পালাশবাড়ীতে শিক্ষা অফিসের প্রধান অফিস সহকারী কর্তৃক প্রধান শিক্ষিকা লাঞ্চিত

আরিফ উদ্দিন, গাইবান্ধা প্রতিনিধিঃ গাইবান্ধার পালাশবাড়ীতে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের প্রধান অফিস সহকারী ওরফে বড়বাবু (ইউডিএ) আব্বাস আলী কর্তৃক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকাকে লাঞ্চিত করায় সহকর্মী শিক্ষক মহলের মাঝে চরম অসন্তোষসহ মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী প্রধান শিক্ষিকা মাহমুদা বেগম জানান, তিনি পালাশবাড়ী উপজেলার কিশোরগাড়ী ক্লাষ্টারধীন কাঁতুলী ১নং সরকারি প্রাথামিক বিদ্যালয়ের একজন প্রধান শিক্ষিকা। তাঁর স্বামী স্থানীয়ভাবে একজন সাংবাদিক। তিনি পেশাগত দায়িত্বপালন করতে গিয়ে নানা সময় অফিসটির নানামুখী অন্যায়-দূর্ণীতি ও স্বেচ্ছাচারিতা সম্পর্কীত বিষয় নিয়ে সস্প্রতি সময় পরপর বেশ কয়েকটি সংবাদ প্রকাশ করেন।
প্রকাশিত এসব খবরা-খবরের কারনে ক্ষুব্ধ বড়বাবু আব্বাস আলীসহ অফিস সংশ্লিষ্ট কতিপয় ঈর্ষান্বিত হয়ে অহেতুক হয়রানির উদ্দেশ্যে সম্পূর্ণ পূর্বপরিকল্পিত মারাত্মক তেঁতে উঠেন। ওই প্রধান শিক্ষিকা সাংবাদিকের সহধর্মিণী হবার কারণে তাঁর বিরুদ্ধে নানা ছল-সূঁতো খুজতে থাকেন।
এরইধাবাহিকতায় দায়িত্ব ও কর্তব্যপালন কালে গত একবছর আগে বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীন একটি বিষয় নিয়ে শিক্ষকদের মাঝে ভুল বুঝাবুঝির সূত্রপাত ঘটে। বিষয়টি সে সময় সন্তোষজনক ভাবে মিমাংসা হয়।
চলমান সময়ের ধারাবাহিকতায় কোনরুপ কোন ইস্যু না পেয়ে আব্বাস আলী গং’রা একপর্যায় মিমাংসিত বিষয়টিকে পুঁজি করে নানা ষড়যন্ত্রের জাল বুনতে থাকে। এরই অংশ হিসেবে মিমাংসিত ওই বিষয়টিকে নিয়ে গত ১৮ নভেম্বর নতুন করে একটি তদন্তের তারিখ ঘোষণা করেন। এসএমসি’র একাধিক সদস্য ও শিক্ষকবৃন্দসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে বিষয়টি রীতিমতো লিখিতভাবে সমাধান সম্পন্ন করা হয়।
সৃষ্ট বিষয়টির মিমাংসা পত্রের হুবাহু কপি গত ১৭ নভেম্বর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস কর্তৃক স্বাক্ষরিত অবগতি পত্র পরদিন ১৮ নভেম্বর সকাল ৯টায় পলাশবাড়ী শিক্ষা অফিসে দাখিল করতে গিয়ে ঘটে ঘটনার সূত্রপাত।
এদিন দীর্ঘ সময় অপেক্ষমান থাকার একপর্যায় সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বড়বাবু আব্বাস আলী উপস্থিত হয়ে সরাসরি শিক্ষা অফিসারের কক্ষে প্রবেশ করেন। প্রায় ঘন্টাব্যাপী অপেক্ষমানের পর ১০টা ৫০ মিনিটে তিনি কক্ষ থেকে বেরিয়ে আসেন। এসময় রিসিভকৃত অবগতি পত্রের ওই কপি সমূহের প্যাকেটটি তাকে জমা প্রদান করতে গেলে ঘটে বিপত্তি। দাম্ভিকতার সহিত বলেন কোনরুপ কোন কাগজপত্র রিসিভ করবেন না বলে সাফ জনিয়ে দেন।
উপায়ন্তর না পেয়ে সাংবাদিক ফেরদাউস জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের রিসিভ কপি কাগজপত্রের খামটি নিয়ে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুস সালাম-এর শরণাপন্ন হলে তিনি তা গ্রহন করেন। তিনি জিজ্ঞাসা করেন খামটিতে কিসের কাগজপত্র রয়েছে বলে উল্লেখ করলে বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মাঝে সৃষ্ট ভুল বোঝাবুঝির মিমাংসা পত্রের কাগজ রয়েছে বলে এসময় অবগত করা হয়।
