কুড়িগ্রামের উলিপুরে তিন পুরুষ মামলা চালিয়েও ডিগ্রীপ্রাপ্ত জমির দখল বুঝে পায়নি অসহায় পরিবার

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ তিন পুরুষ মামলা চালিয়েও ডিগ্রীপ্রাপ্ত জমির দখল বুঝে পায়নি অসহায় আকতারুল ইসলামের পরিবার। উল্টো প্রভাবশালী ভূমিদস্যু রনী বাহীনির ভয়ে অসহায় পরিবারের লোকজন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। এই ঘটনাটি ঘটেছে কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার দলদলিয়া ইউনিয়নের আব্দুল হাদী গ্রামে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়- ৩৬ বছর পূর্বে ১৯৮৪ ঘটনাস্থলের বাসিন্দা মফিজ উদ্দিন বিরোধপূর্ন ৫ একর সাড়ে ১৬ শতক জমির উপর কুড়িগ্রাম সহকারী জজ আদালতে (উলিপুর) মোকাদ্দমা দায়ের করেন। টানা চার বছর মোকাদ্দমা চালানোর পর ১৯৮৮ সালে তিনি মারা যান। তার অবর্তমানে মোকাদ্দমার হাল ধরেন বাদীর একমাত্র পুত্র আহাদ আলী। তিনি দীর্ঘ ২২ বছর মামলার ঘানি টেনে ২০১০ সালে ওই মামলায় ডিগ্রী লাভ করলেও জমির দখল বুঝে পাননি। জমির চিন্তায় তিনি ব্রেন ষ্ট্রোক করে ওই বছরেই মৃত্যু বরণ করেন। এরপর মৃত আহাদ আলীর একমাত্র পুত্র আকতারুল ইসলাম ডিগ্রীপ্রাপ্ত ৫ একর সাড়ে ১৬ শতক জমির দখল বুঝে চেয়ে ২০১৩ সালে একই আদালতে ডিগ্রী জারীর জন্য মোকাদ্দমা দায়ের করেন। চার বছর পর মামলার রায় আসে বাদী আকতারুলের পক্ষে। এরপর আদালত কমিশন গঠন করে ২০১৭ সালের ১৯ এপ্রিল ঢোল পিটিয়ে ডিগ্রী প্রাপ্ত ৫ একর সাড়ে ১৬ শতক জমি বাদী আকতারুল ইসলামকে বুঝে দেন। ঘটনা এখানেই শেষ নয়; আদালত জমি বুঝে দেয়ার মাত্র ৩ মাসের মাথায় ভূমিদস্যু রুহুল আমিন কবীর রনীর নেতৃত্ব নোয়াব আলী (৫০), আবু তালেব (৫৫), মামুনুর রশীদ (৩০), সিয়াম আলী (২৬), আজাদ আলী (৪৫), তুহিন (২৮) সহ প্রায় ১৮/২০ জন ওই জমি নিয়ে দ্বন্দ-সংঘাত শুরু করে। রক্ত ঝরে বাদী আকতারুল ইসলাম, তার স্ত্রী আয়শা খাতুন ও তার বৃদ্ধা মাতা আছিয়ার শরীর থেকে। এতোকিছুর পরও বাদী আকতারুল ইসলাম ওই জমির হাল ছাড়েননি। সে জমিতে ফসল ফলায় আর ভূমিদস্যুরা ওই ফসল কেটে নিয়ে যায়। ভূমিদস্যুর কবল থেকে রক্ষা পাবার জন্য বাদী আকতারুল ইসলাম মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সহ সংশ্লিষ্ট সকলের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।