শাজাহানপুরে কৃষি জমি অধিগ্রহণ না করার দাবিতে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায়

সজিবুল আলম সজিব শাজাহানপুর (বগুড়া) থেকে : তিন ফসলী কৃষি জমি অধিগ্রহণ না করার দাবিতে মঙ্গলবার দুপুরে বগুড়ার শাজাহানপুরে বগুড়া-নাটোর মহাসড়কের পারতেখুর মৌজায় কৃষি কলেজের সামনে জোড়া, চকজোড়া, চকভালি, পারতেখুর ও বীরগ্রামের হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে । বেলা সাড়ে ১১টা থেকে ১ টা পর্যন্ত এই মানব বন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
মানব বন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে নেতৃত্বদানকারী জোড়া নয়াপাড়ার আবুল কালাম আজাদ, দক্ষিণপাড়ার আক্তার হোসেন, জায়দারপাড়ার নজরুল ইসলাম, পারতেখুর গ্রামের শহিদুল ইসলাম, বীরগ্রামের মোজাহিদুর রহমান, ওসমান গণি মাস্টার, চকজোড়ার রফিকুল ইসলাম জনিয়েছেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সদিচ্ছায় বগুড়ায় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের কার্যক্রম শুরু হওয়ায় তারা আনন্দিত। তবে এ কাজের জন্য যে সকল জমি অধিগ্রহনে ৩ ধারা নোটীশ দেওয়া হয়েছে সেগুলো তিন ফসলী কৃষি জমি। এই জমি গুলো অধিগ্রহন করা হলে স্থানীয় অধিকাংশ মানুষ বেকার হয়ে পড়বে। পরিবার-পরিজনের ভরন-পোষন চালাতে পারবেন না। এমতাবস্থায় তিন ফসলী কৃষি জমি অধিগ্রহন না করার জন্য তারা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি কামনা করেছেন। উল্লেখ্য, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সদিচ্ছায় বগুড়ায় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের জন্য শাজাহানপুর উপজেলার জোড়া, চকজোড়া, চকভালি, বীরগ্রাম এবং পারতেখুর মৌজায় ২৫১ দশমিক ৪৩ একর জমি অধিগ্রহনে ইতোমধ্যেই জমি মালিকদের ৩ ধারা নোটীশ জারি করা হয়েছে। নোটীশ পাওয়ার পর স্থানীয় কৃষিজীবি মানুষেরা চাষাবাদ নিয়ে দু:শ্চিন্তায় পড়েন। এছাড়া জোড়া হিন্দুপাড়া গ্রামের ৪০-৫০ ঘর হিন্দু মানুষ যারা কয়েক প্রজন্ম থেকে অর্পিত সম্পত্তিতে চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন তাদের ওই সম্পত্তি গুলো খাস খতিয়ান ভূক্ত করা হয়েছে। ফলে জমি অধিগ্রহণ হলেও হিন্দু পরিবার গুলো কোন টাকা পাবেন না। এমতাবস্থায় তারা তিন ফসলী কৃষি জমি এবং তথাকথিত অর্পিত সম্পত্তি অধিগ্রহন না করার জন্য বগুড়া জেলা প্রশাসকের নিকট পৃথক দু’টি আবেদন করেছেন।