রাণীনগরে ট্রান্সফরমার বিকল হওয়ায় রোপা-আমন ধান চাষ অনিশ্চিত

এ বাশার (চঞ্চল) রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি: নওগাঁর বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের কর্তা ব্যক্তিদের দ্বায়িত্বে অবহেলার কারণে রাণীনগর উপজেলার আতাইকুলা ফিডারের দূর্গাপুর বড় ব্রীজের পার্শ্বে স্থাপিত ট্রান্সফরমার ২৮ দিন ধরে বিকল হয়ে পড়ে থাকার কারণে প্রায় ৯ শ’ বিঘা জমির রোপা-আমন ধান চাষ অনিশ্চিত হয়ে দাড়িয়েছে। বর্ষার পানিতে স্থানীয় কৃষকরা বুক ভরা আশা নিয়ে কিছু জমি চাষ করলেও পানির অভাবে পূর্ণাঙ্গ রুপে চারা রোপণ যোগ্য করতে না পারাই চাষিরা হতাশ হয়ে পড়ছে। যে পরিমাণ জমিতে দুই/তিন চাষ দেওয়া হয়েছে সেই জমি আবার রোদ-বৃষ্টির খেলায় শুকিয়ে ফাটল ধরার উপক্রম হচ্ছে। চাষ দেওয়া জমি গুলো কাঁদা পানি ধরে রাখার লক্ষ্যে সামর্থবান কৃষকরা ব্যক্তি পর্যায়ে শ্যাল-মেশিন দিয়ে জমিতে পানি সেচের ব্যবস্থা করছে। তৈলের দাম বেশি থাকায় অনেক কৃষক তাও পারছে না।
জানা গেছে, উপজেলার দূর্গাপুর-ভবানীপুর মৌজায় বগুড়া জেলার পল্লী উন্নয়ন একাডেমি দূর্গাপুর, ভবানীপুর, প্রামানিকপাড়া, খানপাড়া, সর্বরামপুর, মিনাপাড়া সহ পার্শ্ববর্তী আরোও বেশ কয়েকটি গ্রামে বিশুদ্ধ খাবার পানি সরবারহ কাম ইডিগেশানের জন্য ২০০৩ সালে দূর্গাপুর মৌজার প্রামানিকপাড়া নামক স্থানে জনস্বার্থে পর্যায়ক্রমে দুইটি গভীর নূলকূপ স্থাপন করা হয়। স্থাপনের কিছু দিন পরে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড নওগাঁর কাঁঠালতলী অফিস হতে আতাইকুলা ফিডারের আওতায় বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান করা হয়। কিন্তু হঠাৎ করে গত ৬ জুলাই এই লাইনে ট্রান্সফরমাটি বিকল হলে পরদিন বিদ্যুৎ অফিসে নূলকূপ কর্তৃপক্ষ জানালে তাৎক্ষনিক ভাবে অফিস থেকে জানানো হয় এই মূহুর্তে আমাদের কাছে সচল কোন ট্রান্সফরমা না থাকায় নূলকূপের ট্রান্সফরমাই মেরামত করে যত তারাতারি সম্ভব পূনঃস্থাপনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবারহ সচল করা হবে। মুখোরচক আশার বানী সাথে সাথে দিলেও নওগাঁ বিদ্যুৎ অফিসের গাফলতির কারণে প্রায় ২৮ দিন ধরে ওই নূলকূপে সংযোগ প্রদান না করায় চলতি খড়িপ-২ রোপা-আমন মৌসুমে ওই নূলকূপের আওতাধীন সহ পার্শ্ববর্তী হামিদুল ও জায়েদ আলীর আরো দুইটি স্কীমের প্রায় ৯ শ’ বিঘা জমির রোপা-আমন ধান চাষ প্রায় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। বিদ্যুৎ চালুর অপেক্ষায় না থেকে মৌসুমের উপযুক্ত সময়ে ধান লাগানোর আশা নিয়ে স্থানীয় চাষিরা আষাঢ়ের বৃষ্টিতে জমি চাষ শুরু করলে চাহিদা মত পানি না পাওয়ায় জমিতে ধান রোপণ তো দূরের কথা তৈরি জমি গুলোও রোদে শুকিয়ে যাচ্ছে। ফলে কৃষকরা জমিতে সকল প্রকার খরচ করেও বিদ্যুতের ট্রান্সফরমা মেরামতের গরিমসি করার কারণে পানির অভাবে একই জমিতে চাষিদের দুই বার খরচের কবলে পড়তে হচ্ছে। এছাড়াও ট্রান্সফরমা বিকলের কারণে বেশ কয়েকটি গ্রামের আবাসিক গ্রাহকরা বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছেন। স্থানীয়দের দাবি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জনস্বার্থে বিষয়টি সুনজরে এনে গুরুত্ব দিয়ে ওই এলাকায় বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থা সচল করা হোক।
উপজেলার ভবানীপুর গ্রামের রোপা-আমন চাষি আইজার রহমান জানান, ধান চাষের জন্য আমি ইতিমধ্যেই চারা প্রস্তুত করেছি। যথা সময়ে ধান লাগাবো বলে নূলকূপের আশায় অপেক্ষা না করে বৃষ্টির পানিতেই দুই বিঘা জমি চারা রোপণ যোগ্য করেছিলাম। কিন্তু ট্রান্সফরমার বিকলের কারণে বিদ্যুৎ বিভ্রাটে চাহিদা মত পানি না পাওয়ায় ধান লাগাতে পারছি না।
দূর্গাপুরের গভীর নূলকূপের ম্যানেজার সান্টু খন্দকার জানান, আমাদের ট্রন্সফরমার বিকল হওয়ার পরদিনে আমি বিদ্যুৎ অফিসে গিয়ে জানায়। কর্তৃপক্ষ কৃষকের স্বার্থে তারাতারি মেরামতের আশ্বাস দিলেও টালবাহানা করে সময় নষ্ট করছে। ২৮ দিন অতিবাহিত হলেও আজ পর্যন্ত ট্রান্সফরমার মেরামতের কোন উদ্দ্যোগ চোখে পড়ছে না। আতাইকুলা ফিডারের দ্বায়িত্বে থাকা প্রকৌশলী ফিরোজ আহমেদের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করেও কোন ফল হচ্ছে না। আজ (বৃহস্পতিবার) কয়েকবার তার ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে সে ফোন ধরে না। কৃষকদের চাপে মুখে আমি কিছুটা গোপনেই রাস্তা-ঘাটে চলাচল করছি।
উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ এসএম গোলাম সারওয়ার জানান, আমি শুনেছি ওই এলাকায় বিদ্যুতের সমস্যার কারণে পানির অভাবে চাষিরা ধান লাগাতে পারছে না। খড়িপ-২ রোপা-আমন ধান জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে রোপণের উপযুক্ত সময়। যেহেতু বেশকিছু সময় ওই এলাকার কৃষকের নষ্ট হয়েছে, চাহিদা মত পানি পেলে এখনোও ধান রোপণ করা যাবে। এতে ফলনের কোন ক্ষতি হবে না। তবে বিদ্যুতের বিষয়টি কৃষকদের স্বার্থেই বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের কর্তৃপক্ষের গুরুত্ব দেওয়া উচিত।