ক্ষমা চেয়ে যা বলেছেন সাকিব

বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের কলকাতায় মন্দিরে যাওয়া এবং এক ভক্তের ফোন ভাঙা নিয়ে মিশ্রপ্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সে বিষয়গুলো নিয়ে সোমবার (১৬ নভেম্বর) নিজের ইউটিউব চ্যানেলে ৭ মিনিট ৫৩ সেকেন্ডের একটি ভিডিও আপলোড করেন তিনি। সেখানে ভক্তদের প্রতিক্রিয়ার বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলেন সাকিব।

ভিডিওটির বক্তব্য সময় নিউজের পাঠকের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো:
‘আসসালামু আলাইকুম। আশা করি সবাই ভালো আছেন, সুস্থ আছেন। দুইটা বিষয় ক্লিয়ার করার জন্য এই ভিডিওটি করা হয়েছে।
প্রথমটি ফোন ভাঙা নিয়ে: আমি কখনো বুঝতে পারি না অন্য একজনের ফোন ভাঙলে আমার কি উপকার হবে বা কি বেনিফিট পাবো। আপনারা এটার ভালো এন্সার (উত্তর) দিতে পারবেন। যার ফোন ভাঙা নিয়ে কথা হচ্ছে তার ফোনটি আমি কখনোই ইন্টেনশনাল ভাঙি নাই। যেহেতু করোনাকাল সময়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হয়। কীভাবে নিজেকে নিরাপদ রেখে চলাচল করা যায় সেটা নিয়ে ভাবছি। ওইখানে অনেক মানুষ ছিল; ভিড় ছিল, সবাই চেষ্টা করেছিল ছবি তোলার জন্য। আমি চেষ্টা করেছি; কীভাবে তাদের কাছে না গিয়ে আমার কাজগুলো শেষ করতে পারি ইমিগ্রেশনের।
একজন উৎসুক জনতা আমার শরীরের ওপর দিয়ে ছবিটি তুলতে চায়; আমি তাকে সরিয়ে দিতে গেলে তার হাতের সঙ্গে আমার হাতটি লাগে। তার ফোনটি পড়ে যায় এবং হয়তো ভেঙেও যায়। তার ফোন ভাঙার জন্য আমি দুঃখিত। তবে করোনার সময়ে তারও সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত। যতদিন এই করোনার ইফেক্ট থাকে।
দ্বিতীয় ঘটনা:
দ্বিতীয় যে ঘটনাটি অবশ্যই সেটি খুবই সেনসেটিভ। প্রথমেই বলতে চাই, আমি নিজেকে একজন গর্বিত মুসলমান হিসেবে মনে করি। আমি সেটাই চেষ্টা করি পালন করার। ভুলত্রুটি হবেই, ভুলত্রুটি নিয়েই আমরা জীবনে চলাচল করি। আমার কোনো ভুল হয়ে থাকলে অবশ্যই আমি আপনাদের কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করছি। নিউজ কিংবা সোশ্যাল মিডিয়া সবখানে এসেছে আমি নাকি পূজার উদ্বোধন করতে গিয়েছি। আমি কখনোই পূজার উদ্বোধন করিনি বা উদ্বোধন করতে যাইনি।
এটির প্রমাণ আপনারা অবশ্যই পাবেন। ওইখানে অনেক সাংবাদিক ভাই-বোনেরা ছিল। যাদেরকে ওখানে ইনভাইট করা হয়েছিল। আপনারা যদি ইনভাইটেশন কার্ড দেখেন; তাহলে দেখবেন কে উদ্বোধন করবেন। এবং সেটি উদ্বোধন হয়েছে, আমি যাওয়ার আগেই। যেখানে প্রোগ্রামটি হয়েছে; তার পাশে পূজামণ্ডপ ছিল। আমি ৪০-৪৫ মিনিট সেখানে ছিলাম। সেখানে ধর্ম ও বর্ণ নিয়ে কোনো কথা হয়নি।
মণ্ডপের সামনে তোলা ছবি কিংবা মোমবাতি প্রজ্জ্বলন নিয়েও মুখ খুলেছেন সাকিব। সাকিবকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন মূলত বিধায়ক পরেশ পাল, তার সাথে সাংবাদিকদের অনুরোধেই সাকিব মণ্ডপের সামনে ছবি তোলেন ও মোমবাতি প্রজ্জ্বলন করেন। তিনি বলেন, ‘অনুষ্ঠান শেষে যখন গাড়িতে উঠতে হবে… যেহেতু পাশেই পূজার আয়োজন ছিল, অনেক রাস্তা বন্ধ ছিল। স্বাভাবিকভাবে মণ্ডপ পেরিয়ে আমাকে গাড়িতে যেতে হত। যাওয়ার সময় পরেশ দা, যিনি আমাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন, তার আমন্ত্রণে আমি প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করি। যেহেতু কলকাতায় আমি অনেকদিন খেলেছি, তারা আমাকে অনেক পছন্দ করে। আর প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের একটি তোলা হয়। যে সময়টা আমি পূজা মণ্ডপে ছিলাম সবাই বলেছেন; আমি পূজা উদ্বোধন করেছি যেটি আমি কখনোই করি নাই।
একজন সচেতন মুসলমান হিসেবে সেটা করবো না। তারপরও সেখানে যাওয়াটা আমার ঠিক হয়নি তাহলে এর জন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত এবং ক্ষমাপ্রার্থী। আমি মনে করি আপনারা বিষয়টি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। ভবিষ্যতে এরকম ঘটনা যাতে পুনরাবৃত্তি না ঘটে। সেটিও চেষ্টা করবো।

আপনাদেরকে বিষয়টি ক্লিয়ার হওয়ার জন্য পূজার উদ্বোধন কে করেছেন তা বলছি; কার্ডে তার পরিচয় এভাবে লিখা- ফিরহাদ হাকিম, প্রশাসনিক প্রধান, কলকাতা পৌরসভা, মন্ত্রী, পশ্চিমবঙ্গ সরকার। আমি যাওয়ার আগে তিনি পূজার উদ্বোধন করেছিলেন।

সাকিব আরও বলেন, আমার কোনও ইন্টেনশনাল ছিল না আমার ধর্মকে ছোট করবো। অন্য ধর্মকে বড় করবো। এরকম কোনো বিষয়ই ছিল না। আমার মনে হয় ইসলাম একটি শান্তির ধর্ম। যদিও এ সম্পর্কে আমার জ্ঞান খুবই কম। আমি চেষ্টা করছি; ভবিষ্যতেও চেষ্টা করবো ইসলাম সম্পর্কে যতজ্ঞান নেয়া যায়।

সর্বশেষ সংবাদ