নবান্ন উৎসব উপলক্ষে দুপচাঁচিয়ায় মাছের মেলা

দুপচাঁচিয়া(বগুড়া) প্রতিনিধিঃ বাঙালির বিভিন্ন উৎসবের মধ্যে নবান্ন একটি অন্যতম উৎসব। সনাতনী পঞ্জিকামতে বাংলাসনের অগ্রহায়ন মাসের প্রথমদিন নবান্ন উৎসব জাকজকমভাবে পালিত হয়। আর এই নবান্ন উৎসবকে ঘিরে দুপচাঁচিয়া সিও অফিস বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বিরাট মাছের মেলা বসেছে। দুপচাঁচিয়া মৎস্য আড়ৎদার ব্যবসায়ী সমিতির আয়োজনে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও এ মাছের মেলা বসেছে। সোমবার রাত ১০টা হতে উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল সহ পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন উপজেলা থেকে মৎস্যচাষী ও মৎস্য ব্যবসায়ীরা এ মাছের মেলায় বড় বড় মাছ আনতে শুরু করেন। মঙ্গলবার ভোর হতে এ মাছের মেলা জমে উঠতে শুরু করে। বিভিন্ন এলাকা হতে বড় বড় রুই, মৃগেল, কাতলা, চিতল, সিলভারকাপ, ব্রিগ-হেড, পাঙ্গাস, কার্ফ জাতীয় মাছ সহ আরও অনেকজাতের মাছ এ মেলায় আসে। বিশেষ করে সনাতন ধর্মালম্বী(বাঙালি) সম্প্রদায়ের মানুষ এই নবান্ন উৎসবকে বেশি প্রাধান্য দেয়। এদিন তারা বড় বড় মাছও কিনেন। মুসলমানরাও এ মাছ কেনায় পিছিয়ে নেই।
সরেজমিনে মঙ্গলবার সকালে মাছের মেলায় ঘুরে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বড়মাপের কাতলা মাছ প্রকার ভেদে ৫’শ থেকে ৭’শ, ব্রি-হেড সাড়ে ৪’শ থেকে সাড়ে ৫’শ রুই ৫’শ, সিলভারকাপ ২’শ ৮০ থেকে ৩’শ ৫০ কেজি দরে বেচা-কেনা হতে দেখা গেছে। তবে বেলা গড়ার সাথে সাথে মাছের দাম কিছুটা কমে যায়।
মাছ কিনতে আসা ক্রেতা উপজেলার ডাঙ্গাপাড়ার উজ্জল হোসেন বলেন, সখের বসে এ মাছ মেলায় মাছ কিনতে এসেছিলাম। মাছের দাম নাগালে থাকায় তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।
বিসমিল্লাহ মৎস্য আড়তের পরিচালক ওমর ফারুক ও রতন মন্ডল জানান, নবান্ন উপলক্ষে এ মাছের মেলায় বেচা-কেনা ভালই হয়েছে। মাছের ধরণ ভেদে দামও ক্রেতাদের নাগারে ছিল।
দুপচাঁচিয়া মৎস্য আড়ৎদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর ছিদ্দিক আলম বলেন, এ মাছের মেলায় বিভিন্ন জেলা হতে মাছ ব্যবসায়ীরা মাছ নিয়ে আসেন। কেনা-বেচাও ভালো হয়। তবে জায়গা সংকীর্ণ হওয়ায় তারা বিড়ম্বনায় পড়েন। তাই মাছ বাজারের জায়গা সম্প্রসারণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।