শাজাহানপুরে হাটের ইজারাদার আ’লীগ নেতার বিরুদ্ধে ইউএনও বরাবর অভিযোগ

সজিবুল আলম সজিব শাজাহানপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি: ‘চারার নগর’ হিসেবে খ্যাত বগুড়ার শাজাহানপুরের শাহ্নগর, কামারপাড়া, বিহিগ্রাম, চকচোপীনগর সহ কয়েকটি গ্রামে স্থাপিত শতাধিক সবজি নার্সারিতে চারা বিক্রির বিপরীতে চাঁদা/খাজনা দাবির অভিযোগ উঠেছে হাটের ইজারাদার উপজেলা আওয়ামীলীগের এক নেতার বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে উপজেলার নির্বাহী অফিসারের নিকট বুধবার বিকেলে লিখিত অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট নার্সারি মালিকগণ।
অভিযোগ সূত্রে জানাগেছে, ১৯৮৫ সাল থেকে উপজেলার শাহ্নগর, কামারপাড়া, চকচোপীনগর, বিহিগ্রাম, খোট্টাপাড়া, ভোমরকুটি, বিরিকুল্যা, জুসখোলা, বড়পাথার, দরিকুল্যা সহ আশপাশের কয়েক গ্রামের মানুষ শতাধিক নার্সারি স্থাপন করে হাইব্রিড মরিচ, টমেটো, বেগুন, ফুলকপি, বাঁধা কপি ইত্যাদি সবজির চারা উৎপাদন ও বিক্রি করে আসছেন। সবগুলো নার্সারিই কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে নিবন্ধিত। উন্নত মানের চারা উৎপাদনে তারা যথাযথ প্রশিক্ষণও নিয়েছেন। তাই স্থানীয় কৃষকসহ দূর-দূরান্তের বিভিন্ন এলাকার সবজি চাষীরা নার্সারি থেকে সরাসরি এসব চারা কিনে চাষাবাদ করে লাভবান হয়ে আসছেন। সম্প্রতি এসব নার্সারি মালিকদের নিকট চারা বিক্রির বিপরীতে স্থানীয় কামারপাড়া হাটের ইজারাদার উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিনহাজ ও তার লোকজন চাঁদা/খাজনা দাবি করেছেন মর্মে অভিযোগ উঠেছে। চাঁদা/খাজনার দাবির অভিযোগ অস্বীকার করে ইজারাদার আ’লীগ নেতা মিনহাজ জানিয়েছেন, নার্সারির সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়ায় হাটের আশপাশে ফসলী জমিতে শুধু চারা উৎপাদন হচ্ছে। সবজি উৎপাদন কমে যাওয়ায় হাটে সবজি বেচা-কেনাও কমে গেছে। অবশেষে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মৌখিক পরামর্শে টোল সম্পর্কে নার্সারি মালিকদের সাথে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছিল। অভিযোগ দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করে শাজাহানপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. কামরুজ্জামান জানিয়েছেন, তদন্ত সাপেক্ষে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরদিকে কোন কৃষিপণ্য উৎপাদন স্থানে (জমিতে) কেনা-বেচা হলে সেক্ষেত্রে আশপাশের হাট-বাজারের ইজারাদার খাজনা দাবি করতে পারেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে বগুড়ার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নূরে আলম সিদ্দিকী জানিয়েছেন, এমন ক্ষেত্রে ইজারাদার খাজনা দাবি করতে পারেন না। যাদি দাবি করেন তাহলে তার ইজারা বাতিলও হতে পারে।