স্কুলছাত্রীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ, পরিবারকে অবরুদ্ধ রাখা হয় ৬ দিন!

রংপুরের গঙ্গাচড়ায় নবম শ্রেণির এক ছাত্রীকে মধ্যরাতে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক যুবকের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় মামলা করলে মেয়েটিসহ পুরো পরিবারকে হত্যার হুমকি দিয়ে তাদের ছয় দিন বাড়িতে অবরুদ্ধ করে রাখে অভিযুক্ত ধর্ষক ও তার ক্যাডাররা। স্থানীয়দের সহায়তায় মুক্ত হয়ে স্কুলছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে গঙ্গাচড়া মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছেন। তবে এখন কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। গঙ্গাচড়া থানার ওসি সুশান্ত কুমার সরকার অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

স্কুলছাত্রীর পরিবার ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, গঙ্গাচড়া উপজেলার উমর গ্রামের রুহুল কুদ্দুসের ছেলে আলা আমিন (২৭)  কয়েক মাস ধরেই পার্শ্ববর্তী এলাকার ওই স্কুলছাত্রীকে প্রাইভেট পড়তে যাওয়া-আসার সময় উত্ত্যক্ত করতো। প্রায় ১০ দিন আগে আল আমিন ওই কিশোরীকে অনৈতিক কাজের প্রস্তাব দেয়। সারা না পেয়ে সে তাকে উঠিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করে।

গত ১৮ নভেম্বর মধ্য রাতে কিশোরীটি টয়লেটে যাওয়ার জন্য ঘরের বাইরে এলে আগে থেকেই ওঁত পেতে থাকা আল আমিন তার কয়েকজন সঙ্গীসহ ওই কিশোরীর মুখ চেপে ধরে তুলে নিয়ে যায়। আল আমিন তার ঘরে নিয়ে মেয়েটিকে ধর্ষণ করে। একপর্যায়ে সে অজ্ঞান হয়ে পড়লে ধর্ষক ও তার সঙ্গীরা পালিয়ে যায়।

পরেরদিন সকালে মেয়েকে বাড়িতে দেখতে না পেয়ে তার পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে আল আমিনের ঘর থেকে অজ্ঞান অবস্থায় তাকে উদ্ধার করেন। কিন্তু ঘটনার পর থেকে আল আমিন তার ক্যাডার বাহিনী দিয়ে তাদের বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখে। পরিবারের কেউ যাতে বাড়ি থেকে বের হতে না পারে ও থানায় অভিযোগ করতে না পারে সে  জন্য নানাভাবে হুমকি দিতে থাকে।

অবশেষে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় স্কুলছাত্রীর বাবা মঙ্গলবার (২৪ নভেম্বর) রাতে গঙ্গাচড়া থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। পরে পুলিশ স্কুলছাত্রীকে তার বাড়ি থেকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভর্তি করেছে।

পুলিশ জানায়, ভিকটিমের ডিএন নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার তার মেডিক্যাল পরীক্ষা করা হবে।

এ ব্যাপারে গঙ্গাচড়া মডেল থানার ওসি সুশান্ত কুমার সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে বুধবার রাত ১১ টার দিকে তিনি জানান, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। আসামিকে গ্রেফতারে জোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

সর্বশেষ সংবাদ