ন্যাশনাল ব্যাংকের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

সারোয়ার হোসেন,তানোর: রাজশাহীর তানোরে ন্যাশনাল ব্যাংকের কর্মরত মাঠকর্মীদের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, গ্রামের সহজ-সরল সাধারণ মানুষের সরলতাকে পুজি করে কৃষকের ১০ টাকার একাউন্ট খুলতে তাদের কাছে থেকে ১০০ টাকা করে হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে। এছাড়াও কৃষি প্রদানের সময় ঋণ গ্রহীতার কাছে থেকে ভিটে বাড়ির দলিল, ৩০০ টাকা মূল্যর ননজুডিশিয়াল ফাকা স্ট্যাম্প ও ব্যাংকের ফাকা চেকে স্বাক্ষর নেয়া হচ্ছে। পরবর্তীতে কোনো ঋণ গ্রহীতা ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে তাদের ফাকা স্টাম্প ও চেকের ভয় দেখিয়ে মাঠকর্মী ও কর্মকর্তারা হাজার হাজার টাকা ‘উৎকোচ’ হাতিয়ে নিচ্ছে। বিপদে পড়ে সাধারণ কৃষকরা ন্যাশনাল ব্যাংকে শতকরা ১২ পারসেন্ট উচ্চ সুদে ঋণ নিয়ে স্বাবলম্বী না হয়ে আরো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলেও অভিযোগ ঋণ গ্রহীতা ভূক্তভোগীদের।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দেশে দারিদ্র বিমোচনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক একটি নির্দেশনা জারি করে। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী ন্যাশনাল ব্যাংক রাজশাহী শাখা তানোরের বিভিন্ন এলাকায় কৃষকের মধ্যে আলু চাষ ও খামারিদের মধ্যে গরু পালন ও দরিদ্রদের মধ্যে গাভী পালনের জন্য সহজ সর্তে ঋণ প্রদান করে আসছে বলে ব্যাংকের দীর্ঘদিনের সুনাম রয়েছে।  কিšত্ত ব্যাংকের মাঠকর্মী তোফায়েল ও ইসমাইল হোসেন এবং ম্যানেজার জয়ন্ত বাবুর দুর্ব্যবহার ও অনৈতিক কর্মকান্ডে ব্যাংকের দীর্ঘদিনের অর্জিত শুনাম নষ্ট হতে চলেছে। তানোর পৌর এলাকার কৃষক হাবিবুর রহমান জানান, তিনি বেশ কয়েক বছর ধরে ব্যাংকের কৃষক ঋণ কমিটির দলনেতা হিসেবে প্রতিনিধিত্ব করে আসছেন। কিšত্ত বর্তমানে গ্রাহকরা সময় মতো ঋণ পরিশোধ করেও পুনঃরায় ঋণ গ্রহণ করতে গিয়ে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। একই গ্রামের কৃষক দুলাল বলেন, ব্যাংকটি ঋণ প্রদাণে ব্যাপক বৈষম্য করছে, অনৈতিক সুবিধা না দিলে ৬ মাস ঘুরেও ঋণ পাওয়া যাচ্ছে না,  আবার অনেক মাদক ব্যবসাযী ও সেবী অনৈতিক সুবিধা দিয়ে অনেক আগে ঋণ উত্তোলন করেছেন। এব্যাপারে ন্যাশনাল ব্যাংকের মাঠকর্মী ইসমাইল হোসেন ও তোফায়েল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ন্যাশনাল ব্যাংক দরিদ্রদের স্বাবলম্বী করার উদ্দেশ্যে ঋণ দেন। কিšত্ত ঋণ গ্রহীতারা ঋণের টাকা নিয়ে চলার দোষে যদি সর্বশান্ত হয় তাহলে সে দায় কার?। এব্যাপারে ব্যাংক ম্যানেজার জয়ন্ত বাবু অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কারো বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।