ভুরুঙ্গামারী উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ জয়িতা ৫ নারী

সাইফুর রহমান শামীম,, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারীতে বিভিন্ন কাজে সফলতা অর্জন করায় উপজেলা পর্যায়ে ২০১৯ শ্রেষ্ঠ জয়িতা হিসেবে মনোনীত হয়েছেন ৫ নারী। জয়তিরা হলেন অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জনকারী নারী ভুরুঙ্গামারী সদর ইউনিয়নের ঈশ্বরবড়ুয়া গ্রামের কবির উদ্দিনের মেয়ে কুলসুম আক্তার ববিতা, বাবার সহযোগিতায় খয়বর মোড়ে দোকান ভাড়া নিয়ে চায়ের দোকান করে স্বাবলম্বী। সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদান রেখেছেন যে নারী উপজেলার বঙ্গসোনাহাট ইউনিয়নের মধ্য ভরতের ছড়া গ্রামের সােেনায়ার হোসেনের কন্যা শাহানারা বানু নুপুর। লেখাপড়ার পাশাপাশি শিশু অধিকার, শিশু সুরক্ষা বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করেন। তারা ক্লাশের বান্ধবীদের বাল্যবিবাহের কুফল বিষয়ে সচেতনতামুলক পরামর্শ প্রদান করা এবং সামাজিক বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে অবদান রাখায় ২০১৮ সালে স্বর্ণ কিশোরী হিসেবে নির্বাচিত হন। মেয়ে আমি সমান সমান প্রকল্পের আওতায় সারা বাংলাদেশের মধ্যে প্রথম হয়ে গত ১৬ অক্টোবর ২০১৯ তারিখে গ্রামীন ফোন হেডকোয়ার্টার ঢাকায় চীফ এক্সিকিউটিউ অফিসার হিসেবে ১ দিনের প্রতীকি দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে নুপুর সোনাহাট ডিগ্রী কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের একাদশ শ্রেনীর ছাত্রী। শিক্ষা ও চাকুরী ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করেছেন আন্ধারীঝাড় ইউনিয়নের খামার আন্ধারীঝাড় গ্রামের মইফুল বেগমের মেয়ে সুচরিতা খাতুন। সুচরিতার বয়স যখন ৩ বছর তখন বাবা তার মাকে ফেলে নিরুদ্দেশ হয়ে যায়্‌। দশম শ্রেনিতে পড়াবস্থায় তার বিয়ে হয়। জীবনের সাথে যুদ্ধ করে এসএসসি পাশ করেন। অন্যের বই ধার করে, প্রাইভেট পড়িয়ে এইচএসসিতে জিপিএ ৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়ে মাস্টার্স পাশ করেছেন। বর্তমানে সে গ্রাম আদালত সক্রিয়করন প্রকল্পের আওতায় ইএসডিও সংস্থায় কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। সফল জননী নারী ভুরুঙ্গামারী সদর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড দেওয়ানেরখামার গ্রামের আঃ কুদ্দুস খন্দকারের স্ত্রী হালিমা বেগম। স্বামী-স্ত্রী দু’জনে হোটেলে কাজ করে মেয়েদের লেখাপড়া চালিয়েছেন। বড় মেেেয় কুলছুম আক্তার মাস্টার্সে ও ছোট মেয়ে কল্পনা ভুরুঙ্গামারী সরকারি ডিগ্রী কলেজে স্নাতক ১ম বর্ষে পড়াশুনা করছেন। নির্যাতনের বিভিষিকা মুছে ফেলে নতুন জীবন শুরু করেছেন বঙ্গসোনাহাট ইউনিয়নের বানুরকুটি গ্রামের নিজাম উদ্দিনের মেয়ে মিমি ইয়াছমিন। বাবা-মার ছাড়াছাড়ি হওয়ার পর বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করে। অষ্টম শ্রেণিতে পড়াবস্থায় বাবা-মা বিয়ের জন্য চাপ দিলে প্রশাসনের সহযোগিতায় বিয়ে বন্ধ করে। সংসারে নির্যাতন সহ্য করে বর্তমানে বাল্যবিয়ে মুক্ত হয়ে এসএসসি পাশ করে ভালোভাবে লেখাপড়া করে পুলিশ কর্মকর্তা হতে চান।