তিনি বলেন, মিমাংসা যতই হোক না কেন তবুও তদন্ত অবশ্যই করা হবে। তাৎক্ষনিক হুবাহু অনুরূপ একটি কপি ওই বড় কেরানীর টেবিলে এসে জমা প্রদান করতে চাইলে তিনি প্রথমেই চরম এবং অসম্মানজনক উচ্চস্বরে রাগান্বিত হয়ে তিনি এসব কাগজ রিসিভ করবেন না বলে অফিস থেকে বেরিয়ে যেতে বলেন। এসময় তিনি বলেন কি করতে পারেন করুন গিয়ে-আমি এসব কাগজ জমা গ্রহন করবোনা। এটা কি মগের মূল্লুক পেয়েছন। সাংবাদিক স্বামীকে সাথে করে এনেছেন কেন? পলাশবাড়ী কি কিনে নিয়েছেন না-কি? আপনার স্বামী কত বড় সাংবাদিক? তাকে আমাদের বিরুদ্ধে লাগিয়েছেন। তাকে দেখে নেয়া হবে। আমি এ কাগজ রিসিভ করব না। চলে যান আপনি, আমার কি করতে পারেন করেন গিয়ে।
এসময় তিনি উপর্যুপরি বিভিন্ন ধরনের অকথ্য-অশ্লীল ভাষা প্রয়োগের মাধ্যমে আমাকে গালমন্দ ও লাঞ্চিতসহ অপমান অপদস্ত করেন। পরে অপর অফিস সহকারি আশাদুল ইসলাম জেলা অফিস কর্তৃক কাগজপত্রের খামটি রিসিভ করে নেন।
শিক্ষা অফিসে কর্মরত বড় কেরানী আব্বাস আলীর আচরণ সম্পর্কে একাধিক শিক্ষক জানান, এই বড় কেরানী যোগদানের পর থেকেই শিক্ষা অফিস ক্রমান্বয়ে ঘুষ-দূর্ণীতির বেড়াজালে ডুবছে। এখানে জবাবদিহি যেন শূন্যের কোঠায়। অতীতের যে কোন সময়ের তুলনায় অফিসটি যেন দূর্ণীতির আখরায় পরিণত হয়েছে। তারা আরো জানান, বড়বাবু বা বড় কেরানী আব্বাস আলী দূর্ণীতিতে সস্পৃক্ত থাকা চিহিৃত কতিপয় মুখচেনা কয়েকজন শিক্ষক ছাড়া অধিকাংশ সাধারণ শিক্ষককে জিম্মি করে রেখেছেন। তিনি টাকা ছাড়া কোন কাজই বুঝেননা। সর্বোপরি অর্থবিহীন কখনো কোন কাজই অগ্রগতি করেন না।বড় কেরানী বলে কথা। তিনি প্রত্যেক কর্মদিবসে সকাল ১১টা থেকে ১২টার আগে অফিসে কখনোই আসেন না। আবার দুপুর ১টা থেকে ২ টার পরপরই অফিস থেকে বেরিয়ে যান। এতে করে ভূক্তভোগি শিক্ষকদের নানামুখী চরম হয়রানীর শিকারে রীতিমতো দিশাহারা হয়ে পড়েছেন।
তাদের দাবী একটাই বড় কেরানীকে শিক্ষা অফিস থেকে অন্যত্র না সড়ানো এবং তার বিরুদ্ধে উর্ধতন তদন্তের ব্যবস্থা না করলে শিক্ষা অফিস কখনো ঘুষ ও দুর্নীতির রাহুগ্রাস থেকে মুক্ত হবে না।বড় কেরানীর দিরুদ্ধে কোন কিছু বললেই তিনি শিক্ষকদের বিরুদ্ধে নানামুখী হয়রানী করা যেন রীতিমতো নিয়মে পরিনত হয়েছে।
অভিযোগ সম্পর্কে বড় কেরানীর মতামত জানতে তার মুঠো ফোন-০১৭১১-৯৮২০৯১ নম্বরে অনেকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও ফোন বন্ধ পাওয়ায় এ ব্যাপারে তার মন্তব্য জানা যায়নি।
এ ব্যপারে ভুক্তভোগী প্রধান শিক্ষিকা মাহমুদা বেগমসহ একাধিক শিক্ষক, বড় কেরানীর এহেন কর্মকান্ড ও অসদাচরণ সরেজমিনে তদন্ত পূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করতে সংশ্লিষ্ট বিভাগের উর্ধতন কর্তৃপক্ষের যথাযথ জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সর্বশেষ সংবাদ