বেরোবি’র উইমেন পিস ক্যাফের আন্তর্জাতিক সহনশীলতা দিবস পালন

সোমবার (১৬ নভেম্বর) বিকেল ৩ টায় বেগম রোকেয়া  বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুরের উপাচার্য ও পিস ক্যাফের চিফ প্যাট্রন প্রফেসর ড. মেজর নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ, বিএনসিসিও আন্তর্জাতিক সহনশীলতা দিবস উপলক্ষ্যে “সমাজে সহনশীলতার গুরুত্ব ” শিরোনামে উন্মুক্ত আলোচনার উদ্বোধন করেন।
উদ্বোধনী  অনুষ্ঠানের শুরুতে উপাচার্য বলেন”সহনশীলতা এমন একটি বিষয় যা চর্চা করতে হবে এবং বারংবার নিজেদের মধ্যে এর বার্তা ছড়িয়ে দিতে হবে।বর্তমান বিশ্বে সহিঞ্চুতার বড়ই অভাব উল্লেখ করে তিনি বলেন বিশেষ করে কোভিড-১৯ এ বিশ্বে যে ধরণের অস্থিরতা মনোজগতে দেখা দিয়েছে, মনোদৈহিক যে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছি তা থেকে উত্তরনের জন্যে সহনশীলতার চর্চা করতে হবে।নিজে বাচঁতে হবে, অন্যকে বাচাঁর সুযোগ করে দিতে হবে। তিনি আরও বলেন,  এটি  কোন লিঙ্গীয় বৈষম্যে সৃষ্টি করবে না এবং এটাই চূড়ান্ত।
অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিধি সিপিজের প্রোগ্রাম কোওর্ডিনেটর নিলুফা সুলতানা শ্বেতা তার বক্তব্যে বলেন “শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্যে আমাদের মধ্যে সহনশীলতার  লেভেলটা বাড়াতে হবে। তিনি পারবারিক মাধ্যমে,সামাজিক মাধ্যমে, প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে এবং পরবর্তী যে যেখানে কাজ করবে সেখানে সহনশীলতা বাড়াতে হবে এমন আহবান রাখেন। সহনশীলতা শান্তির সাথে অঙ্গাঅঙ্গী ভাবে জড়িত বলেও উল্লেখ করেন তিনি।  তিনি বলেন, আমরা যদি সহনশীলতা এবং এর ধৈর্যশক্তি প্রতিষ্ঠা করতে না পারি মানুষের মধ্যে জাগিয়ে তুলতে না পারি তাহলে শান্তি প্রতিষ্ঠার বড় বাধাঁর সৃষ্টি হবে। তিনি এটাও বলে যে, সহনশীলতা  লেভেল যেন এমন পর্যায়ে না চলে যায় যেটা অন্য কারো জন্য ক্ষতিকর হয়।
উইমেন পিস ক্যাফের চিফ মেন্টর ও জেন্ডার এন্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের প্রভাষক লুবনা আক্তার বলেন, ” সহনশীলতা দিবসে  নারী পুরুষ সবার সমপর্যায়ে থাকা উচিত। কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে  আমরা অনেকটা  সহনশীলতার মধ্যেই আছি বলে উল্লেখ করেন তিনি। সহনশীলতা সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য,নারীদের পাশাপাশি পুরুষদেরও এ ব্যাপারে সহযোগীতা করতে হবে। তবে তিনিও মনে করেন সহনশীলতারও একটা লিমিট থাকা উচিত।
উইমেন পিস ক্যাফের মেন্টর ও ইইই বিভাগের প্রভাষক   ইফ্ফাত আরা বাঁধন বলেন, ” কোভিড ১৯ পরিস্থিতিতে বাসায় থাকার কারণে সংঘর্ষ বেড়ে যাচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়াতে বেশী একটিভ থাকার কারণে।  সোশ্যাল মিডিয়ার ভুল স্ট্যাটাস কিভাবে সমাজে হেট স্পিচ বাড়ায় এবং অশান্তি ডেকে আনে সে বিষয়ে আআলোকপাত করে তিনি এ পরিস্থিতিতে সহনশীলতার পরিচয় দিতে শান্তি ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে বলেন।
উইমেন পিস ক্যাফের মেন্টর ও ইইই বিভাগের প্রভাষক  আবুল মুঞ্জের বলেন,”শান্তি প্রতিষ্ঠতায়  সহনশীলতার গুরুত্ব ও ব্যাপকতা রয়েছে।শান্তি প্রতিষ্ঠায় সহনশীলতাই প্রধান হাতিয়ার বলেন তিনি।
উইমেন পিস ক্যাফের মেন্টর ও ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের প্রভাষক আলী সোহাগ বলেন,  আমাদের সমাজে সহনশীলতার বড়ই অভাব।শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেমন শিক্ষক ছাত্রের মধ্যে, বন্ধু বান্ধুব,বা সিনিয়রদের মধ্যে মারামারি, মনোমালিন্যের সৃষ্টি হচ্ছে কারণ সহনশীলতার অভাব। তিনি আরও বলেন, সহনশীলতার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করার জন্যই আমরা এমন একটি দিবস পালন করি , যেনো আমরা আমাদেরকে পরিবর্তন করতে পারি।আমরা যখন পরিবারবারে প্রতি হোক বা নিজের প্রতি হোক অথবা প্রকৃতির প্রতি অসহনশীল হই, তখন বিরূপ আবস্থার সৃষ্টি হই। সকলের প্রতি আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা যদি সহনশীলতা সৃষ্টিভঙ্গির আলোকে থেকে জীবনযাপন করি তবে আমরা জীবনের প্রতি নিয়ত চলার পথের অনেক সমস্যার সমাধান করতে পারবো।”
ভার্চুয়াল এই উন্মুক্ত আলোচনায় সঞ্চালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন পিস ক্যাফের সভাপতি উম্মে কুলছুম। উন্মুক্ত আলোচনায় আরো ব্যক্তব্য রাখেন পিস ক্যাফের সহসভাপতি ও উইমেন পিস এম্বাসেডর সাদিয়া সুলতানা, পিস ক্যাফের সাধারণ সম্পাদক ও উইমেন পিস এম্বাসেডর জেমিসন খাতুন,পিস ক্যাফের যুগ্মসম্পাদক ও পিস এম্বাসেডর  দিপা বর্মন,পিস ক্যাফের পিস এম্বাসেডর ও মেম্বার আসাদুজ্জামান আবির এবং মেম্বার সাইদুজ্জামান বাপ্পি এবং সজীব সরকার, পিস ক্যাফের মেম্বার ও উইমেন পিস এম্বাসেডর কাজী মুশফিরাত এবং  নুশরাত জাহান নিশাত। এসময় পিস ক্যাফের পিস এম্বাসেডরসহ সকল মেম্বারবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ সংবাদ