গাইবান্ধায় নদী ভাঙ্গন প্রতিরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নেই কোন ভূমিকা

আরিফ উদ্দিন, গাইবান্ধা থেকেঃ গাইবান্ধা জেলায় সম্প্রতি বন্যা পরবর্তী সময়ে ব্যাপক নদী ভাংঙ্গন শুরু হয়েছে। এতে ওই সব এলাকায় বসবাসরত মানুষের মাঝে আতংক বিরাজ করছে। যে কোন সময় রাক্ষুসী যমুনা, ব্রহ্মহ্মুত্র, করতোয়া কাটাখালী নদী তাদের একমাত্র আশ্রয়স্থল বসবাসরত বাড়ী ঘর গ্রাস করতে পারে। তবে নদীর তীর ঘেষা এসব বাড়ী ঘর রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোন মাথা বৃথা নেই। অসহায় এসব নদীর তীর এলাকার মানুষ তীক্ষ্র দৃষ্টিতে চোখের পানি ছেড়ে দিয়ে চেয়ে থাকে রাক্ষুসী এসব নদীর দিকে। বাব দাদার পৈত্তিক ভিটা মাটি ছেড়ে কোথায় যেয়ে মিলবে পরিবার পরিজন নিয়ে মাথা খোঁজার একটু ঠাঁই। তা’ নিয়েই এখন ব্যস্ত হয়ে পড়েছে নদীর তীর এলাকার মানুষ। বিশেষ করে জেলার সুন্দরগঞ্জ তিস্তা, ফুলছড়ির যমুনা, ব্রহ্মপুত্র, সাঘাটার কাটাখালী নদীর বন্যা কবলিত এলাকার নদীর তীর ঘেষা এসব মানুষের মাঝে চরম আতংক বিরাজ করছে। সরেজমিনে ওই সব এলাকায় গেলে চোখে পড়ে তাদের এই দৃশ্য। নদীর তীরের ভোক্তভোগিরা অভিযোগের তীর ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, এ জেলার পানি উন্নয়ন বোর্ড শুধু নাম সর্বস্ব ছাড়া আর কিছুই নেই। এদের দ্বারা নদীর তীরে বসবাসকৃত মানুষের কোন উপকার হয় না। বন্যা যত বেশি হবে সরকারী অর্থ ততো লূটপাট করে খাবে এটাই তাদের কাজ। নদী ভাংঙ্গন প্রতিরোধে আগাম কোন প্রস্তুতি তাদের নেই। ঢাকা রাজধানীর সাথে উত্তরবঙ্গের ৮ টি জেলার প্রবেশ দ্বার গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার আঞ্চলিক মহাসড়ক গোবিন্দগঞ্জ টু দিনাজপুর সড়কের কাইয়াগঞ্জ তরফমনু স্থানে গত বৎসরে বন্যার ভাংঙ্গনে এই মহাসড়কটি হুমকির মূখে পড়েছে। যে কোন সময় বড় ধরনের বন্যার কবলে পড়লে ৮ টি জেলার সাথে পরিবহণ যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাবে। বন্যার সময় এসব স্থানে প্রতি বৎসর ভাংঙ্গন প্রতিরোধের নামে নদী গর্ভে বালুর বস্তা ফেলে সরকারী অর্থ অপচয় করা হয়। কিন্তু ভাংঙ্গন পরবর্তী সময়ে এসব রক্ষায় তাদের কোন ভ’মিকা নেই। তবে এসব অভিযোগ জেলার পানি উন্নয়ন বোর্ড অস্বীকার করেছে।

সর্বশেষ সংবাদ