষয় সংযোজনে এখনও গ্রহণ করা হয়নি কোনো কার্যকর উদ্যোগ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগ থেকে ¯œাতক পাশ করে বর্তমানে আমেরিকার জ্যাকসন স্টেট ইউনিভার্সিটিতে অধ্যয়ন করছেন ইমরান সরকার নামের এক শিক্ষার্থী। তিনি সামাজিক যোগাযোগে মাধ্যমে জানান, উচ্চশিক্ষার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের যারা দেশের বইরে আছেন তারা ওয়েবসাইট থেকে কোনো আপডেট তথ্য পাননা। ইমরান সরকার বলেন, ‘আমরা যারা বিদেশে শিক্ষার্থী কিংবা শিক্ষক রয়েছি ওযেবসাইটে যথেষ্ট তথ্য না থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশ্বপরিমন্ডলে তুলে ধরতে পারছি না। এ বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ভেবে দেখা উচিৎ।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের আইটি (তথ্য ও প্রযুক্ত) বিভাগের সাইবার সেন্টারের নেটওয়ার্ক অ্যাডমিনিস্ট্রেটর মো. আতিকুর রহমান মিলন বলেন, আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটটি দেখাশোনা করতের সিইসি বিভাগের শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটের দেখাশোনার বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে সিইসি বিভাগের আবুল কালাম আজাদ বলেন, গত উপাচার্যের সময়ে ওয়েবসাইটের বিভিন্ন দিক উন্নয়নে কাজ করার জন্য প্রস্তাবনা দিয়েছিলাম কিন্তু সাবেক উপাচার্য ড. একে এম নূর-উন-নবী’র সময়ের শেষ দিকে আমার কাছ থেকে দায়িত্ব নিয়ে নেওয়া হয় বর্তমানে দায়িত্বে কে আছেন তা জানিনা।
তবে বর্তমান উপাচার্যের সময়ে ওয়েবসাইটির দেখাশোনা করার জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে রবিবার সকালে জানিয়েছেন উপাচার্য ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ (বিটিএফও) এর একান্ত সচিব মো. আমিনুর রহমান।
এ বিষয়ে কমিটির আহ্বায়ক মুহা. শামসুজ্জামান রবিবার দুপুরে জানান, গত বৃহস্পতিবার ওয়েবসাইটেটির দেখাশোনার জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ বিষয়ে দ্রুত মিটিং করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।