বগুড়ায় নবান্নের কোটি টাকার মাছের মেলায় হাজারও নারী-পুরুষের পদচারণা

স্টাফ রিপোর্টার: নবান্ন উপলক্ষ্যে মাছের মেলা বসেছে বগুড়ার উথলীতে। দু,শ শত বছরের এই মেলায় মাছ, মিষ্টি, দই, নুতন চাল, নুতন আলু, চিরা, গুড় কিনতে হাজারও নারী পুরুষ ভীড় জমিয়েছে।বগুড়া শহর থেকে ২৫ কিলোমিটার দুরে শিবগন্জ উপজেলার উথলী গ্রামের নবান্নের মেলায় গিয়ে দেখা যায়, সকাল থেকেই নারী পুরুষ কেনাকাটা কেনা কাটায় ব্যাস্ত। নবান্নের উথলী মেলাকে অনেকে মাছের মেলা বললেই নবান্নের এই মেলায় মিষ্টি, দই, নুতন আলু, নুতন ধানের চাল, চিরা, গুড় কিনতেও ভীড় জমেছে। বগুড়ার বিভিন্ন প্রান্ত এবং পাশের জয়পুরহাট, গাইবান্ধা জেলা থেকেও মেলায় এসেছে ক্রেতারা।পুন্জিকার সাথে মিল রেখেই প্রতি বছর মেলার আয়োজন করা হয়। মেলা উপলক্ষ্যে আত্তীয় স্বজন বিশেষ করে জামাইদের নিমন্ত্রন করা হয়। জামাইরাও শশুর বাড়ীর জন্য কেনাকাটা করে। দেখা গেছে, বড় বড় রুই, কাতলা, বাঘাইর, চিতল, মৃগেল এমনকি সামুদ্রিক চিতল, করাল, চেরী মাছও উঠেছে মেলায়। নবান্নের মেলাকে ঘিড়ে উথলী ও আশে পাশের গ্রামের মানুষ উৎসবে মেতে উঠেছে।উথলী গ্রামের জাহিদুল ইসলাম জানালো, দাদার কাছ থেকে শুনেছি প্রায় ২ শত বছরের পুরানো মেলা এটা। এলাকাটিতে সনাতন ধর্মের লোকদের বসবাস ছিল বেশী। তাদের উদ্যোগেই মেলাটি প্রতিষ্টত হয়। এখন মেলাটি হিন্দু- মুসলিম সবার নবান্ন উৎসবের মেলা। তিনি জানান, মেলাটি রাত ১২টার পর থেকেই শুরু হয়। তবে ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মেলাটি জমে ভালো।পাশের গাড়ীদহ কৃষ্টপুরের মাছ ব্যাবসায়ী শহিদুল ইসলাম জানান, তিনি দুই লাখ টাকার মাছ এনেছেন। বাঘাইর প্রতিকেজি ৬ শত টাকা, মৃগেল ৪শত টাকা করে বিক্রি করছেন।মোকামতলার অতুল চন্দ্র জানান, কাতলা ৫২০ টাকা, সিলভার কাপ ৫শত টাকা কেজি বিক্রি করছেন। মেলার অধিকাংশ মাছই ৫ থেকে ২৫ কেজি ওজনের।জাহাঙ্গীরা বাদের জিয়ারুল জানান, তিনি সামুদ্রিক চিতল, করাল, চেরী মাছ এনেছেন। বিক্রী ভালো হচ্ছে বলে জানান তিনি। দই বিক্রেতা গোপাল জানালো, মেলা মাছের পাশা পাশি দই অন্তত এক হাড়ি হলেও ক্রেতারা কেেেন। বিক্রিও হচ্ছে অনেক। মিষ্টি বিক্রেতা জাহাঙ্গীরও জানালো একই ধরনের কথা।নুতন আলু বিক্রেতা আব্দুল হামিদ জানান, নবান্নে নুতন আলুর চাহিদা বেশী। বিশেষ করে সনাতন ধর্মের লোকেরা একশ গ্রাম হলেও কিনবে। নুতন আলু তাদের নবান্নের একটি বিশেষ উপাদান। ৪ শত টাকা কেজিতে আলু বিক্রি করছেন বলে জানান হামিদ।বগুড়া শহর থেকে রিদম এসেছিল বাবার সাথে মেলায়। রিদম জানালো, ৭ কেজি ওজনের রুই কিনেছে ৪ হাজার ৯ শত টাকায়।জামাই সাথে নিয়ে পাশের নন্দাখোলার অনিতা রায় এসেছিল মেলায়। তিনি জানালেন, দই, মিষ্টি, নুতন আলু, মাটির কিছু জিনিষ পত্র ও মাছ কিনলাম। প্রতি বছরই মেলায় কেনাকাটা করতে আসেন বলে জানালেন অনিতা।উথলী নবান্নের মেলার ইজারাদার আল আমিন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, মেলায় এবার কোটি টাকার উপরে মাছ বিক্রী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গত বছরের চেয়ে এবার মাছ আমদানী বেশী হয়েছে। দামও ক্রেতাদের সহনীয় পর্য়ায়ে রয়েছে।