বাংলাদেশ-ভারত ছিট বিনিময়ের দুই বছর পুর্তি আজ

সাইফুর রহমান শামীম, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃবাংলাদেশ-ভারত ছিট বিনিময়ের দুই বছর পুর্তি আজ। ২০১৫ সালের ৩১ জুলাই মধ্য রাতে বিলুপ্ত হয় দু’দেশের অভ্যন্তরে থাকা ১৬২টি ছিটমহল। ছিটবাসীদের ৬৮ বছরের বন্দি জীবনের অবসান হয়।
২০১৫ সালের ৩১ জুলাই রাত ১২টা ১ মিনিটে বাংলাদেশের অভ্যন্তরের ১১১টি ছিটমহলের মধ্যে সবচেয়ে বড় ছিটমহল কুড়িগ্রামের দাসিয়ার ছড়ায় ৬৮টি মোমবাতি জ্বালিয়ে এই মাহেন্দ্রক্ষনকে স্মরনীয় করে রাখে ছিটবাসীরা। একযোগে একই কর্মসূচী পালিত হয় কুড়িগ্রামে-১২টি, লালমনিরহাটে-৫৯টি, পঞ্চগড়ে-৩৬টি এবং নিলফারী জেলায় -৪টি ছিটমহলে। ছিট বিনিময়ের এ দিনটিকে স্মরনীয় করে রাখতে রাতভর চলে আলোর মিছিল ও আনন্দ উল্লাস। তাদের এই বাধ ভাঙ্গা উল্লাসের সাথে একত্রিত হয়ে সংহতি প্রকাশ করেছে দেশের বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ।
বাংলাদেশের মুল ভূখন্ডের সাথে যুক্ত হওয়ায় ১১১টি ছিটের ৪১ হাজার ৪শ ৪৯ জন মানুষ বাংলাদেশী নাগরিক হিসেবে গন্য হয়।
এরপর থেকে ছিটবাসীর জীবন-মান উন্নয়নে রাস্তা, বিদ্যুৎ, স্বাস্থ্য, শিক্ষাসহ সরকারের নেয়া নানা কর্মসূচীর বাস্তবায়ন শুরু হয়।
ছিট বিনিময়ের দুই বছর পুর্তিতে বিলুপ্ত ছিটমহল দাসিয়ার ছড়ার কালিরহাট বাজারে ৩১ জুলাই (আজ) রাত ১২টা ১ মিনিটে মোমবাতি প্রজ্জলন ও ১ আগষ্ট দিনব্যাপী খেলা-ধুলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানা কর্মসূচী হাতে নিয়েছে বিলুপ্ত ছিটবাসীরা।
১৯৭৪ সালে ইন্দিরা-মুজিব চুক্তিটি বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ অনুমোদন করলেও দীর্ঘ ৪২ বছর ধরে ঝুলে রাখে ভারত। ২০১১ সালে ঢাকায় হাসিনা-মনমোহন প্রটোকল স্বাক্ষরিত হয়। নরেন্দ্র মোদি সরকার ক্ষমতায় আসার পর দু’দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে ছিট মহল বিনিময়ের বিষয়টি প্রাধান্য পায়। পরে ২০১৫ সালের ৫ মে ভারতীয় মন্ত্রী পরিষদে স্থল সীমান্ত বিলটির অনুমোদন দেয়া হয়। ৬ মে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যসভায় বিলটি সর্বসম্মতিক্রমে পাশ হয়। ভারতের লোকসভায় বিলটির চুড়ান্ত অনুমোদন পেলে ছিটমহল বিনিময়ের বিষয়টি আলোর মুখ দেখে।
ভারতের অভ্যন্তরে থাকা ৫১টি ছিটমহলের অবস্থান পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলায় ৪৭টি এবং জলপাইগুড়ি জেলায় ৪টি। লোকসংখ্যা ১৪ হাজার ২১১ জন।
ছিটমহল বিনিময়ের ফলে বাংলাদেশ পায় ১৭ হাজার ২৫৮ একর এবং ভারত পায় ৭ হাজার ১১০ একর জমি।