বগুড়ায় চাঞ্চল্যকর ধর্ষন ঘটনায় তুফান সরকার তার স্ত্রী সহ ৫জন দ্বিতীয় দফায় রিমান্ডে

উত্তরবঙ্গ নিউজ ডটকম,বগুড়া বিশেষ প্রতিনিধি:বগুড়ায় চাঞ্চল্য সৃষ্টিকারী ধর্ষন ঘটনা এবং মা মেয়ের উপর পরিচালিত পৈশাচিক বর্বোরোচিত ঘটনায় এখন উত্তাল গোটা বগুড়া শহর । বহিস্কৃত শ্রমিকলীগ নেতা তুফান সরকার ও গ্রেপ্তারকৃত তার ক্যাডার বাহিনীর সদস্য সহ স্ত্রী ,তার বড় বোন শাশুড়ী সহ সকল অপরাধির দৃষ্ঠান্ত মূলক শাস্তির দাবীতে বিক্ষোভে ফেটে পড়েছে বিভিন্ন রাজিৈনক, সাংস্কৃতিক ,সামাজিক ও পেশাজীবি সংগঠন ।

বিক্ষোবকারীরা এসময় শহরের প্রানকেন্দ্র সাতমাথায় প্রতিবাদ মানববন্ধন ও সমাবেশ থেকে নারী কাউন্সিলর রুমকী সহ তাদের গড ফাদারদের গ্রেপ্তারের দাবী জানিয়েছে । অন্যদিকে বিক্ষোভকারীরা শহরে কয়েক জন বিতর্কিত ওয়ার্ড কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে গ্রেপ্তারের দাবী জানিয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ওয়ার্ড কাউন্সিলর রুমকী সহ শহরের বিতর্কিত কাউন্সিলরদের বিষয়ে ভূমিকা নেবার জন্য জোর দাবী জানানো হয়েছে ।
বিশেষ করে শহরে শেউজগাড়ী এলাকার একজন পরিবহন শ্রমিকনেতা ও কিতর্কিত ওয়ার্ড কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন যোগাযোগ মাধ্যমে জেলা পুলিশ প্রশাসনের কাছে গ্রেপ্তারের দাবী এখন ক্রমেই জোরালো হচ্ছে । বিভিন্ন মাধ্যমে বগুড়ায় চাঞ্চল্য সৃষ্টিকারী ধর্ষন ঘটনা এবং মা মেয়ের উপর পরিচালিত পৈশাচিক বর্বোরোচিত ঘটনা প্রকাশ হয়ে পড়ার পর বগুড়া জেলা পুলিশের ভূমিকাকে যুগোপযুগি আখ্যায়িত করা হলেও শহরে শেউজগাড়ী এলাকার ওই বিতর্কিত ওয়ার্ড কাউন্সিলরের অব্যাহত চাঁদাবাজী ও তার র্যিাতনের বিষয়টি ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।

এদিকে পৈশাচিক ঘটনায় জরিত থাকার অপরাধে বহিস্কৃত শ্রমিক লীগ নেতা তুফানের পর তার বড় ভাই যুবলীগ এর প্রভাবশালী নেতা আব্দুশ মতিন কে কেন্দ্রীয় ভাবে দল থেকে বহিস্কৃত করার পর তাকেও গ্রেপ্তার করা হতে পারে এমন আশংকা গত কয়েক দিনে তার কোন কোজ খবর পাওয়া যাচ্ছে না বলে খবর জানিয়েছে বিভিন্ন মাধ্যম ।
অতি সম্্রপতি বহিস্কৃত শ্রমিকলীগ নেতা তুফান বাহিনীর পাশবিক নির্যাতনের শিকারের ঘটনা এবং মা ও মেয়েকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন চালিয়ে মাথা মুড়িয়ে দেবার ঘটনায় সর্ব সাধারন মানুষ এখন আওয়ামী লীগ এবং জেলা পুলিশের মুখের দিকে তাকিয়ে রয়েছে।

