ছিটমহল বিনিময়ের দুই বছর পুর্তি মধ্যরাত থেকে দিনভর আনন্দ উৎসব পালন

সাইফুর রহমান শামীম, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ ৩১ জুলাই রাত ১২টা ১ মিনিটে ৬৮টি মোমবাতি জ্বালিয়ে ও কেক কেটে দুই বছর পুর্তি আনন্দ উৎসবের শুরু করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরের সবচেয়ে বড় বিলুপ্ত ছিটমহল দাসিয়ার ছড়ার বাসিন্দারা। মোমবাতি জ্বালিয়ে একই সময়ে একই কর্মসূচী পালিত হয় কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট ও পঞ্চগড়ের ১১১টি বিলুপ্ত ছিটমহলে। এরপর ১ আগষ্ট সকালে পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচী শুরু করে বিলুপ্ত ছিটবাসীরা। আনন্দ মিছিল, আলোচনাসভা, লাঠি খেলা, হাডুডু খেলাসহ দিনভর চলে নানা গ্রামীণ উৎসব। দুই বছরে উন্নয়নের জোয়াড়ে ভা তে থাকা সাবেক ছিটমহলবাসীরা তাদের বন্দী জীবন থেকে মুক্তির দিনটিকে স্মরনীয় করে রাখতে এ কর্মসূচী পালন করে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ-ভারত ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটির সাবেক সভাপতি মঈনুল হক ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফাসহ অন্যান্য নেতা ও বিলুপ্ত ছিটের সর্বস্তরের মানুষ।
১৯৭৪ সালের ইন্দিরা-মজিব চুক্তির আলোকে ২০১১ সালে ঢাকায় হাসিনা-মনমোহন প্রটোকল স্বাক্ষরের পর ২০১৫ সালের ৩১ জুলাই মধ্যরাতে বিলুপ্ত হয় বাংলাদেশ-ভারতের অভ্যন্তরে থাকা ১৬২টি ছিটমহল। অবসান হয় ছিটবাসীদের ৬৮ বছরের বন্দি জীবনের। বাংলাদেশের অভ্যন্তরের ১১১টি ছিটমহলের মধ্যে সবচেয়ে বড় ছিটমহল কুড়িগ্রামের দাসিয়ার ছড়ায় রাত ১২টা ১মিনিটে ৬৮টি মোমবাতি জ্বালিয়ে এই মাহেন্দ্রক্ষনকে স্মরনীয় করে রাখে ছিটবাসীরা। একই কর্মসূচী পালন করে দাসিয়ার ছড়াসহ কুড়িগ্রামে-১২টি, লালমনিরহাটে-৫৯টি, পঞ্চগড়ে-৩৬টি এবং নিলফামারী জেলায় -৪টি ছিটমহলে।
তারপর থেকেই ছিটবাসীর জীবন-মান উন্নয়নে রাস্তা-ঘাটের উন্নয়ন, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ, স্বাস্থ্য, শিক্ষাসহ সরকারের নেয়া নানা কর্মসূচীর বাস্তবায়ন শুরু হয়। বিনিময়ের দুই বছরে উন্নয়নের জোয়ারে ভাসতে থাকা ছিটবাসীরা জাকজমকপুর্ণভাবে মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টা ১মিনিটে আবারো ৬৮টি মোমবাতি জ্বালিয়ে দুই বছর পুর্তি করল।
শুধু মাত্র দাসিয়ার ছড়ায় ২২ কিলোমিটার পাকা সড়ক, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ, ব্রীজ-কালভার্ট, স্কুল-কলেজ, কমিউনিটি ক্লিনিকসহ সকল নাগরিক সুযোগ সুবিধা পাওয়ায় খুশি বিলুপ্ত ছিটবাসীরা। সরকারের সকল সুবিধা পাওয়ায় খুশি অন্যান্য বিলুপ্ত ছিটের বাসিন্দারাও।
দাসিয়ার ছড়ার বাসিন্দা মোজাফ্ফর হোসেন জানান, আমরা বিদ্যুৎ পেয়েছি, পাকা সড়ক পেয়েছি, কমিউনিটি ক্লিনিক পেয়েছি, স্কুল, কলেজ পেয়েছি। আমরা সাবেক ছিটের বাসিন্দা সরকারের ভিজিএফ, ভিজিটিসহ সকল সুবিধা ভোগ করছি।
দাসিয়ার ছড়ার কালিরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হালিমা খাতুন জানান, আগে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে মিথ্যা ঠিকানা দিয়ে বাংলাদেশের স্কুলে পড়তে হতো। এখন বিলুপ্ত ছিটমহলে গড়ে ওঠা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়া-লেখা করতে পেরে খুশি আমরা। সরকারকে ধন্যবাদ জানাই।