বিভিন্ন অভিযোগে জানা গেছে , নিরব চাঁদা বাজী এখন ওই বিতর্কিত কাউন্সিলরের নিত্য নৈমেত্তিক ব্যপারে হয়ে দায়িয়েছে। তার বিরুদ্ধে ইতি পূর্বে সুইপারে মেয়ে সহ একাধিক ধর্ষন ঘটনা ,চাঁদাবাজী ,ব্লাক মেইলিং , মাদক সেবন সহ বিভিন্ন অভিযোগ প্রকাশ করে তার গ্রেপ্তার দাবী করা হচ্ছে । একই সাথে সমপ্রতিকালে তার পূর্বে অবস্থান ও মাদক নিয়ন্ত্রন অভিযানের নামে নিজেই মাদকে ডুবে থাকা । চাঁদা না দিলেই মাদক ব্যবসায়িদের পুলিশ দিয়ে ধরিয়ে দেয়া । া টাকা দিলে মাদক ব্যবসায়ীকে ভাল মানুষ পরিবার হিসাবে সার্টিফিকেট দেয়ার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধমে ফলাও হচ্ছে।ওই বির্কিত কাউন্সিলরের দখলবাজী ,চাঁদাবাজী এবং টাকা ছাড়া কোন কাজ না করার বিষয়টি সমপ্রতি সোসাল মিডিয়ায় উঠে এসেছে। ভুক্ত ভোগী অনেকে এ ব্যপারে বগুড়া জেলা পুলিশ প্রশাসন ও জেরা আওয়ামী লীগের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এদিকে ধর্ষন ঘটনা এবং মা মেয়ের উপর পৈশাচিক ঘটনায় শ্রমিকলীগের বহিস্কৃত নেতা তুফান সরকার সহ তার স্ত্রী আশা সরকার শ্বাশুড়ি রুমী বেগম এবং তুফান বাহিনীর মূন্না সহ মোট ৫জনকে আবারো দ্বিতীয় দফায় রিমান্ডে নিয়েছে সদর পুলিশ । বুধবার রিমান্ড শেষে মোট ৭জনকে আদালতে হাজির করা হয় । মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর (অপারেশনস) আবুল কালাম আজাদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সহকারী চীফ আদালতের বিজ্ঞ বিচারকশ্যাম সুন্দরের আদালতে আসামীদের হাজীর করে ৭দিনের রিমান্ত আবেদন করে পুলিশ । মামলার শুনানিয়ান্তে বিজ্ঞ বিচারক ঘটনার মূল আসামী তুফান সরকারকে আরো ৩দিন এবং অন্যদের একদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। অন্যদিকে রিমান্ডে থাকা ওয়ার্ড কাউন্সিলর রুমকীকে জ্ঞিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রেখেছে পুলিশ। ইতিমধ্যই পুলিশের কাছে সে নিজের অপরাধের কথা স্বিকার করা সহ তুফান ও তার বোন আশার চমকপ্রদ তথ্য দিয়েছে বলে একটি সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে রিমান্ডে থাকা তুফানের বর্ড়ি গার্ড কাম ক্যাডার মুন্না ও নাপিত জীবন পুলিশকে ঘটনার বর্ননা সহ গুরুত্বপূর্ন তথ্য দিয়েছে এমনটি জানিয়েছেন তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা । তবে এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানাননি। অন্যদিকে মামলার মূল আসামী তুফান সরকার ইতি পূর্বে পুলিশের কাছে স্বিকারোক্তি মূলক জবানবন্দিতে ধর্ষনের সাথে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বিকার করেছে।

এদিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধিন নিগৃহীত মা ও মেয়েকে জেলা পুলিশের বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা হাসপাতালে চিকিৎসা নিশ্চিত করা হচ্ছে । জেলা পুলিশের একাধিক গোয়েন্দা শাখা হাসপাতাল এলাকার বিশেষ নজরদারী বৃদ্ধি করেছে । বগুড়ার পুলিশ সুপার মো: আসদুজ্জামান বিপিএম এর কঠোর নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফ মন্ডল, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল জলিল বগুড়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সনাতন চক্রবর্তী এ বিষয়ে বিশেষ তদারকি করছেন। একই সাথে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মা ও মেয়ের চিকিৎসা এবং নিবীর পরিচর্যা অভ্যাহত রেখেছেন ।